সংবিধান না মেনেই ডিজি-মুখ্য়সচিবকে তলব, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি কল্যাণের

সংবিধান না মেনেই ডিজি-মুখ্য়সচিবকে তলব, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি কল্যাণের

কল্যাণ বব্দ্যোপাধ্যায়৷

রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ, জে পি নাড্ডার কনভয়ে ছিল প্রায় ৫০টির কাছাকাছি বাইক ও গাড়ি ছিল।

  • Share this:

#কলকাতা: জে পি নাড্ডা ইস্যুতে এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে চিঠি দিলেন সাংসদ ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। এ ভাবে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে ডেকে পাঠানো যায় না বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। কেন্দ্র রাজ্যকে যে চিঠি দিয়েছে তা অসাংবিধানিক বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। গোটা বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ৷

প্রসঙ্গত শুক্রবার কেন্দ্রকে পালটা চিঠি দিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব জানিয়েছেন কী কী ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। নিয়ম ভেঙেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান তিনি। ফলে তাঁর যাতায়াতের পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিল। পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। রাজ্যের শাসক দলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জে পি নাড্ডার নিরাপত্তায় ছিলেন ৪ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ৮ জন ডিএসপি, ৮ জন ইন্সপেক্টর, ৩০ জন অফিসার, ৪০ জন র‍্যাফ, ১৪৫ জন কনস্টেবল ও ৩৫০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার।

রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ, জে পি নাড্ডার কনভয়ে ছিল প্রায় ৫০টির কাছাকাছি বাইক ও গাড়ি ছিল। অভিযোগ সেই মিছিল থেকে বিজেপির নেতা রাকেশ সিং  প্ররোচনা দিয়েছিলেন। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের অভিযোগ, "রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ক্রিমিনাল কেস রয়েছে প্রায় ৫৯টি। সে গাড়ির দরজা খুলে নানা অঙ্গভঙ্গি করে।" ফলে রাকেশ সিংয়ের প্ররোচনায় যে গতকাল শিরাকোল ও দোস্তিপুরে অশান্তি শুরু হয় সেদিকে ইঙ্গিত করেন সাংসদ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়৷

ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় ৩টি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে উস্তি ও ফলতা থানা রয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৭ জনকে। অপরদিকে, কেন্দ্র যে ভাবে চিঠি পাঠিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দোপাধ্যায় ও ডিজি বীরেন্দ্রকে ডেকে পাঠিয়েছে তার নিন্দা করেছে দল তৃণমূল কংগ্রেস। কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় পাল্টা চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, "যেভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে তা অসাংবিধানিক। দেশে এমন কোনও আইন নেই যার দ্বারা কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মুখ্যসচিব ও ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে ডেকে পাঠাতে পারে।"

কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের দাবি এই চিঠি আসলে যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোর বিরোধী। কেন বিজেপির নেতা এসে দুষ্কৃতী নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেই প্রশ্ন তুলছে শাসক দল৷ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, "আইন শৃঙ্খলা রাজ্যের এক্তিয়ার ভুক্ত বিষয়। ফলে উত্তর দেওয়ার কোনও জায়গা এখন নেই।" রাজ্যপাল অবশ্য নাড্ডা ইস্যুতে রাজ্যকে আক্রমণ করেছেন। তার জবাব দিতে গিয়ে রাজ্যপালের খবরের উৎস নিয়েই তোপ দেগেছে শাসক দল। পাল্টা কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, "রাজ্যপাল ওয়েট ও ওয়াচ করুন। কোনও অসুবিধা নেই তাতে।" মজার ছলেই তিনি বলেছেন, জগদীপ ধানখড় রাজ্যপাল হবে জানলে আম্বেদকর রাজ্যপাল পোস্ট করতেন না। অন্যদিকে অপর তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় অভিযোগ করেছেন, "তৃণমূল কংগ্রেসের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশিত হয়। আর তা থেকে নজর ঘোরাতেই ওরা এসব করেছে।''

Abir Ghosal

Published by:Debamoy Ghosh
First published:

লেটেস্ট খবর