কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

রেলে খাবার পরিবেশন করে, এবার সেই খাবার নেওয়ার জন্য রাজ্যগুলিকে আবেদন IRCTC-র

রেলে খাবার পরিবেশন করে, এবার সেই খাবার নেওয়ার জন্য রাজ্যগুলিকে আবেদন IRCTC-র
  • Share this:

#কলকাতা: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মানুষের জন্যে খাবার তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করল ভারতীয় রেলের অধীনস্থ সংস্থা IRCTC। রেলের একাধিক স্টেশনে IRCTC'র নিজস্ব বেস কিচেন রয়েছে। লকডাউনের আগে সেখান থেকে রান্না করা খাবারই পরিবেশন করা হত বিভিন্ন স্টেশন ও দুরপাল্লার ট্রেন গুলিতে। এবার সেই সমস্ত বেস কিচেনে রান্না চলছে লকডাউনের জেরে বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় যাদের খাবার দেওয়ার কেউ নেই বা রোজগার বন্ধ থাকার কারণে যারা খাবার পাচ্ছেন না।

গোটা দেশে প্রতিদিন এই খাবার IRCTC, রেল রক্ষী বাহিনী বা একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাতে তুলে দিচ্ছে। এবার সেই তৈরি করা খাবার রাজ্যগুলিকে নেওয়ার জন্য আবেদন জানালো রেল। আই আর সি টি সি-সূত্রে খবর, প্রতিদিন তারা ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষকে খাবার পৌছে দিতে সক্ষম। আই আর সি টি সি'র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, "প্রতি জেলা প্রশাসনের কাছে খাবারের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে। কিচেনের তালিকা দেওয়া হয়েছে। যেখান থেকে এই খাবার সংগ্রহ করা যেতে পারে। রান্না করা খাবার দেওয়া হবে।" আগামীদিনে যদি খাবার নেওয়ার সংখ্যা বাড়ে তাহলে তারা আরও বেশি মানুষের জন্য খাবার বানিয়ে দেবেন বলে জানাচ্ছেন আই আর সি টি সি'র আধিকারিকরা।

IRCTC প্রতিদিনের মেনু বদল করছে। রেলের দেওয়া ভোজে শুধু খিচুড়ি নয়। এবার থেকে দেওয়া হচ্ছে ভেজ বিরিয়ানি। গত সপ্তাহ থেকেই এই বিরিয়ানি দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৫০০০ মানুষকে। লকডাউন পরিস্থিতিতে রেল স্টেশন এলাকায় আটকে পড়া মানুষ ও ভবঘুরেদের খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় রেল। শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনের বাইরে প্রতিদিন রেল রক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে চলছে খাবার পরিবেশন। ধীরে ধীরে  সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। হাওড়া বেস কিচেনে প্রতিদিন চলছে প্রায় ৫০০০ লোকের খাওয়ানোর ব্যবস্থা। সকাল থেকে রাত অবধি ১৩ জন কর্মী অক্লান্ত পরিশ্রম করে খাবার তৈরি করছেন।

IRCTC'র হিসেব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৩০০ কেজি চাল ও ৩০০ কেজি সবজি লাগছে এই খাবার তৈরি করতে। আর এই বিপুল পরিমাণ খাবার জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে রেলকে। কলকাতার ৩ বাজার থেকে এই সমস্ত জিনিষ সংগ্রহ করা হয়। আই আর সি টি সি'র গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার দেবাশীস চন্দ জানান, "এখনও অবধি খাবার জোগাড় করতে অসুবিধা হয়নি। তবে যদি দরকার পড়ে আমরা রাজ্য সরকারের থেকে সাহায্য নেব।" তবে আই আর সি টি সি বিভিন্ন খোলা বাজার থেকেই সংগ্রহ করছে এই সমস্ত কাঁচামাল। হাওড়া বেস কিচেনের ইলেকট্রিক উনুনে চলছে এই খাবার তৈরি। বড় বড় হান্ডিতে একদিকে চলছে খিচুড়ি পাকানো তো অন্য দিকে চলছে বিরিয়ানির মশলা তৈরি। কেউ করছেন রান্না তো কেউ সবজি কাটার কাজে ব্যস্ত। সব কাজ চলছে সিসি ক্যামেরার নজরদারিতেই। দিল্লি থেকে রেল মন্ত্রক সরাসরি খাবার তৈরির সমস্ত পদ্ধতি মনিটর করে চলেছে।

গত রবিবার এই খাবার দেওয়ার কাজ শুরু হয়। যেহেতু সামাজিক দুরত্ব মেনে খাবার দিতে হবে। তাই আর পি এফ এই খাবার দেওয়ার কাজ করছে। প্রথমে হাওড়া ও শিয়ালদহতে এই কাজ হলেও, এখন আরও অন্যান্য স্টেশনেও এই খাবার বিলি করা হচ্ছে। এমনকি পূর্ব রেলের এজিএম সেলেও দেওয়া হচ্ছে খাবার। শেওড়াফুলি থেকে সাঁতরাগাছি। শালিমার থেকে বিধাননগর। একাধিক স্টেশনে দেওয়া হচ্ছে খাবার। দিনের পর দিন যেভাবে খাবার নেওয়ার সংখ্যা বাড়ছে তাতে শুধুমাত্র হাওড়া থেকে নয়, এবার শিয়ালদহ বেস কিচেনেও খাবার তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে খড়গপুর সহ অন্যত্র যে সমস্ত বেস কিচেন আছে, সেখানেও রান্না করা হতে পারে। দেবাশিষবাবু জানাচ্ছেন, "আমরা যতদিন প্রয়োজন হবে ততদিনই খাবার খাওয়াবো। আমাদের অসুবিধা নেই।" সে কারণেই প্রতিদিন প্রায় ৫০০০ বেশি মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে। শুধু একবেলা নয়, দু'বেলাই খাওয়াবে রেল। তবে রেল রাজ্যগুলিকে যে খাবার দেবে তার জন্য মুল্য এখনও স্থির হয়নি। অনুমান করা হচ্ছে মিল প্রতি এর দাম পড়বে ১৫ টাকা করে।

Published by: Pooja Basu
First published: April 23, 2020, 10:19 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर