Home /News /kolkata /
Kolkata News|| বাধা হল না কাঁটাতার, বাংলাদেশি যুবককে প্রাণে বাঁচাল এ পারের 'বন্ধু'! অবিশ্বাস্য ঘটনা

Kolkata News|| বাধা হল না কাঁটাতার, বাংলাদেশি যুবককে প্রাণে বাঁচাল এ পারের 'বন্ধু'! অবিশ্বাস্য ঘটনা

Kolkata News: ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী যে কোনও কেউ স্টেম সেল দাতা হতে পারেন। দাতা হিসেবে রেজিস্ট্রেশনের বয়সের সীমা ৫০ হলেও ৬০ বছর পর্যন্ত স্টেম সেল দান করা যেতে পারে। অ্যাস্থমা বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলে স্টেম সেল দান সম্ভব নয়।

  • Share this:

#কলকাতা: অতনু কিশোর দুয়ারী, ২২ বছর বয়স। বাংলাদেশের বরিশাল ডিভিশনের কাঁঠালিয়া ঝালকাঠি জেলায় বাড়ি। ৯ বছর আগে নবম শ্রেণির পড়ুয়া অতনুর তীব্র পেট ব্যথা, জ্বর ও ঘামের সমস্যা কমছিল না। স্থানীয় চিকিৎসককে দেখালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে রক্তের ক্যানসার। বাংলাদেশেই দেওয়া হয় কেমোথেরাপি। কিছুদিন শরীর ঠিক থাকার পর আবার ২০১৭ সালে আবারো রোগ মাথাচাড়া দেয়। শেষ চেষ্টা করতে ছুটে আসেন রাজারহাটের টাটা ক্যান্সার হাসপাতালে। এখানে চিকিৎসকরা জানান, দ্বিতীয়বার ক্যান্সার ফেরায় স্টেমসেল প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনও আশা নেই।

স্টেম সেল থেরাপি কি?

সন্তান জন্মানোর পর মায়ের শরীর থেকে যে প্ল্যাসেন্টা বেরিয়ে আসে, তার মধ্যে রয়েছে স্টেম সেল। বিজ্ঞানীরা এখান থেকে কোষ নিয়ে তাকে পরিণত করেন স্মার্ট কোষে। এমন ভাবে প্রোগ্রামিং করা হয় যে, সেই কোষ যে শরীরে যাবে, সেই শরীরের প্রয়োজন বুঝে, ঠিক তার মাপ মতো ওষুধ তথা প্রোটিন নিঃসরণ করবে।

কারা দিতে পারবে?

১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী যে কোনও কেউ স্টেম সেল দাতা হতে পারেন। দাতা হিসেবে রেজিস্ট্রেশনের বয়সের সীমা ৫০ হলেও ৬০ বছর পর্যন্ত স্টেম সেল দান করা যেতে পারে। অ্যাস্থমা বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলে স্টেম সেল দান সম্ভব নয়। স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হলে প্রথমে রোগীর নিজের ভাই, বোন বা পরিবারের কারও এইচএলএ মিলিয়ে দেখা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এইচএলএ ম্যাচ করার সম্ভাবনা মাত্র ২৫ শতাংশ। তাই দাতার উপর নির্ভর করতেই হয়। যে কোনও দেশের যে কোনও কারও সঙ্গেই আমাদের এইচএলএ স্ট্রাকচার ম্যাচ করতে পারে।

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীর মৃত্যু, মৃত ব্যক্তির গলায় দাগ, ঘনিয়েছে রহস্য

যদিও অতনুর স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও প্রথমে ঘটে বিপত্তি। অতনুর পরিবারের কারোর সঙ্গেই স্টেম সেল ম্যাচ না করায় শেষমেষ কেরলের কুন্নুরের বাসিন্দা ২৪ বছরের এক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী কিশোরকে, যিনি ২০১৭ সালেই স্টেম সেল দান করার জন্য রেজিস্ট্রি করেছিল, তার সঙ্গে ম্যাচ হওয়ার পরই কিশোর কলকাতার রাজারহাটে এসে টাটা ক্যান্সার হাসপাতালে কয়েক ঘন্টার প্রক্রিয়ায় স্টেম সেল দান করে বাংলাদেশের অতনু কিশোরের প্রাণ রক্ষা করেন।

রাজারহাটের টাটা ক্যান্সার হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক হেমাটো-অঙ্কোলজি এবং সেলুলার থেরাপি বিভাগের চিকিৎসক রঘু কে এস জানান, দ্বিতীয়বার ক্যানসার ফেরায় অতনুর স্টেম সেল প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনও আশা ছিল না। এ দিক অতনুর পরিবারের কারোর স্টেম সেল না মেলায় ওরা মানসিক ভাবে খুব ভেঙে পড়েছিল। বেশ কিছুদিন বাদে কেরালার এক যুবকের সঙ্গে ম্যাচ করায় আমরা সেই স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করে অতনুকে সুস্থ করে তুলি।’

আরও পড়ুন: বল ভেবে হাতে তুলে নিতেই ঘটল সাঙ্ঘাতিক কাণ্ড! মালদহে ব্যাপক চাঞ্চল্য

২০১৭ সালেই নিজের তথ্য প্রযুক্তি অফিসে আয়োজিত স্টেম সেল দান কর্মসূচিতে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন সেখানকার কর্মী কিশোরকে। কিন্তু জানতেন না, কবে তাঁর স্টেম সেল অন্যের প্রাণ ফেরাতে কাজে লাগবে। আর সেই স্টেম সেল দিয়ে অন্যের প্রাণ বাঁচিয়ে আপ্লুত কিশোর। কিশোর জানান,' প্রথম দিকে ভাবতাম, আমার স্টেম সেল হয়তো কারোর কোনো কাজেই লাগবে না। হঠাৎই এক বছর বাদে সেই সুযোগ এসেছিল। রাজারহাটের টাটা ক্যান্সার হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টার প্রক্রিয়ায় স্টেম সেল দান করি। তবে কাকে দিয়েছিলাম, তা জানতাম না। আজ ৫ বছর বাদে আমার নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়ে আমার সত্যিই খুব ভাল লাগছে। আমি চাই, প্রত্যেকে আমার মতো এগিয়ে আসুক, অন্যকে বাঁচানোর যে আনন্দ, তার কোনও তুলনা হয় না।' কাকতলীয় হলেও নিজের নামের সঙ্গে ম্যাচিং হওয়া অজানা, অচেনা অন্য এক যুবকের জীবন বাঁচিয়ে আরও বহু মানুষকে এই স্টেমসেল দানের উপকারিতা বোঝাচ্ছেন কেরালার কুন্নুরের বাসিন্দা কিশোরকে।

রক্তের ক্যানসারের রোগীদের জন্য স্টেমসেল প্রতিস্থাপনই বাঁচার অন্যতম চাবিকাঠি। কিন্তু ম্যাচিং স্টেম সেল দাতা খুঁজে পাওয়া সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো। আর কেরালার যুবকের স্টেম সেলে সুস্থ হয়ে নবজন্ম পেয়ে কৃতজ্ঞতার কোনো ভাষা নেই বাংলাদেশের অতনুর এবং তার মায়ের। নবজন্ম পাওয়া অতনু কিশোর দুয়ারী বলেন, "আমার কৃতজ্ঞতা জানানোর কোনও ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। কেরালার এই কিশোর সত্যি আমার শরীরে ভর করবে। ওর জন্যই আমি আবার পৃথিবীর রূপ, রস, গন্ধ উপভোগ করতে পারছি। আমিও চাই, সবাই এগিয়ে আসুক এই স্টেম সেল দানে।" আর অতনুর মা মাধবী দুয়ারী চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, "৫ বছর আগেও জানতাম না, কে আমার ছেলেকে বাঁচিয়েছিল। এতদিন ধরে আমি চেয়ে থাকতাম আমার আর এক ছেলের অপেক্ষায়। আজ কিশোরকে দেখে আমি বুঝতে পারছি, ও আমারই আর একটা ছেলে। ওর মতন সবাই এগিয়ে আসলে আর কোনও মায়ের কোল খালি হবে না। প্রত্যেকে যেন স্টেম সেল দান করে।"

আমাদের দেশে প্রতি পাঁচ মিনিটে এক জনের রক্তের ক্যানসার ও রক্তের অন্য রোগ সামনে আসে। এই রোগীদের বাঁচাতে উপযুক্ত দাতার প্রয়োজন। ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিবারের মধ্যে মিললেও, বাকি ক্ষেত্রে অসম্পর্কিত দাতার খোঁজ চালাতে হয়। সে ক্ষেত্রে এই ঘটনা যুগান্তকারী রূপে চিহ্নিত হবে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। টাটা মেডিক্যাল সেন্টারের অধিকর্তা চিকিৎসক মামেন চান্ডি জানাচ্ছেন, ‘‘ম্যাচিং দাতার অভাবে দেশে বিপুল সংখ্যক রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের সুযোগ পান না। তাই ব্লাড স্টেম সেল দানের জন্য মানবিকতার খাতিরে মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। রক্তদান করলে যেমন কোনও ক্ষতি হয় না, তেমনই স্টেম সেল দানেও দাতার সমস্যা হয় না। জিনগত বৈশিষ্ট্যের (এইচএলএ বা হিউম্যান লিউকোসাইট অ্যান্টিজেন) মিল থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।"

AVIJIT CHANDA

Published by:Shubhagata Dey
First published:

Tags: Kolkata

পরবর্তী খবর