কামালগাজি বাইপাস সংষ্কারের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ গ্রামবাসীদের    

কামালগাজি বাইপাস সংষ্কারের কাজে দুর্নীতি হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ রাস্তার পাশের গ্রামবাসীদের।

কামালগাজি বাইপাস সংষ্কারের কাজে দুর্নীতি হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ রাস্তার পাশের গ্রামবাসীদের।

  • Share this:

#কলকাতা: কামালগাজি বাইপাস সংষ্কারের কাজে দুর্নীতি হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ রাস্তার পাশের গ্রামবাসীদের। অভিযোগ জানানো হয়েছে কে এম ডি এ'তে। আপাতত বেশ কিছুটা অংশে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। কামালগাজির মোড় থেকে বারুইপুরের পদ্মপুকুর। আদি গঙ্গার দু'পাড় ধরে ৯ কিলোমিটার করে চলছে রাস্তা সংষ্কারের কাজ। আগামী বছরের ২২ মে মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে রাজ্যের নগরায়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ কে এম ডি এ। সন্দীপন প্রামাণিক ইনফ্রা প্রাইভেট লিমিটেড বলে এক ঠিকাদারি সংস্থা এই কাজের বরাত পেয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার হাল এতটাই খারাপ যে প্রতিনিয়ত এখানে দূর্ঘটনা ঘটে। তাই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয় এই রাস্তার দ্রুত মেরামত করা হবে। ইঞ্জিনিয়াররা জানাচ্ছেন এই রাস্তার কাজে প্রধান সমস্যা হল মাটির ধস। যেহেতু পাশেই রয়েছে আদি গঙ্গা। তার জেরে ভারী গাড়ি চলাচল করলেই মাটি ধসে জলে চলে যায়। তাই কাজ করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আদি গঙ্গার পাড় বাঁধানো হবে। সেই কাজ করা হবে শাল বল্গা পাড়ে পোঁতা হবে। তারপর বালির বস্তা দিয়ে প্রোটেকটিভ ওয়াল তৈরি করা হবে। এই কাজের জন্য বলা হয়েছিল প্রায় ৫ মিটার লম্বা শাল বল্গা পোঁতা হবে। গ্রাম বাসীদের অভিযোগ তা ৫ মিটারের বদলে ১ মিটার করে পোঁতা হচ্ছে। যার জেরে রাস্তায় ক্ষয় ফের অবশ্যাম্ভাবী। বেশ কয়েকদিন ধরে মাণিকপুর গ্রামের বাসিন্দারা তা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। এমনকি অভিযোগ জানাতে গিয়ে হুমকির মুখেও তাদের পড়তে হয় বলে অভিযোগ। রাতের অন্ধকারে গাছের বল্গা কাটা হচ্ছে বলে গ্রামবাসীরা জানান। এই অবস্থায় তারা যোগাযোগ করেন কে এম ডি এ আধিকারিকদের সাথে। ঘটনাস্থলে যান কে এম ডি এ এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। হাতে নাতে তিনি ধরে ফেলেন। যদিও ঘটনাস্থল থেকে পালায় ঠিকাদারি সংস্থার কর্মীরা। তার পরেই আপাতত কাজ বন্ধ করে রাখা আছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ রাস্তার অবস্থা ভীষণ খারাপ।

৯ কিমি রাস্তা পেরোতে প্রায় ১ ঘন্টার বেশি সময় লাগে। সেই রাস্তার সংষ্কার যখন করা হচ্ছে তখন কেন চুরি করবে ঠিকাদারি সংস্থা। রাজু লস্কর বলে এক গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, "নেতা, মন্ত্রী সহ অনেকেই তো এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। তাদের নজরে তো সবটাই আসে। আমাদের করের পয়সায় কাজ চলছে। সেখানে ঠিকাদার সংস্থা চুরি করবে কেন? যতদিন না ঠিক হচ্ছে  এই সমস্যা ততদিন আমাদের প্রতিবাদ চলবে। এভাবে দূর্নীতি আমরা মেনে নেব না।" একই অভিযোগ করছেন সরোজ হালদার নামে অপর এক গ্রামবাসী। তার অভিযোগ, "রাতের বেলা অন্ধকারে শাল বল্গাগুলো কেটে সরিয়ে ফেলছে। আমরা কিছু বলতে গেলেই আমাদের ধমকাত। বলত আমরা কিছু জানিনা। এটা চলতে পারে না।" গ্রামবাসীদের এই অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিচ্ছেন না কে এম ডি এ'র আধিকারিকরাও। তাই গ্রামবাসীদের তরফে অভিযোগ পেয়েই তড়িঘড়ি তারা ঘটনাস্থলে যান। কে এম ডি এ'র এক ইঞ্জিনিয়ার জানান, "এভাবে কাজ হয় না। আমরা কিছু শাল বল্গা তুলে পরীক্ষা করেছি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ সঠিক। যে যে জায়গায় এই শাল বল্গা বসানো হয়েছে তা আমরা পরীক্ষা করব।" ইতিমধ্যেই কে এম ডি এ আধিকারিকদের কাছে এই ঠিকাদারি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এই জটিলতার জেরে আপাতত বন্ধ কামালগাজি বাইপাস সংষ্কারের কাজ।

Published by:Akash Misra
First published: