কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

ফের অমানবিক মেডিক্যাল কলেজ! দুর্ঘটনায় আহতের জন্য জুটল না স্ট্রেচার, হুইলেচেয়ার

ফের অমানবিক মেডিক্যাল কলেজ! দুর্ঘটনায় আহতের জন্য জুটল না স্ট্রেচার, হুইলেচেয়ার
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ৷

এক প্রকার বাধ্য হয়েই খোঁড়াতে খোঁড়াতে হাতে একটি লাঠি নিয়ে কোন প্রকারে ১০০ মিটার দূরে সুপার স্পেশালিটি ব্লকে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করান উত্তম বাবু।

  • Share this:

#কলকাতা: কলকাতার নামজাদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যে এরকম অভিজ্ঞতার সাক্ষী হবেন, তা স্বপ্নেও কল্পনা করেন নি উত্তর ২৪ পরগণার শ্যামনগরের বাসিন্দা ৬২ বছরের উত্তম দাস। লকডাউনের আগে একটা ছোটখাটো চাকরি করতেন উত্তম বাবু। লকডাউনের সময় সেই চাকরিও চলে যায়। মঙ্গলবার সকালে কাজের খোঁজে ব্যারাকপুরে এসেছিলেন প্রতিবেশী একজনের মোটর বাইকে করে। ব্যারাকপুরে সেই মোটর বাইক দুর্ঘটনায় তাঁর ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে ব্যারাকপুর বি এন বোস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ডান পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজে রেফার করেন।

উত্তম দাসের পরিবারের সদস্য এবং পাড়া প্রতিবেশীরা তাঁকে কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজে নিয়ে  আসেন। জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে অর্থোপেডিক আউটডোরে পাঠান। অর্থোপেডিক আউটডোরে  কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করে তাঁর পায়ে প্লাস্টার করেন এবং বলেন দ্রুত তাঁর অস্ত্রপ্রচার প্রয়োজন। কিন্তু তার আগে করোনা পরীক্ষা করতে হবে। এরপরই শুরু হয় বিপত্তি। গুরুতর আহত উত্তম দাসের পরিবার,পরিজন বহু চেষ্টা করো একটি ট্রলি,স্ট্রেচার বা হুইলচেয়ার জোগাড় করতে পারেননি। অভিযোগ, হাসপাতাল কর্মীদের বারবার করে বললেও কোনওরকম সাহায্য পাননি তাঁরা।

এরপর এক প্রকার বাধ্য হয়েই খোঁড়াতে খোঁড়াতে হাতে একটি লাঠি নিয়ে কোন প্রকারে ১০০ মিটার দূরে সুপার স্পেশালিটি ব্লকে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করান উত্তম বাবু। সেখান থেকেও কোনওরকম স্ট্রেচার বা হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেখান থেকে আবার একই রকম ভাবে চূড়ান্ত কষ্ট করে আউটডোরে ফেরেন উত্তম দাস। উত্তম বাবুর একটাই কথা, 'এত বড় হাসপাতাল, একটা ট্রলি বা হুইল চেয়ার নেই, এটা কr করে সম্ভব! আমি তো ভাবতেই পারছিনা,আমার পায়ে যে রকম যন্ত্রণা হচ্ছিল,তাতে একসময় মনে হচ্ছিল মরেই যাবো।' উত্তম দাসের বোন লিলি দাস জানান, ' কত স্টাফকে কাকুতি মিনতি করলাম, কেউ একটা ট্রলি বা হুইল চেয়ার জোগাড় করে দিলেন না। দাদার যদি খারাপ কিছু হতো,তার দায় কে নিত?'

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়েছে। হাসপাতালে ট্রলি, স্ট্রেচার বা হুইল চেয়ারের কোনও অভাব নেই। যে সমস্ত কর্মীরা এই ঘটনায় দায়ী তাঁদেরকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Avijit Chanda

Published by: Debamoy Ghosh
First published: November 3, 2020, 9:26 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर