corona virus btn
corona virus btn
Loading

কলকাতায় 'লাশে'র পাহাড়, 'মৃত'কে  'জীবিত' করতে  চিকিৎসকের ভূমিকায় পুরসভা 

কলকাতায় 'লাশে'র পাহাড়, 'মৃত'কে  'জীবিত' করতে  চিকিৎসকের ভূমিকায় পুরসভা 

আমফানের তাণ্ডবে সেই প্রাণ বিপন্ন। কলকাতাজুড়ে হাজার হাজার উপড়ে পড়া গাছেদের বাঁচিয়ে তোলার কাজে নামল পুরসভা।

  • Share this:

#কলকাতা:  মুমূর্ষু রোগীকে যেমন বাঁচিয়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা ঠিক তেমনি গাছেরও নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে নয়া উদ্যোগ।  উপড়ে পড়ে  ফুটপাথে শুয়ে থাকা গাছের পুনরুজ্জীবনের কাজ শুরু হল। একটি গাছ মানেই একটি প্রাণ। আমফানের তাণ্ডবে আজ সেই প্রাণ বিপন্ন।  কলকাতাজুড়ে হাজার হাজার উপড়ে পড়া  গাছেদের বাঁচিয়ে তোলার কাজে নামল পুরসভা।

দক্ষিণ কলকাতার প্রতাপাদিত্য রোডে ঝড়ে পড়ে যাওয়া আম সহ আরও  বেশ কয়েকটি গাছ ফুটপাথে শুয়ে ছিল। সেই সমস্ত গাছকে ফের বসানো হল।  শিকড়ের টানে কি এই সমস্ত ছিন্নমূল গাছ ফের প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে ? উত্তর দেবে সময়ই। শহরজুড়ে গাছেদের লাশ। কখনও ১১০ কখনও ১২০ বা কখনও তারও বেশি।  প্রবল গতিবেগের ঘূর্ণিঝড় সহ্য করতে পারেনি ওরা । ওরা মানে তিলোত্তমাকে যারা সবুজ করে রেখেছিল। সেই সমস্ত শয়ে শয়ে গাছ আজও শুয়ে রয়েছে। ফুটপাথ  কিংবা রাস্তার এক কোণে। অসহায়ের মতো। না,  তবে ওরা এখনও  লাশ হয়ে যায়নি। পাতা থেকে শিকড় কোথাও হয়তো সামান্য প্রাণ এখনও রয়েছে। মাটির সঙ্গে শিকড়ের মেলবন্ধন হলে আবার হয়তো সতেজ হয়ে উঠতে পারে শহরের হাজার হাজার মুমূর্ষু গাছ।

গাছেদের পুনরুজ্জীবনের সেই কাজেই হাত লাগিয়েছে কলকাতা পুরসভা । মাটি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হলেও সামান্য অংশে এখনও মাটি লেগে থাকা এমন গাছেদের  ফের সেই একই জায়গায় বসানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পুরসভা সূত্রের খবর, একটি বিশেষ দল শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে দেখছেন কোন কোন গাছকে নতুন জীবন দেওয়া যায়।  কিন্তু কীভাবে সম্ভব ছিন্নমূল গাছেদের শরীরে আবার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা? ক্রেন ও আর্থ মুভার যন্ত্রের সাহায্যে পুর কর্মীরা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সেই সমস্ত উপড়ে পড়া গাছ বসানোর কাজ করছেন। মাটির গোড়া ভালো করে প্রস্তুত করে গাছেদের শরীরে বিশেষ রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে তা পুনরায় বসানো হচ্ছে। যাতে দ্রুত নতুন ডালপালা সতেজ হয় এবং গাছ যাতে ফাঙ্গাস আক্রান্ত না হয় সে কারণেই গাছেদের শরীরে লাগানো হচ্ছে বিশেষ রাসায়নিক । টালিগঞ্জ অঞ্চলে নজরে এল  এভাবেই গাছেদের পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ।

স্থানীয় সাংসদ মালা রায় বলেন,  'যেভাবে গাছেদের নতুন জীবন দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে তাতে আমরা আশাবাদী এই সমস্ত গাছ আবার ফুল ফল দেবে'। উদ্যানপালন বিভাগের বিশেষ অফিসার চঞ্চল কুমার সরকারের কথায়, ' অতীতে অনেক জায়গাতেই এই ভাবে গাছেদের পুনরুজ্জীবনে নজিরবিহীন সাড়া মিলেছে।  কলকাতাতেও  আমরা সফল হব। তবে গাছ বসিয়েই  কাজ শেষ তা নয়। নিয়মিত পুরসভার জলের ট্যাঙ্কার করে গাছের গোড়ায় জল ও পরিচর্যা করা হবে।  কার্যত 'মৃত'কে 'জীবিত' করতে গাছের ডালপালা নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলি ছেঁটে ফেলে সেই স্থানে বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, 'গাছেদের শরীরের যে সমস্ত অংশে এই ধরনের রাসায়নিক প্রয়োগ করা হচ্ছে সেখান থেকেই নতুন ডালপালা গজাবে' । ঝড়ের তাণ্ডবে পড়ে যাওয়া সব গাছকে হয়তো এভাবে বাঁচানো যাবে না। তবে তার মধ্যে যে কটি গাছকে বাঁচানো যায় সেটাই বর্তমান সময়ে পরিবেশের কথা ভেবে অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। আমফানের জেরে শুধুমাত্র উপড়ে পড়া  গাছেদের পুনরুজ্জীবন ঘটানোই নয় , শহরজুড়ে বনদফতরের  সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে যেখানে যেখানে বেশি পরিমাণ গাছ ঝড়ের ঝাপটায় পড়ে গেছে, নতুন ভাবে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও  নেওয়া হয়েছে সরকারি তরফে।

Published by: Pooja Basu
First published: June 4, 2020, 3:38 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर