আরও কড়া নজরদারি, হাওড়া-শিয়ালদহ স্টেশনে তৈরি হচ্ছে ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি সিস্টেম

আরও কড়া নজরদারি, হাওড়া-শিয়ালদহ স্টেশনে তৈরি হচ্ছে ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি সিস্টেম
  • Share this:

Abir Ghoshal

#কলকাতা: হাওড়া ও শিয়ালদা রেল স্টেশনে ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি সিস্টেম তৈরি করেছে পূর্ব রেল। ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেল যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে সিসিটিভি বদল করে নতুন সিসিটিভি বসানোর কাজ। বসে গেছে ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর। পূর্ব রেল সূত্রে খবর, চলতি অর্থবছরেই পুরোমাত্রায় আইএসএস চালু হয়ে গেছে এই দুটি স্টেশনেই। কিন্তু হাওড়া স্টেশনের ছবি সেই কথা বলে না। ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেকটর বসানো হলেও সেখানে নজরদারি করার মতো নেই কোনও রেল পুলিশ। ফলে আদৌ এই ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেকটর বসানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নিত্য যাত্রীরা।

দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন হল হাওড়া রেল স্টেশন। যেখানে পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব রেলের লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন চলাফেরা করে। প্রতিদিন যাতায়াত করেন কয়েক লক্ষ মানুষ। ফলে নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্ব বিচার করে এই স্টেশনের আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বদলানো হবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকাঠামো। তার পরেই হাওড়া স্টেশনের বিভিন্ন ঢোকা বেরনোর পথে বসানো হয় ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেকটর। ঢোকা বেরোনোর জন্য হাওড়া স্টেশনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় সাবওয়ের প্রান্ত। কারণ বাস স্ট্যান্ড এই দিকে। ফলে বেশিরভাগ মানুষ ব্যবহার করেন এই পথ। আর সেই পথেই ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে বসানো হয়েছে ৩ টি ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেকটর। যদিও সেখানে নজরদারি করার মতো নেই কেউই।

IMG-20191203-WA0001

দু’মাস আগে বসানো হলেও ইতিমধ্যেই সেখানে পানের পিক জমতে শুরু করেছে। হাজার লোকের মধ্যে ওই গেটের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করছেন মাত্র এক থেকে দুই জন। অফিস টাইমে ভিড়ের সময়ে অসুবিধার কারণ হয়ে উঠেছে এগুলি, বলে মত নিত্যযাত্রীদের। ‘‘এমনিতেই প্রতিদিন দেরিতে ট্রেন চলে। তার ওপর বাস ধরতে দৌড়তে হয়। ওই একই দিক দিয়ে লোক ওঠে ও নামে। ফলে ওই তিনটি গেট সমস্যা তৈরি করছে। যদি পুরো পথ জুড়েই এগুলো থাকে তো ঠিক আছে। নাহলে গেটের জন্য যন্ত্রণা বাড়ছে। আর কে আসছে, কে যাচ্ছে, কি নিয়ে আসছে বা যাচ্ছে তা দেখার কেউ নেই।” এমনটাই দাবি যাত্রী সুজিত চট্টোপাধ্যায়ের।

ধাপে ধাপে বিধাননগর, কলকাতা, বালিগঞ্জ ও দমদম স্টেশনেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কথাও পূর্ব রেলের বিবেচনায় রয়েছে।

ইতিমধ্যেই শিয়ালদা স্টেশনে বসে গেছে ২৫০টি সিসি টিভি ক্যামেরা। শুধু তাই নয়, ৪০টি ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর বা ডিএফএমডি বসানো হয়েছে। রেলযাত্রীদের এই গেট দিয়েই ঢুকতে ও বেরোতে হবে। সেইসঙ্গে স্টেশনে ঢোকার মুখে যাত্রীদের মালপত্র পরীক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই বসেছে দুটি ব্যাগেজ স্ক্যানার। এছাড়াও ৪০টি হ্যান্ড হোল্ড মেটাল ডিটেক্টর দেওয়া হচ্ছে আরপিএফ–‌কে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই উদ্যোগ, বলছেন রেলকর্তারা।

শিয়ালদার পাশাপাশি হাওড়া স্টেশনেও ২৪৬টি সিসি টিভি–‌র ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ৩১ মার্চের মধ্যে আরও ৩০০টি ক্যামেরা বসবে। সেইসঙ্গে ২৪টি ডিএফএমডি বসবে হাওড়ায়। ইতিমধ্যেই ১২টি বসানো হয়েছে। বিমানবন্দরের মতো ২টি লাগেজ স্ক্যানার ইতিমধ্যেই হাওড়া স্টেশনে বসিয়েছে পূর্ব রেল। আরও ৬টি স্ক্যানার বসবে। এছাড়াও ওল্ড ক্যাব রোড ও নিউ ক্যাব রোডে থাকছে আন্ডার ভেহিকেল স্ক্যানার। শুধু তাই নয়, হাওড়া রেলস্টেশনে ঢোকা আর বাইরে বার হওয়ার গেটও আলাদা করা হচ্ছে। প্রত্যেককে মেটাল ডিটেক্টর লাগানো গেট দিয়েই ঢুকতে হবে। ভেন্ডারদের জন্যও থাকছে আলাদা প্রবেশ পথ। সেখানে আরপিএফ থাকবে নজরদারিতে। সাবওয়েকেও এই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। করা হচ্ছে ১২টি মেট্রিক লেন। এরমধ্যে ৬টি থাকবে প্রবেশ পথ। সেখানেও থাকছে ডিএফএমডি।

নাশকতা রুখতে পূর্ণমাত্রায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে চায় পূর্ব রেল। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার সুনীত শর্মা রেলকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বারবার জানিয়ে দিয়েছেন, যাত্রী সুরক্ষার বিষয়ে কোনও আপস করা হবে না। তবে গেট বসিয়েও যে ভাবে নজরদারির অভাব দেখা যাচ্ছে তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন যাত্রীরা।

First published: 06:06:14 PM Dec 03, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर