গাড়ির স্টিয়ারিং ধরলেন কনে, স্বামীকে পাশে বসিয়ে রওনা দিলেন শ্বশুরবাড়ির পথে!

গাড়ির স্টিয়ারিং ধরলেন কনে, স্বামীকে পাশে বসিয়ে রওনা দিলেন শ্বশুরবাড়ির পথে!

গাড়ির স্টিয়ারিং ধরলেন কনে, স্বামীকে পাশে বসিয়ে রওনা দিলেন শ্বশুরবাড়ির পথে!

কলকাতার বিয়েবাড়িগুলিতে মাঝে মাঝেই নানা দৃশ্য চোখে পড়ে। ছক ভেঙে একদম অন্য পথে হাঁটতে দেখা যায় বর-কনে বা তাঁদের পরিবারকে।

  • Share this:

#কলকাতা: কনে বিদায়। জন্মের পর থেকে যে বাপের বাড়িতে নানা স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, সেখান থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্ত বরাবরই বড় দুঃখের। মন না চাইলেও এক নতুন অচেনা পৃথিবীতে প্রবেশ করতে হয়। বাপের বাড়ি ছেড়ে শ্বশুর বাড়ি যেতে হয়। চোখের জলে ঘরের মেয়েকে বিদায় দেন বাপের বাড়ির লোকজন। সাধারণত বিয়ে বাড়ির শেষে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে। এক্ষেত্রে কনেকে ও তাঁর বাড়ির সদস্যদের সামলে, শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব থাকে স্বামীর কাঁধে। তবে শহর কলকাতার এক বিয়ে বাড়িতে একটু অন্যরকম দৃশ্য চোখে পড়ল। এখানে গাড়ির স্টিয়ারিং ধরলেন এক কনে। স্বামীকে পাশের সিটে বসিয়ে রওনা দিলেন শ্বশুরবাড়ির পথে।

কলকাতার বিয়েবাড়িগুলিতে মাঝে মাঝেই নানা দৃশ্য চোখে পড়ে। ছক ভেঙে একদম অন্য পথে হাঁটতে দেখা যায় বর-কনে বা তাঁদের পরিবারকে। এবার খানিকটা সেই পথেই পা বাড়াল নব বধূ স্নেহা সিংঘি (Sneha Singhi)। শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে চালকের আসনে তিনি স্বয়ং। বর সৌগতকে (Saugata Upadhaya) পাশে বসিয়ে নিজেই ধরলেন গাড়ির স্টিয়ারিং আর বাপের বাড়ির পথ থেকে রওনা দিলেন শ্বশুরবাড়ির পথে। ২৮ বছর বয়সী যুবতির এই 'প্রথাভাঙা' কাজ সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। স্নেহার এই রকম উদ্যোগে অনেকেই তাঁর প্রশংসা করেছেন।

সম্প্রতি নিজের Instagram অ্যাকাউন্টে এই গাড়ি চালানোর ভিডিও শেয়ার করেছেন স্নেহা। ভিডিওটি শেয়ার করে স্নেহা জানান, সত্যিই এ এক দারুণ অভিজ্ঞতা। বিষয়টি উপভোগ করেছেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্নেহার শ্বশুর একটু চিন্তিত। তবে স্বামী সৌগত বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলে ওঠেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই। স্নেহা সব সামলে নেবে।

Times Now-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্নেহা জানান, এভাবে ড্রাইভ করে বরকে পাশে বসিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা অনেকদিন আগেই করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে মাসখানেক আগেই নবদম্পতির মধ্যে কথা হয়ে যায়। তবে বিয়ে এগিয়ে আসতেই বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, এক সময়ে সব পরিকল্পনার কথা ভুলে গাড়িতে যাত্রীর আসনে বসে পড়েছিলাম। এমন সময় আমার স্বামী গাড়ি চালানোর কথা মনে করিয়ে দেন। তবে শেষমেশ পরিকল্পনা মতোই সবকিছু হয়েছে।

স্নেহা আরও জানান, বিয়ের দিন পরিস্থিতি অন্য রকম ছিল। এক দিকে ভারী লেহেঙ্গা আর হিল আর অন্য দিকে ফুল দিয়ে সাজানো পুরো বনেট। তাই গাড়ি চালানো নিয়ে প্রথমে একটু সংশয় ছিল। তবে গাড়ি চালাতে জানতেন। তাই খুব একটা অসুবিধা হয়নি। তাছাড়া বরকে পাশে বসিয়ে শ্বশুরবাড়ির পথে ড্রাইভ করার কথা দিয়েছিলেন। সেটাও রাখতে হত। এই কথা বলতে বলতে নিজেদের প্রথম ডেটের কথা মনে পড়ে যায় নব দম্পতির। জানা যায়, প্রথম ডেটেও গাড়ি চালিয়ে প্রেমিককে বাড়ি ছেড়ে দিয়েছিলেন স্নেহা। এবার একটু অন্য ভাবে জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।

Published by:Pooja Basu
First published: