দেশের মধ্যে সবথেকে পরিষ্কার বিমানবন্দরের শিরোপা দখল করল কলকাতা বিমানবন্দর

দেশের মধ্যে সবথেকে পরিষ্কার বিমানবন্দরের শিরোপা দখল করল কলকাতা বিমানবন্দর
File Photo

৪৩টি এয়ারপোর্টের মধ্যে কলকাতা এবার প্রথম স্থান দখল করেছে। চেন্নাই ও উদয়পুর যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান পেয়েছে ৷

  • Share this:

#কলকাতা: কলকাতা বিমানবন্দরের মুকুটে নতুন পালক ৷ ২০১৯ সালে কলকাতা এয়ারপোর্ট দেশের মধ্যে সব থেকে পরিষ্কার এয়ারপোর্টের শিরোপা দখল করেছে। অসামরিক বিমান চলাচলে স্বচ্ছতা পুরস্কার -  সব থেকে পরিষ্কার এবং যাত্রী সুরক্ষায় সব থেকে এগিয়ে থাকা বিমানবন্দরকে দেওয়া হয়, তা এবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দখলে।

৪৩টি বৃহৎ রাজ্য এয়ারপোর্ট এর মধ্যে কলকাতা এবার প্রথম স্থান দখল করেছে। চেন্নাই ও উদয়পুর যথাক্রমে এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান পেয়েছে। ভারতবর্ষে অধিকাংশ এয়ারপোর্ট-ই AAI দ্বারা পরিচালিত। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং কোচি প্রাইভেট বিমানবন্দরের তালিকায়  পড়ে। কলকাতা বিমানবন্দরে প্রতি বছর যাত্রী সংখ্যা আনুমানিক ৫০ লক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা বিমানবন্দরে যাত্রীদের মধ্যে বিমানবন্দরের পরিকাঠামো, পরিছন্নতা এবং প্রধানত বিমানবন্দরের শৌচালয়ের ব্যবস্থা নিয়ে প্রচুর অভিযোগ ছিল। তাছাড়া বিমানবন্দর থেকে বাইরে বেরোনো মাত্রই, অত্যাধিক ট্রাফিকের জন্য যাত্রীদের নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। যাত্রীদের অভিযোগের উপর ভিত্তি করে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অনেকদিন আগেই প্রাইভেট কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তার ফলস্বরূপ বিমানবন্দরে পরিকাঠামোগত উন্নতি চোখে পড়লেও তা যাত্রীদের মনে সেরকমভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। সেই জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং তাতে কলকাতা বিমানবন্দরের চেহারাটাই পাল্টে যায়।

সমস্ত শৌচালয়কে নতুন সামগ্রী দিয়ে গড়ে তোলা হয় এবং প্রতি ঘণ্টায় শৌচালয় পরিষ্কার করা এবং তা পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শৌচালয়ের বাইরে ‘স্মাইলি’ মেশিন বসানো হয় এবং কর্তৃপক্ষ তাতে যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেন। এর ফলে যাত্রীদের প্রতিক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আসে, অভিযোগের সংখ্যা কমতে থাকে এবং শৌচালয় সম্পর্কে প্রশংসাসূচক প্রতিক্রিয়াও আসতে থাকে। 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জমা পড়া অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে সেই অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এই আমূল পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। বিমানবন্দর ডিরেক্টর কৌশিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে, "রানওয়েতে অতিরিক্ত ঘাস কাটার জন্য নতুন মেশিন কেনা হয়েছে, এবং রানওয়েতে রোজ রবার ডিপোজিট পরিষ্কার করা হয় ৷ যাতে ল্যান্ডিং স্ট্রিপে ঘর্ষণের মাত্রা সঠিক বজায় থাকে। "

এছাড়া আরও কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ - যেমন সিঙ্গেল ইউজড প্লাস্টিক-এর ব্যবহার বিমানবন্দরে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা, প্লাস্টিক বোতল ক্রাশিং মেশিন বসানো, এবং কার্বন অ্যাক্রিডিটেশন প্রোগ্রামে দ্বিতীয় স্থান লাভ করা এই শিরোপা দখল করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও, বিমানবন্দরের বাইরের ট্রাফিক ব্যবস্থার এখনও সেরকমভাবে উন্নতি হয়নি ৷ বিভিন্ন অবৈধ পার্কিং, ট্যাক্সি, উবের ও ওলা স্ট্যান্ডের গাড়ির সংখ্যা নিত্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থা-কে এখনও সম্পূর্ণ আয়ত্তে আনা যায়নি। তবে আশা করা যায়, শীঘ্রই পরিকাঠামোগত উন্নতির দ্বারা অত্যাধিক ট্রাফিক জ্যামেরও সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে।

Shalini Datta

First published: February 24, 2020, 8:51 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर