কলকাতা

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

কলকাতা সামলাচ্ছেন শ্বশুর, সুন্দরবন দৌড়চ্ছেন জামাই

কলকাতা সামলাচ্ছেন শ্বশুর, সুন্দরবন দৌড়চ্ছেন জামাই

শ্বশুরমশাইয়ের পাশে বসেই সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের খোঁজ নিচ্ছেন ফিরহাদের জামাই ইয়াসির হায়দার। নিজের উদ্যোগে ত্রাণ জোগাড় করে ঘুরে এসেছেন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম গুলোয়।

  • Share this:

#কলকাতা: শ্বশুরমশাই কলকাতা সামলাচ্ছেন। জামাই দৌড়চ্ছেন গ্রাম বাংলায়। বিধ্বস্ত মহানগরীকে চেনা ছন্দে ফেরাতে রাতদিন এক করেছেন ফিরহাদ হাকিম। আর তাঁর জামাই ইয়াসির নিজের উদ্যোগেই দায়িত্ব নিয়েছেন সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের রাঙ্গাবেরিয়া, সাতেরকোনা অঞ্চলের।

সুপার সাইক্লোন আমফানের তান্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে সুন্দরবনের গোসাবা অঞ্চল। লকডাউনের জন্য এমনিতেই মানুষের কাজ নেই। তার ওপর ভিটে-মাটি কেড়ে নিয়েছে সুপার সাইক্লোন আমফান। সব হারিয়ে পথে বসেছে দিন আনা, দিন খাওয়া মানুষগুলো। গোসাবার রাঙাবেরিয়া, সাতেরকোনায় অবস্থা যেন আরও ভয়াবহ। নোনা জল বাসস্থানের সঙ্গে গিলে নিয়েছে মেহনতী মুখগুলোর জীবিকাও। চাষের জমি নোনা জলের তলায়। মানুষ এখানে বিপন্ন, জীবিকাহীন। চেতলার ৬এ, পিয়ারী মোহন রায় রোডের বাড়িটা বছরের ৩৬৫ দিনই গমগম করে। আসা-যাওয়া লেগে থাকে মানুষজনের। ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে।

একতলার ঘরে বসে শহরের হাল হকিকতের খোঁজ খবরই ডুবে কলকাতার একদা মেয়র বর্তমানে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম। আর শ্বশুর মশাইয়ের পাশে বসেই সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের খোঁজ নিচ্ছেন ফিরহাদের জামাই ইয়াসির হায়দার। নিজের উদ্যোগে ত্রাণ জোগাড় করে ঘুরে এসেছেন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম গুলোয়। রাঙাবেরিয়া, সাতেরকোনায় ভিটেমাটি হারানো অবলম্বনহীন মানুষগুলোর পাশে থাকতে সাহায্য নিয়ে দৌড়ে বেড়িয়েছেন নদী, জল পেরিয়ে। সেখানকার পরিবারগুলোর হাতে তুলে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী, ওষুধ, পানীয় জল, ত্রিপলের মত জরুরী জিনিসপত্র। কথা দিয়ে এসেছেন এভাবেই প্রতি ১৫ দিনে এসে পাশে দাঁড়াবেন ওদের। গোসাবা থেকে ফিরে ইয়াসির বলছিলেন, "মানুষের দুর্দশার শেষ নেই। লকডাউনে জীবিকা বিপন্ন ছিল। আমফানে জীবন বিপর্যস্ত। যদি কিছু করা যায় ওদের জন‍্য! সেই লক্ষ্যেই বারেবারে ছুটে যাওয়া।"

শ্বশুরমশাইয়ের থেকে কোন টিপস পান? লজ্জা মাখা হাসি মুখে ইয়াসিরের উত্তর,"ওনার থেকেই তো শিখেছি। এখনও শিখছি।" কথার মাঝেই ফোন বেজে ওঠে। বুঝতে অসুবিধা হয় না গোসাবা, রাঙাবেরিয়া থেকে সব হারানো মানুষ গুলো তাদের বন্ধু কাম অভিভাবককে বড় নিজের করে নিয়েছে।

PARADIP GHOSH 

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: June 6, 2020, 8:53 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर