corona virus btn
corona virus btn
Loading

পুরসভার মেয়াদ শেষের পর প্রশাসক গোষ্ঠী নিয়োগ, মামলা পৌঁছল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে

পুরসভার মেয়াদ শেষের পর প্রশাসক গোষ্ঠী নিয়োগ, মামলা পৌঁছল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে

বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পিছনে রাজ্যের যুক্তি ছিলো,করোনা অতিমারীর জেরে বর্তমানে নির্বাচন করা সম্ভবপর হয়নি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের কলকাতা পুর নির্বাচন নিয়ে মত বিনিময় হয় ২২ এপ্রিল ২০২০।অতিমারীতে গৃহবন্দী শহরবাসী। সরকারি কর্মচারী, পুলিশ সবাই ব্যস্ত লকডাউনে জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দিতে। এইরকম অবস্থায় কোনওভাবেই নির্বাচন করা সম্ভব নয়, তাই পরিস্থিতি প্রয়োজনে প্রশাসক সিদ্ধান্ত।

  • Share this:

#কলকাতা: প্রশাসক গোষ্ঠী মামলা পৌঁছল হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে।হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে মেয়াদ উত্তীর্ণ কলকাতা পুরসভার দায় দায়িত্ব গিয়েছে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাঁধে। ৮ মে থেকে কলকাতা পুরসভা চালাচ্ছে ফিরহাদের কেয়ারটেকার বোর্ড। বৃহস্পতিবার ভিডিও শুনানির পর অন্তর্বতী নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার জানান, আপাতত ১ মাস কলকাতা পুরসভার কাজ দেখভাল করবে রাজ্য নিযুক্ত বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। কেয়ারটেকার ভূমিকা থাকবে বোর্ডের।

৬ মে রাজ্যের পুর এবং নগর উন্নয়ন দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কলকাতা পুরসভার প্রশাসক নিযুক্ত হন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ প্রশাসক গোষ্ঠীর আগে শুধু 'কেয়ারটেকার' শব্দটি জুড়ে দিয়েছেন। কলকাতা পুর এলাকার নাগরিক পরিষেবা করোনা পরিস্থিতিতে অব্যহত রাখতে ১ মাসের কেয়ারটেকার বোর্ডকে দায়িত্ব দেয় আদালত। কলকাতা পুরসভার কাজ পরিচালনা করবে। হাইকোর্টের এই অন্তর্বতী আদেশে অসন্তুষ্ট মামলাকারী শরদ কুমার সিং। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল মামলা করেছেন তিনি।

দ্রুত আপিল মামলার শুনানি চাওয়া হয়েছে। সোমবার ভিডিও কনফারেন্সে শুনানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মামলাকারী আইনজীবী বিকাশ সিং এবং ব্রজেশ ঝা জানান,  " সংবিধান যেখানে বলেছে ৫বছরের একদিনও বেশি পুরবোর্ড থাকবে না, সেখানে কলকাতা পুরসভায় একই বোর্ড নাম বদলে ক্ষমতায় থেকে যাবে কীভাবে? আমরা ডিভিশন বেঞ্চে আমাদের আইনি যুক্তি তুলে ধরবো।"

২০১৫ সালের নির্বাচনের পর কলকাতা পুরসভায় ৮মে  প্রথম বৈঠক হয়। সেই অর্থে ৭মে ২০২০ মেয়াদ শেষ হয় বর্তমান পুরবোর্ডের। মেয়র, মেয়র পারিষদদেরও মেয়াদ শেষ হয় ওইদিন। রাজ্যে সবথেকে বেশি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা  কলকাতা থেকে। তাই জরুরি পরিষেবা অব্যহত রাখতে বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। ৬ মে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য। সেই বিজ্ঞপ্তি কলকাতা পুর আইনের পরিপন্থী দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টে প্রথমে মামলা করেন উত্তর কলকাতার অরবিন্দ সরণির শরদকুমার সিং।  বিজেপি সমর্থক শরদ কুমার সিং রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি খারিজের আবেদনে জানান যে, তিনি কলকাতা পুরসভার একজন করদাতা। রাজ্যের এমন সিদ্ধান্ত তাঁকে আহত করেছে। সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে তাই শরদ কুমার সিং লড়াই নিয়ে গেছেন ডিভিশন বেঞ্চে।

বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পিছনে রাজ্যের যুক্তি ছিল,করোনা অতিমারীর জেরে বর্তমানে নির্বাচন করা সম্ভবপর হয়নি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের কলকাতা পুর নির্বাচন নিয়ে মত বিনিময় হয় ২২ এপ্রিল ২০২০।অতিমারীতে গৃহবন্দী শহরবাসী। সরকারি কর্মচারী, পুলিশ সবাই ব্যস্ত লকডাউনে জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দিতে। এইরকম অবস্থায় কোনওভাবেই নির্বাচন করা সম্ভব নয়, তাই পরিস্থিতি প্রয়োজনে প্রশাসক সিদ্ধান্ত।  সংবিধানের ২৪৩ ইউ ধারায় পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে পুরবোর্ডের মেয়াদ ৫ বছরের বেশি একদিনও নয়। বর্তমান পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নামে ফের তাদের কাজ পরিচালনা করা আইন বিরুদ্ধ কাজ। কলকাতা পুরনিগম আইন ১৯৮০ এর ৬৩৪ নং ধারার ভুল ব্যাখা করেছে রাজ্য। আইনি যুক্তি সাজিয়ে লড়াইয়ে কোমর বাঁধছে রাজ্য বিজেপি। ইতিমধ্যেই রাজ্যপালের কাছে নালিশ ঠুকে এসেছে গেরুয়া শিবির।

Arnab Hazra

Published by: Bangla Editor
First published: May 10, 2020, 1:09 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर