কামদুনি গণধর্ষণ কাণ্ডে বিচারে এত বিলম্ব কেন? হাইকোর্টে প্রশ্ন নির্যাতিতার পরিবারের

কামদুনি গণধর্ষণ কাণ্ডে বিচারে এত বিলম্ব কেন? হাইকোর্টে প্রশ্ন নির্যাতিতার পরিবারের

হাইকোর্টে কেন তিন বছর ঝুলে রয়েছে মামলা? প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে বুধবার সটান হাইকোর্টে হাজির হন নির্যাতিতার পরিবার-পরিজনরা।

  • Share this:

Arnab Hazra

#কলকাতা: কামদুনি গণধর্ষণ কাণ্ডে বিচারে এত বিলম্ব কেন? হাইকোর্টে কেন তিন বছর ঝুলে রয়েছে মামলা? প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে বুধবার সটান হাইকোর্টে হাজির হন নির্যাতিতার পরিবার-পরিজনরা। উপস্থিত ছিলেন কামদুনির সেই প্রতিবাদী শিক্ষক প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন কামদুনির পরিবারের পাশে থাকা আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়।

বুধবার হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল রায় চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা।বেশ কিছুক্ষণ কামদুনি মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। ২০১৩ সালের ৭ই জুন কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে কামদুনি মোড়ের কাছে গণধর্ষণের শিকার হয় স্নাতক স্তরের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। রাজ্য জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সিআইডি তদন্তে ৮ জনকে গ্রেফতার করে। জনরোষে অভিযুক্তরা কোনো আইনজীবী দিতে পারেনি বারাসত আদালতে। হাইকোর্টের নির্দেশে মামলা সরে আসে কলকাতা নগর দায়রা আদালতে। তিন বছর বিচার চলার পর ২০১৬ সালে ছয়জনকে গণধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত করে নগর দায়রা আদালত। তিন দোষীকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য তিন দোষীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। ৩ ফাঁসি সুনিশ্চিতকরণের জন্য হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স মামলা করে রাজ্য সরকার। দোষীরা নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করে ক্রিমিনাল আপিল মামলা করে হাইকোর্টে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে রয়েছে হাইকোর্টে মামলা।

দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের পর দেশজুড়ে গণধর্ষণের আইনে পরিবর্তন হয়। নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীদের ফাঁসির সাজা কার্যকর হতে চলেছে।নির্ভয়া কাণ্ডের পর আমাদের রাজ্যে নতুন গণধর্ষণ আইনে  কামদুনি গণধর্ষণ মামলা। নির্যাতিতার ভাই নিউজ১৮ বাংলাকে জানান," ঘটনার পর ৬ বছর কেটে গেছে এখনো বিচার পেলাম না। অবিলম্বে দোষীদের ফাঁসিতে ঝুলানো হোক। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে হাইকোর্টে এসেছি। "

কামদুনির প্রতিবাদী শিক্ষক  প্রদীপ মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, " কামদুনির গণধর্ষণের ঘটনা সমাজের চোখে লজ্জার। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বরাবর সরব থেকেছি। কামদুনি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলের সঙ্গে দেখা করা। " আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের মতে," বিচার দ্রুত হলে ইন কাউন্টার-এর প্রয়োজন হয় না। " বুধবার রেজিস্ট্রার জেনারেল কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার-পরিজনদের লিখিতভাবে তাদের অভাব অভিযোগ জানাতে বলেছেন। দীর্ঘসূত্রিতার খোলস ছেড়ে এবার বের হবে কামদুনি গণধর্ষণের রায়? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।

৩০শে নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত শুধুমাত্র কলকাতা হাইকোর্টের পরিসংখ্যান বলছে, ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা ২০৭৫২৩। এর মধ্যে দেওয়ানী মামলা ১৬৮৪২২ এবং ফৌজদারি মামলা ৩৯১০১। আবার ফৌজদারি আপিল মামলা ১২২৫০। রাজ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যাটাও বেশ কয়েক লক্ষ।

First published: 08:24:54 PM Dec 11, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर