‘দিদিকে আঘাত করে ফেলেছি, ভুল করেছি, ক্ষমা চাইব’, ডিগবাজি জিতেন্দ্রর

‘দিদিকে আঘাত করে ফেলেছি, ভুল করেছি, ক্ষমা চাইব’, ডিগবাজি জিতেন্দ্রর

সকাল থেকে সন্ধে, তার মধ্যেই ভোল বদল ৷ বিক্ষুব্ধের পোশাক বদলে দিদি অনুগামী ৷

সকাল থেকে সন্ধে, তার মধ্যেই ভোল বদল ৷ বিক্ষুব্ধের পোশাক বদলে দিদি অনুগামী ৷

  • Share this:

    #কলকাতা: সকাল থেকে সন্ধে, তার মধ্যেই ভোল বদল ৷ বিক্ষুব্ধের পোশাক বদলে দিদি অনুগামী ৷ বিজেপি বা রাজনৈতিক সন্ন্যাস নয়, তৃণমূলেই থাকছেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি ৷ সন্ধেয় অরূপ রায়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেই জানালেন এই কথা ৷ একইসঙ্গে বলেন, ‘ভুল হয়ে গিয়েছে ৷ আমি দিদিকে আঘাত করে ফেলেছি ৷ দিদিকে আঘাত করলে আমার বাঁচার অধিকারও নেই ৷ ’

    চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল জটে জিতেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যত। পার্টি, পদ সব ছেড়ে যখন প্রশ্ন করা হল এবার কী? তখন উত্তর এল রাজনৈতিক সন্ন্যাস ৷ তার পর মুহূর্তেই চলে যাচ্ছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের কাছে হাজির ইস্তফাপত্র জমা দেওয়া জিতেন ৷ পার্টি, পদ সবতো ছাড়লেন। কিন্তু এবার কী করবেন জীতেন্দ্র তিওয়ারি? এই বলছে রাজনৈতিক সন্যাস নিচ্ছেন, তো পর মুহূর্তেই চলে যাচ্ছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের কাছে? চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল জটে জিতেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যত। বৃহস্পতিবার ইস্তফা দেওয়ার পর আসানসোল থেকে শুক্রবার সকালেই কলকাতায় পৌঁছন সস্ত্রীক জিতেন্দ্র। রাতে সুরুচি সঙ্ঘ ক্লাবে বৈঠক করেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক ৷ বৈঠক শেষে ভুল স্বীকার করে জিতেন্দ্র তিওয়ারির মন্তব্য, ‘দল ছাড়ার কথা বলে ভুল করেছিলাম। আমার সমস্ত মন্তব্য প্রত্যাহার করছি। দলনেত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব। আমি এত বড় নেতা নই যে ওনার সঙ্গে আলোচনায় বসব ৷ শুধু একটাই অনুরোধ আমার ইস্তফাপত্র যেন গ্রহণ না করেন ৷’ রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বিজেপির দরজা না খোলাতেই আসানসোলের মেয়র দলে প্রত্যাবর্তনে মরিয়া ৷ জিতেন্দ্রর বিজেপি যোগের জল্পনা উঠতেই প্রবল আপত্তি জানান  আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় ৷ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই সর্বোচ্চ। আমি এনাদের কারোর বিজেপিতে জয়েন করা আসানসোলে আমি মন থেকে মেনে নিতে পারব না৷’

    বাবুলকে সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়ান রাজ্য বিজেপি সবাপতি দিলীপ ঘোষও ৷ বলেন,  ‘জিতেন তিওয়ারির সঙ্গে বাবুলদার ঝগড়া। জিতেন তার রাইভাল ছিল। এখন তাঁর দলে যোগদানের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, কাজ করতে সমস্যা হতে পারে।’ সায় দেন মহিলা মোর্চা নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল, সায়ন্তন বসু ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ৷

    বিজেপির দরজা বন্ধ হতেই তৃণমূলে এই কথা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে জিতেন্দ্র বলেন, ‘আমি কখনও বিজেপি-তে যাওয়ার কথা বলিনি। তবে দল ছাড়ার কথা বলেছিলাম।’ তাঁর দাবি এখন কোনও ক্ষোভ নেই সব মিটে গিয়েছে ৷ এমনকী গত কয়েকদিন ধরে যে ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে তোপ দেগে চলেছিলেন, তা নিয়ে আসানসোলের মেয়র বলেন, ‘দিদিকে যখন মানি, তখন তার পরিবারের প্রত্যেকেই তো মানতে হবে ৷’ জিতেন্দ্রর ভোল বদল নিয়ে অরূপ রায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘জিতেন্দ্র তিওয়ারি দলে ছিলেন। আছেন। থাকবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপির বিরুদ্ধে শেষ লড়াই লড়বেন। প্রত্যেক পরিবারে সমস্যা থাকে। তাই বলে কেউ মাকে ছেড়ে যায় না।’
    Published by:Elina Datta
    First published:

    লেটেস্ট খবর