এ এক অন্যরকম পুজোর গল্প

ঝাড়গ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৮ কিমি দূরে ৬নং জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মন্দির ।

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Sep 19, 2017 07:21 PM IST
এ এক অন্যরকম পুজোর গল্প
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Sep 19, 2017 07:21 PM IST

#ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৮ কিমি দূরে ৬নং জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মন্দির । যেখানে মন্দির বা দূর্গা মন্ডপ গুলোতে পুজো হয় পুরহিত দিয়ে । এখানে ঠিক উল্টো পুজো করেন শবর সম্প্রদাযয়র মানুষেরা । ৭৪২ বছরের পুরানো এই মন্দির । যেখানে আজও পুজো করেন শবর শম্প্রদায়ের মানুষেরা । যেখানে প্রতিমার জায়গায় পুজো হয় মেঝেতে পাথরের। ১২৭২ সালে নন্দ ভুক্তা নামে শবর শপ্ন দোষে দেবী কে পান । তিনি জঙ্গলে গরু চরাতে গিয়ে একটি গাছের উপর বসে তামাক খাচ্ছিলেন । তার পর বাড়ি ফিরেন তিনি রাতে দেবি স্বপ্ন দেয় ৷ তিনি তার হাতে ভোগ খেতে চান । নন্দ বাবু তার স্ত্রী কে পুরো বিষয়টি জানান ।

পরের দিন ফের নন্দ শবর কে দেবী স্বপ্ন দেন । তিনি তার স্ত্রীর কথামত দেবী কে জিজ্ঞেস করেন তিনি আসলে কে । তখন দেবী তাকে বলেন আমি দেবী ভয় নেই আমি তোর কোন ক্ষতি করব না তুই আমার পুজো কর তোর ও সবার মঙ্গল হবে । নন্দ ভুক্তা বলেন আমার এত সামর্থ নেই ৷ ভোগ দিয়ে পুজো করব তখন দেবী তাকে বলেন তুই আমায় জল তুলসী দিয়ে পুজ দিলেই হবে।তিনি জিগেশে করেন আমি কি করে বুঝবো আপনি কোথায় আছেন । দেবী বলেন য়ে স্থানে একটি শুকনো ডাল পোতা থাকবে।তার পরের দিন সকালে স্নান করে জল তুলসী নিয়ে তিনি জঙ্গলে গেলেন দেখলেন দেবীর কথা অনুযায়ী ঠিক সেই স্থানে একটি গাছ পোতা রয়েছে । তিনি সেই স্থান পরিস্কার করে দেবী কে পুজো করেন ।

ঠিক তার দুদিন পরে ঝাড়গ্রাম মল্লো দেব রাজা কে স্বপ্ন দেন দেবী । বলেন তার পাগল হাতি গাছে বাধা আছে নন্দ ভুক্তার বাডি যেতে বলেন । তড়ি ঘড়ি পরের দিন সকাল বেলায় রাজা তার লোক জন নিয়ে নন্দ ভুক্তার বাড়ি পৌছয় । রাজা ও তার লোক জন দেখে নন্দ বাবু লুকিয়ে যান । তার স্ত্রী কে বলেন যে তিনি বাড়িতে নেই । রাজা পুরো নন্দ বাবু বেরিয়ে আসেন রাজা কে নিয়ে সেই স্থানে গেলে দেখেন পাশের নিম গাছে হাতিটি লতা দিয়ে বাধা রয়েছে । তুলসি জল দিয়ে দেবীকে পুজো করতেই হাতির বাধন খুলে য়ায় ও হাতিটি রাজার সমুখে গিয়ে দাড়ায । রাজা প্রথমে ভয পেয়ে হাতিটির থেকে দূরে সরে য়ান । তখন নন্দ ভুক্তা বলেন রাজা মশাই ভয় নেই আপনার হাতি ঠিক হয়ে গেছে আপনি তার পিঠে করে রাজ প্রসাদ ফিরে যান । নন্দ ভুক্তার কথা মত রাজা তার পিঠে চড়ে রাজমহলের দিকে প্রস্থান করেন ও নন্দ ভুক্তা কে রাজ বাড়ি এসে দেখা করতে বলেন ।

পরের দিন নন্দ ভুক্তা তার গ্রামের কিছু লোক জন নিয়ে রাজ বাড়ি গেলে । রাজার সাথে দেখা করলে রাজা মশাই তাকে বলেন য়ে ওখানে তিনি দেবীর মন্দির নিরমান করে দিবেন ও জায়গাটি তাদের নামে পাট্টা প্রদান করবেন ।পরের দিন রাজার কথা অনুযায়ী সেই স্থান টি পরিস্কার করে দেওয়া হয় এবং সেখানে মন্দির নিরমান করা হয় ।য়েহুত এই স্থানটি রাজা দের গুপ্ত পথ ছিল তাই মন্দিরের নাম দেওয়া হয় গুপ্তমনি মন্দির ।আদিকাল থেকে প্রচলিত নিয়ম অনুয়ায়ী পুজ হয়ে আসছে আজও ।মুল এখানে দূর্গা পুজোর নবমী ও দশমী তে বলী প্রথা রয়েছে ।প্রতিমার জায়গায় বসানো হয় ঘট ।পুজ হয় মেঝেতে পাথরের দেবীর । দূর্গা পুজো শেষে দেবীর প্রতিমার জায়গায় বিসর্জন দেওয়া হয় ঘট । পুরোহিতের জাযগায় পুজো করেন সবর সম্প্রদায়ের কচি কাচা ও বড় ছেলেরাই । বহু দুর দুরান্ত থেকে মানুষ বিভিন্ন মনস্কামনা নিয়ে পুজো দিতে আসে এই মন্দিরে । মনস্কামনার জন্যে মা রাজার হাতি বেদে ছিল ।তার ডালে মাটির হাতি ঘোড়া বেধে য়ান । সারা বছরই পুজো হয় দেবীর ।

First published: 04:23:09 PM Aug 22, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर