'তিহার জেলে ফাঁসি দিতে যেতে রাজি', সাক্ষাৎকারে ফাঁসুড়ে নাটা মল্লিকের ছেলে মহাদেব

'তিহার জেলে ফাঁসি দিতে যেতে রাজি', সাক্ষাৎকারে ফাঁসুড়ে নাটা মল্লিকের ছেলে মহাদেব

' তিহার জেলে ফাঁসুড়ে নেই তো কী আছে? আমি ফাঁসি দিতে যেতে রাজি আছি।'

  • Share this:

Venkateswar Lahiri

#কলকাতা: "এই সব অভিযুক্তের বেঁচে থেকে লাভ কী? ওরা যে জঘন্য কাজ করেছে তাতে ফাঁসি হওয়াই উচিত। তিহার জেলে বন্দি নির্ভয়া কাণ্ডের চারজন দোষীকে যদি ফাঁসি দেওয়ার ডাক পাই আমি যেতে রাজি আছি!''... বক্তা, মহাদেব মল্লিক, প্রয়াত ফাঁসুড়ে নাটা মল্লিকের ছেলে। মহাদেবও পেশায় ফাঁসুড়ে।

নির্ভয়া কাণ্ডের চার দোষী অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্তা, বিনয় শর্মা এবং মুকেশ সিং -এর ঠিকানা এখন তিহার জেল। এরইমধ্যে রাষ্ট্রপতিকে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছে অন্যতম অভিযুক্ত বিনয় শর্মা। যেদিন হায়দরাবাদে তরুণী চিকিৎসককে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় ৪ অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করে 'খতম' করেন পুলিশ, সেদিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাষ্ট্রপতিকে নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজের সুপারিশ করে। রাষ্ট্রপতিও নিজের মত প্রকাশ করে একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ধর্ষণে অভিযুক্তদের ক্ষমা- প্রার্থনার সুযোগ থাকাই উচিত নয়। তাহলে কি তিহার জেলে ফাঁসি হতে চলেছে নির্ভয়া মামলায় দোষীদের?

রাষ্ট্রপতির মত প্রকাশের পরপরই তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ, তিহার জেলে এই মুহূর্তে কোনো স্থায়ী ফাঁসুড়ে নেই। কলকাতার ফাঁসুড়ে নাটা মল্লিক এর হাতে ২০০৪ সালে ফাঁসি হয় হেতাল পারেখ ধর্ষণ ও খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের। সেদিন বাবার সঙ্গে ধনঞ্জয়কে ফাঁসি দেওয়ার কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন নাটা মল্লিকের ছোট ছেলে মহাদেব মল্লিকও। ২০০৯ সালে মৃত্যু হয় নাটা মল্লিকের। তাঁর ছোট ছেলে মহাদেব মল্লিক বর্তমানে প্রশিক্ষিত ফাঁসুড়ে। নিউজ 18 বাংলা কে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে মহাদেব বলেন, '' তিহার জেলে ফাঁসুড়ে নেই তো কী আছে? আমি ফাঁসি দিতে যেতে রাজি আছি।''

বর্তামানে ফাঁসুড়ের কাজ কাজ না থাকায় কলকাতা পুরসভার কর্মী হিসেবে কাজ করে সংসার চালান মহাদেব মল্লিক। তিনি আরও বলেন, '' সরকারি কিছু নিয়ম কানুন আছে, যদি কেন্দ্রীয় সরকার থেকে রাজ্য সরকারকে ফাঁসুড়ের প্রয়োজনের কথা জানানো হয়, তাহলে আমার যেতে কোনও আপত্তি নেই। বাবার সঙ্গে সব সময় পাশে থেকে যা কাজ শিখেছি, তাতে চার অভিযুক্তকে আমি একাই ফাঁসি দিতে পারব।''

আত্মবিশ্বাসী নাটা মল্লিকের ছোট ছেলের কথায়," ফাঁসির দড়ি কীভাবে তৈরি করতে হয়? আসামিকে কীভাবে ধরতে হয়? দড়িটা কোথায় পরিয়ে কীভাবে টান দিতে হয় ? বাবার কাছ থেকে আমি পুরো প্রক্রিয়াটাই শিখেছি"।

স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই বহু ফাঁসি হয়েছে নাটা মল্লিক এর বাবা শিবলাল মল্লিকের হাতে। তাই নাটা মল্লিকের ছেলে, শিবলালের নাতি মনে করেন, হায়দরাবাদে গণধর্ষণ করে নৃশংস খুনের ঘটনায় জঘন্য অপরাধের শাস্তি ফাঁসি হওয়া উচিত। এই অপরাধীদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকারই নেই"। তাই দোষীদের ফাঁসিতে ঝোলাতে তিনি জল্লাদ হিসেবে প্রস্তুত, এমনটাই মহাদেববাবু।

২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিহার জেলের ৩ নম্বর সেলে শেষ ফাঁসি হয়েছিল সাংসদ হামলায় মূল অভিযুক্ত আফজাল গুরুর। সেই সময়ও ফাঁসুড়ে খুঁজতে জেল কর্তৃপক্ষকে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়। বিরল থেকে বিরলতম ঘটনায় ফাঁসির নির্দেশ দেয় আদালত। বিরলতম দিন কবে আসবে তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। তাই পূর্ণ সময়ের জন্য ফাঁসুড়ে নিয়োগ আজও হয়নি। সে কারণেই মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণার পরপরই খোঁজ শুরু হয় ফাঁসুড়ের। তিহার জেলে বন্দি নির্ভয়া কাণ্ডের অভিযুক্তদের শেষ পর্যন্ত ফাঁসি হয় কিনা কিংবা প্রয়াত ফাঁসুড়ে নাটা মল্লিকের ছোট ছেলের ইচ্ছেপূরণ হয় কিনা তার উত্তর দেবে সময়। তবে ইতিমধ্যেই জল্লাদ হতে রাজি, এমন কথা অনেকেই রাজি জানিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় নয়া সংযোজন নাটা মল্লিকের ফাঁসুড়ে ছেলে। তবে শুধুমাত্র নাটা মল্লিকের ছোট ছেলে নন, তার বড় ছেলে তারকও বলেন, '' ধনঞ্জয় কে যেদিন ফাঁসি দেওয়া হয় সেদিন বাবার সঙ্গে আমিও সহযোগিতা করেছিলাম। তাই ফাঁসির প্রক্রিয়া আমারও কিছুটা জানা আছে। প্রয়োজনে যদি আমাকে ডাকা হয়, ভাইয়ের সঙ্গে তিহার জেল যেতে আমিও রাজি আছি।''

First published: 06:06:14 PM Dec 10, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर