• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • NIA হেফাজত থেকে বাঁচতে আদালতে ফাঁসির আর্জি IS সন্দেহভাজন মুসা

NIA হেফাজত থেকে বাঁচতে আদালতে ফাঁসির আর্জি IS সন্দেহভাজন মুসা

এনআইএ হেফাজতের প্রতিবাদ জানিয়ে এবার অনশনে বসার হুমকি দিল সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গি মুসা।

এনআইএ হেফাজতের প্রতিবাদ জানিয়ে এবার অনশনে বসার হুমকি দিল সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গি মুসা।

এনআইএ হেফাজতের প্রতিবাদ জানিয়ে এবার অনশনে বসার হুমকি দিল সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গি মুসা।

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: এনআইএ হেফাজতের প্রতিবাদ জানিয়ে এবার অনশনে বসার হুমকি দিল সন্দেহভাজন আইএস জঙ্গি মুসা। মঙ্গলবার নগর দায়রা আদালতে জোর গলায় মুসা বিচারককে অভিযোগ করে, অত্যাচার করার জন্যই তাকে হেফাজতে চাইছে এনআইএ। বাংলাদেশ পুলিশ কেন তাকে জেরা করবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ওই জঙ্গি। এরপরই আদালতে দাঁড়িয়ে আইএস জঙ্গি সন্দেহে ধৃত মুসা হুমকি দেয়, এখনই ফাঁসি না দিলে অনশন শুরু করবে সে।

    এদিন মুসাকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় NIA ৷ এই কথা শুনেই আদালত কক্ষে কান্নায় ভেঙে পড়ে মুসা ৷ চিৎকার করে বিচারককে বলে, ‘আমায় অত্যাচার করার জন্য হেফাজতে চাইছে NIA ৷ কেন বাংলাদেশ পুলিশ জিজ্ঞাসা করবে?’ একইসঙ্গে NIA হেফাজতে যাওয়া থেকে বাঁচতে কখনও মুসা অনশনে বসার হুমকি দেয়, আবার কখনও ফাঁসির আর্জি জানায় ৷ আদালত কক্ষে মুসার মন্তব্য, ‘এখনই আমায় ফাঁসি দিন নয়তো আমি অনশনে বসব ৷ ’

    ওই জঙ্গিকে জেরা করার জন্য ইতিমধ্যেই সল্টলেকে এনআইএ-র দফতরে পৌঁছেছে র‍্যাবের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশের গোয়েন্দারা মুসার সঙ্গে আইএসের যোগাযোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখবেন তাঁরা । মুসার কথায় কোনও রকম কর্ণপাত না করে আদালত তাকে দু’দিনের NIA হেফাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়৷

    গুলশান হামলায় স্পষ্ট জেএমবি যোগ। আইএসের সঙ্গে জেএমবি এবং এরাজ্যের যোগ খুঁজতেই এখানে এসেছেন বাংলাদেশের তদন্তকারীরা। এর আগে গত মাসের ১৯ তারিখ ঢাকা সরকারিভাবে জানিয়ে দেয়, গুলশন হামলার সঙ্গে যোগ রয়েছে এ রাজ্যের ৷ ধৃত আইএস জঙ্গি মুসাও গুলশন হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের ৷

    দেশে বসে বাংলাদেশের JMB জঙ্গিদের সঙ্গে মুসার যোগ নিয়ে প্রশ্ন করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা ৷ NIA-এর মাধ্যমেই মুসার থেকে তথ্য নিতে পারেন বাংলাদেশ গোয়েন্দারা ৷

    ঢাকা গুলশানের জঙ্গি হামলার মূল চক্রী হিসেবে ওপারের গোয়েন্দারা চিহ্নিত করেছেন ‘বাংলার বাঘ-২’ নামে এক জঙ্গি নেতাকে ৷ বর্ধমান থেকে আটক আইএস জঙ্গি মুসা ওরফে মসিউদ্দিনকে জেরার সময়ও এই ‘বাংলার বাঘ-২’ এর নাম উঠে এসেছিল ৷ তাই মুসাও এই হামলার সম্বন্ধে কি জানত সেটা জানতে চায় গোয়েন্দারা ৷ একইসঙ্গে বাংলার বাঘ-২ কে চিহ্নিত করতেও মুসার থেকে তথ্য চায় র‍্যাব ৷

    মুসাকে দিয়ে বাংলার বাঘ২-এর স্কেচ আঁকিয়ে তাঁকে খোঁজার পরিকল্পনা আগেই করেছেন গোয়েন্দারা ৷ গোয়েন্দাদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, মুসার একদিকে ছিল সিরিয়া ও আফগানিস্তানের আইএস যোগ, অন্যদিকে ছিল বাংলাদেশের জামাত-উল-মুজাহিদিন যোগ। এবার বাংলার বাঘ২-কে হাতে পেলেও জট ছাড়ানো যাবে জঙ্গি জালের অন্য সুতোগুলোর ৷

    এর আগেই এপারের গোয়েন্দারা এই তথ্য জানিয়েছিলেন যে, ঢাকা গুলশন হামলার বিস্ফোরণের সঙ্গে খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণে মিল রয়েছে ৷ খাগড়াগড়ে জামাতের ডেরায় যারা বিস্ফোরক বানাচ্ছিল তাদের হাত রয়েছে ঢাকার গুলশনের হামলায়। এপারে আইএস জালের অপারেটর বাংলার বাঘ২ এবং গুলশন হামলার মূল চক্রী একই লোক, সে সম্পর্কে কড়া তথ্য প্রমাণ খুঁজছে দুই দেশের গোয়েন্দারা ৷

    গত ১ জুলাই ঢাকার অভিজাত গুলশন এলাকার এক রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় আইএস জঙ্গিরা ৷ বছরের ১৯-এর ভারতীয় মেয়ে তারিশি জৈন সহ ২০ জন পণবন্দিকে কুপিয়ে খুন করে জঙ্গিরা ৷ জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় বাংলাদেশ গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানীর ওসি সালাউদ্দিনের ৷ যদিও ১৩ মিনিটের অপারেশন থান্ডারবোল্ট-এর মাধ্যমে রেস্তোরাঁকে জঙ্গিমুক্ত করে সেনা ৷ ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় মোট নয় জন জঙ্গি ৷ সেনার গুলিতে নিহত হয় ছয় জঙ্গি ৷

    First published: