Jawhar Sircar Tmc: 'এতদিন টেবিলের এপার থেকে বলেছি, এবার ওপার!' প্রস্তুত মমতার 'সারপ্রাইজ' জহর

'খেলতে' নামছেন জহর

Jawhar Sircar Tmc: তাঁর যে খুব মমতা-'প্রীতি' ছিল, এমনটাও খুব জোরের সঙ্গে বলার লোক কম। এহেন জহর সরকারই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যসভার সৈনিক হতে যাচ্ছেন।

  • Share this:

#কলকাতা: ছিলেন দুঁদে আমলা, এখন তাঁর পরিচয় হতে যাচ্ছে পুরোদস্তুর রাজনীতিক হিসেবে। বুধবারই তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জহর সরকার। যদিও অনেক আগে থেকেই কট্টর মোদি-বিরোধী। এমনকী মোদির বিরোধিতা করতে 'আচ্ছে দিন'-এর জমানাতেও প্রসার ভারতীর সিইও পদ ছেড়ে দিয়েছেন সময়ের আগেই। তবে, তাঁর যে খুব মমতা-'প্রীতি' ছিল, এমনটাও খুব জোরের সঙ্গে বলার লোক কম। এহেন জহর সরকারই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যসভার সৈনিক হতে যাচ্ছেন। যদিও হঠাৎ তাঁকেই কেন রাজ্যসভায় পাঠাতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী, তা নিয়ে শুরুতে একটু অবাকই হয়েছিলেন। এদিন 'নিউজ 18 বাংলা'কে তিনি বলেন, 'কেন আমার মত একজন আমলাকে উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) চয়েজ করলেন, জানি না। আমি এখনও সারপ্রাইজড। অর্থাৎ, মমতার এই 'সারপ্রাইজ'টা যে জহর সরকারের মতো দুঁদে আমলাকেও ভাবাচ্ছে, তা স্পষ্ট।

মমতার কাছ থেকে যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন, তাকে পুরোদস্তুর কাজে লাগিয়ে,  মোদিকে নিশানা করে সংসদীয় রাজনীতিতে দাগ কাটতে চেষ্টা শুরু করে দিলেন জহর।। তাঁর কথায়, 'আমার ওপর আস্থা রেখেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি। আশা করি সেই আস্থা পূরণ করতে পারব।' মোদ্দা কথা, প্রসার ভারতীর সিইও পদে পদত্যাগ করে যে প্রতিবাদটা শুরু করেছিলেন তিনি, সেটা এসে ঠেকে গেল রাজনীতির আঙিনায়। প্রসারভারতী থেকে পদত্যাগ বা তারপর ক্রমাগত নানা ইস্যুতে মোদি ও বিজেপি বিরোধিতা করা জহর সরকার এবার রাজ্যসভাতে চেপে ধরবেন কেন্দ্রীয় সরকারকে।

ছাত্র পরিষদ আর পরবর্তী কালে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির ঘনিষ্ঠ হিসাবে কংগ্রেসি ঘরানায় অভ্যস্ত জহরের মধ্যে গেরুয়া শিবিরের প্রতি প্রতিবাদ ছিল। কিন্তু নিজেকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার জন্য তেমন কোনও পরিকল্পনা ছিল না এই দুঁদে আমলার। ফলে এখন সক্রিয় রাজনীতিতে এসে পড়ার পর, তার পরিণতি কী হবে, সেটা নিয়ে অবশ্য কিছুটা দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন জহর সরকার। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, আসলে,  আমলা জহর পড়েছেন দোটানায়। ভাবছেন, দীর্ঘ বর্ণময় আমলা জীবনের শেষে পৌঁছে তিনি  কি পারবেন রাজনীতির আঙিনাতেও সফল হতে? যদিও অনেকেই বলছেন একদিকে, মমতার আস্থা অর্জন আর অন্যদিকে, নিজের প্রতিবাদী চরিত্রকে নতুন করে রাজনীতির আঙিনায় তুলে ধরা - এই দুইয়ের সঠিক সমন্বয়েই তৈরি হতে পারে তার সাফল্যের রসায়ন৷

আর সেই সূত্রেই এবার রাজনীতির স্রোতেই স্বতন্ত্র জায়গা করে নিতে চাইছেন তিনি। বলছেন, 'এতদিন কাজ করেছি আমলা হিসাবে। টেবিলের এপার থেকে কথা বলেছি। আজ বুঝছি, এই জায়গাটাও দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। নানা বিষয় রয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। টেবিলের এপার আর ওপারের মধ্যে ফারাকটা বিরাট।' তবে দেশের মধ্যে মোদি বিরোধী মুখ হয়ে ওঠা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যসভার সৈনিকদের মধ্যেও জহর সরকার যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলছেন, তা এখন থেকেই বলে রাখা যায়।

Published by:Suman Biswas
First published: