হলফনামার ভুল কবুল বিচারবিভাগীয় সচিবের, হাইকোর্টে নজিরবিহীন হাজিরা         

হলফনামার ভুল কবুল বিচারবিভাগীয় সচিবের, হাইকোর্টে নজিরবিহীন হাজিরা         

আইনজীবী শ্বাশতগোপাল মুখোপাধ্যায় জানান, ৬ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক-এর সুপারিশ নিয়ে রাজ্যের আপত্তি আছে। 

  • Share this:

# কলকাতা : নজিরবিহীনভাবে রাজ্যের বিচারবিভাগীয় সচিব স্বশরীর হাজিরা দিলেন কলকাতা হাইকোর্টে। কলকাতা হাইকোর্টের ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ে এমন নজির ছিলনা। যা তৈরি হল মঙ্গলবার ।

রাজ্যের বিচারবিভাগীয় সচিবকে   সকাল সাড়ে দশটায় তলব করা হয়েছিল ২৮ নম্বর আদালতকক্ষে। এজলাসে হাজির হয়ে এদিন সচিব হলফনামার ভুল কবুল করে নেন এবং ভবিষ্যতে আরও সচেতন থাকার অঙ্গীকারও করেন। তাই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ হাজিরা মামলাটি এদিনই নিষ্পত্তি করে দিয়েছে।

কেন নজিরবিহীনভাবে বিচার বিভাগীয় সচিবকে তলব করা হয়েছিল ?  রাজ্যে ২৩ টি ডিস্ট্রিক্ট জজ (এন্ট্রি লেভেল) পদ দীর্ঘদিন পূরণ হয়নি। মূলত জুডিশিয়াল সার্ভিস থেকে এবং ১০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে আইনজীবীরা এই পরীক্ষায় বসেন। ডিস্ট্রিক্ট জজ (এন্ট্রি লেভেল) বলতে অতিরিক্ত জেলা জজের পদকে বোঝানো হয়ে থাকে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি দেখভাল করে হাইকোর্ট। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে ১৬ জনের নাম সুপারিশ করে হাইকোর্ট প্রশাসন। তবু আজও কোনও ডিস্ট্রিক্ট জজ (এন্ট্রি লেভেল) নিযুক্ত হননি।

আদালতে বিচারবিভাগীয় সচিব এজলাসে থাকাকালীন মূখ্য সরকারি আইনজীবী শ্বাশতগোপাল মুখোপাধ্যায় জানান, ৬ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক-এর সুপারিশ নিয়ে রাজ্যের আপত্তি আছে। সেকথা হাইকোর্ট প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই জানিয়েও দিয়েছে রাজ্য। ১০ জানুয়ারি রাজ্য জানায় ৭ দিনের মধ্যে আপত্তি নিয়ে হাইকোর্ট প্রশাসনকে আরও বিশদে জানানোর। তবে এখনও নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ঝুলেই রয়েছে।  সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে জল। দীর্ঘদিন এমন শূন্যপদ থাকায় মামলা জমছে রাজ্যজুড়ে। একটি পকসো মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আসা মিজানুর রহমানের মামলাটি এদিনের মত মুলতবি হয়ে যায়। ৬ এপ্রিল মামলাটি শুনানির জন্য আসবে।

গত ১৩জানুয়ারি ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের বিচার বিভাগীয় সচিবের কাছে শূন্যপদ পূরণ না হওয়া নিয়ে হলফনামা তলব করে। ২৩ বিচারকের শূন্যপদ পূরণ অসমাপ্ত থাকার কারণ হিসেবে হলফনামায় দাবি করা বিচারবিভাগীয় সচিবের যুক্তি ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্নের সম্মুখিন হয়। নির্দেশ মতো এদিন তাই নতুন হলফনামা দাখিল করে বিচারবিভাগীয় সচিব। হলফনামা খতিয়ে দেখার পর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশে জানায়, নিয়োগ-প্রক্রিয়ার পুরো বিষয়টি এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

তবে শূন্যপদ জাতে পূরণ হতে পারে তার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। সুষ্ঠু সমাধানের পরামর্শও এদিন দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্য সরকার ও হাইকোর্ট প্রশাসনের সেতু হিসেবে কাজ করে থাকেন বিচারবিভাগীয় সচিব। এমন ঘটনায় বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে হাইকোর্ট পাড়ায়। আইনজীবীরা বলছেন সাম্প্রতিক সময়ে হাইকোর্টের এমন নির্দেশ নজিরবিহীন। এক কথায় এই নির্দেশকে রাজ্য বনাম হাইকোর্ট প্রশাসন হিসেবেই দেখছে তারা।

অর্ণব হাজরা

First published: February 11, 2020, 5:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर