করোনা আতঙ্কের মধ্যেই থাইরয়েড ক্যান্সারে জটিল অস্ত্রোপচার, বৃদ্ধকে সুস্থ করলেন চিকিৎসকরা

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই থাইরয়েড ক্যান্সারে জটিল অস্ত্রোপচার, বৃদ্ধকে সুস্থ করলেন চিকিৎসকরা

চার ঘণ্টার অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার সফল হয়। গোটা টিউমারটি অপারেশন করে বাদ দেওয়া হয় ফলে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড এবং শ্বাসনালীর একাংশ নতুন করে প্রতিস্থাপিত করতে হয়।

চার ঘণ্টার অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার সফল হয়। গোটা টিউমারটি অপারেশন করে বাদ দেওয়া হয় ফলে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড এবং শ্বাসনালীর একাংশ নতুন করে প্রতিস্থাপিত করতে হয়।

  • Share this:

ABHIJIT CHANDA

#কলকাতা: নাম পরিমল চন্দ্র বালা। ৬৬ বছর বয়স। উত্তর ২৪ পরগণার এয়ারপোর্ট দুর্গানগর এলাকার বাসিন্দা। গত জানুয়ারি মাস থেকে হঠাৎ করেই কাশি হলে রক্ত বেরতে শুরু করে তাঁর। প্রথমদিকে সে রকম কোনও গুরুত্ব না দিলেও দিন দিন রক্তের পরিমাণ বাড়তে থাকে। মার্চ মাসে লকডাউনের পর থেকেই কাশির সঙ্গে দলা দলা, চাপ চাপ রক্ত বেরোতে থাকে। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকদের দেখালেও কোনওরকম উপশম হয় না। উল্টে খেতে গিয়ে অসুবিধা, কথা বলতেও সমস্যা শুরু হয় পরিমল বাবুর। এরপর বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে গেলেও কোনওরকম চিকিৎসা মেলেনি তাঁর। এ দিকে সমস্যা দিনে দিনে আরও বাড়তে থাকে, খাওয়া, কথাবার্তা বলা এক প্রকার প্রায় বন্ধ হয়ে যায় পরিমল বালার।

অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে কোনও উপায় না দেখে শেষমেষ ইএম বাইপাসের পাশে অ্যাপোলো হাসপাতালে পরিমল বাবুকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার ইএনটি বিশেষজ্ঞ শান্তনু পাঁজা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন ক্যান্সার থাবা বসিয়েছে পরিমল বাবুর শরীরে। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের টিউমার শ্বাসনালী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গিয়েছে। আর কয়েকদিন দেরি করলেই গোটা শ্বাসনালী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারপর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন পরিমল বাবু। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া টিমকে সঙ্গে নিয়ে অকুতোভয় নার্স স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়ে ইএনটি অঙ্কো সার্জনরা অস্ত্রোপচার করেন পরিমল চন্দ্র বালার।

চার ঘণ্টার অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার সফল হয়। গোটা টিউমারটি অপারেশন করে বাদ দেওয়া হয় ফলে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড এবং শ্বাসনালীর একাংশ নতুন করে প্রতিস্থাপিত করতে হয়। অপারেশনের পর ৫ দিন হাসপাতালে থাকেন পরিমল চন্দ্র বালা। এরপর বাড়ি ফেরেন তিনি। এখন সম্পূর্ণ সুস্থ, স্বাভাবিক তিনি। যদিও তাঁর যে ক্যান্সার হয়েছিল সে বিষয়ে কিছুই জানেন না পরিমল বাবু। পরিমল চন্দ্র বালার একটাই কথা, নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে পরিমল বাবুর ছোট ছেলে প্রীতম বালা জানান, "বাবার যে অবস্থা ছিল তাতে আমরা এক প্রকার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। একদিকে করোনা পরিস্থিতি আর তার সঙ্গে আশপাশের মানুষের ভয়-ভীতি সব মিলিয়ে বাবাকে আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনতে পারব তা ভাবতেই পারিনি। চিকিৎসকরা অসাধ্য সাধন করেছেন।"

অ্যাপোলো হাসপাতালের ইএনটি বিশেষজ্ঞ শান্তনু পাঁজা বলেন, 'অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার ছিল ঠিকই, কিন্তু দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে এই বৃদ্ধকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না। যদিও গোটাটাই আমাদের টিম ওয়ার্ক। আগামী দিনে কোন সময় এই সমস্যা আর নতুন করে বিব্রত করবে না এই রোগীকে। এই কঠিন সময়ে আমরা যে এই রোগীকে বাঁচাতে পেরেছি, তাতে সত্যিই খুব আনন্দ হচ্ছে।'

Published by:Simli Raha
First published: