• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • ১১৬ বছরের খিদিরপুরের দত্ত বাড়ির দুর্গা পুজো

১১৬ বছরের খিদিরপুরের দত্ত বাড়ির দুর্গা পুজো

জমিদারি তকমা নেই। বাণিজ্যেই পারিবারিক শ্রীবৃদ্ধি। ১১৬ বছর আগে ব্যবসায়ী যদুনাথ দত্ত শুরু করেন পুজো। সেই থেকে দুর্গার

জমিদারি তকমা নেই। বাণিজ্যেই পারিবারিক শ্রীবৃদ্ধি। ১১৬ বছর আগে ব্যবসায়ী যদুনাথ দত্ত শুরু করেন পুজো। সেই থেকে দুর্গার

জমিদারি তকমা নেই। বাণিজ্যেই পারিবারিক শ্রীবৃদ্ধি। ১১৬ বছর আগে ব্যবসায়ী যদুনাথ দত্ত শুরু করেন পুজো। সেই থেকে দুর্গার

  • Share this:

    #কলকাতা: জমিদারি তকমা নেই। বাণিজ্যেই পারিবারিক শ্রীবৃদ্ধি। ১১৬ বছর আগে ব্যবসায়ী যদুনাথ দত্ত শুরু করেন পুজো। সেই থেকে দুর্গার আরাধনা খিদিরপুরের দত্ত পরিবারে। কালের নিয়মে ভেঙেছে যৌথ পরিবার। বিশাল দত্তবাড়ির বেশিরভাগটাই ভেঙে আজ ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে। তবু ঠাকুরদালান আজও অটুট। পুজো ঘিরে পারিবারিক মিলনমেলায় মেতে ওঠে দত্ত পরিবারের আট থেকে আশি।

    বনেদিয়ানা ভেঙে পড়ছে। বিশাল বাড়ির বেশির ভাগ অংশই ভিন্ন। শরিকে শরিকে ভাগ বাটোয়ারা, এখন ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে বিচ্ছিন্ন। বাকি অংশ ইন্ট্যাক্ট। সেই পুরানো ঘরানায়। সেইখানেই পালন করা হয় ১১৬ বছরের দুর্গা আরাধনা। বছরের এই কটা দিন ফ্ল্যাটের ঘুপচি ভেঙ্গে বেড়িয়ে আসেন খিদিরপুরের দত্তরা।

    রাজকীয় রীতি নীতি নেই। নেই জমিদারি মেজাজও। তবু ঐতিহ্য , বনেদিয়ানা, পারিবারিক রীতিনীতিতে পুরনো সেই দিনের গন্ধ খিদিরপুরের দত্ত বাড়িতে।

    যদু নিকেতন। ৪বি, গঙ্গাধর ব্যানার্জি লেন । খিদিরপুরের বিশাল বাড়িটা আজ টুকরো টুকরো ভাগে বিভক্ত। অন্ন ভেন্ন হলেও হৃদয় আজও এক। প্রতি বছর দুর্গা পুজো ঘিরে জমে ওঠে খিদিরপুরের দত্ত বাড়ি।

    ঠাকুরদালানে এখন সাজ সাজ রব। তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। নতুন রঙের পোচে চারদিক উজ্জ্বল। সকলে ব্যস্ত পুজো প্রস্তুতিতে। পরিস্কার করা হচ্ছে দুর্গার অস্ত্রশস্ত্র। জন্মষ্টমীতে কাঠামো পুজো দিয়ে শুরু। পঞ্চমীতে দেবীর বোধন। সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নানের পর অধিষ্ঠাত্রী লক্ষ্মীর বিশেষ পুজো । দত্ত বাড়ির নিয়মনিষ্ঠায় খামতি নেই।

    আগে অন্ন ভোগ হত। এখন ফল, মিষ্টির নৈবেদ্য। বন্ধ বলিও। দত্ত পরিবারের পুজোর হোম দেখতে আজও ভিড় হয় বাড়িতে। দ্বিতীয়ার দিন বাড়ি মেয়ে, বউরা চল্লিশটি নারকেল কুড়ে তৈরি করেন নাড়ু। আছে দুর্গাকে অর্ঘ্য দেওয়ার নিয়ম।

    দশমীর আলাদা কোনও নিয়ম নেই। বরণ, সিঁদুর খেলা, বিসর্জন। বাড়ি ফিরে ঠাকুরমশাই-এর কাছে শান্তি জল নেওয়া। তবে পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করে থাকেন তার পরের মূহূর্তের জন্য। বিজয়া স্পেশাল বোঁদে আর ঘুঘনির জন্য।

    এক গা ঝলমলে গয়না, পায়ে আলতা, বাংলা স্টাইলে শাড়ি । দত্ত পরিবারের মহিলাদের পুজোর মাস্ট সাজ। পুরুষরা পড়েন ধুতি। অনেক কিছু বদলালেও, বদল হয়নি পুজো সাজের। বছরভর আমি-তুমির সংসার হলেও, পুজোর কদিন সকলে এক। তখন দত্ত বাড়ির পুজোর গন্ধে কোথায় যেন মিশে যায় এক চিলতে পুরনো কলকাতা।

    রিপোর্ট: মোনালিসা রায়    

    First published: