corona virus btn
corona virus btn
Loading

ফের অমানবিক সরকারি হাসপাতাল! বুকে ব্যথা নিয়ে ৫ সরকারি হাসপাতাল ঘুরে মৃত্যু মহিলার

ফের অমানবিক সরকারি হাসপাতাল! বুকে ব্যথা নিয়ে ৫ সরকারি হাসপাতাল ঘুরে মৃত্যু মহিলার

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পাঁচ হাসপাতাল ঘুরে মহিলার মৃত্যু

  • Share this:

#হাবড়া: উত্তর ২৪ পরগনা হাবড়ার বাসিন্দা সন্ধ্যা রায়। ৫৮ বছর বয়স। বেশ কিছুদিন ধরেই হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন। আড়াই বছর আগে বাড়াবাড়ি হলে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করেন তার পরিবার। দশ দিন আইসিইউতে ছিলেন সন্ধ্যা দেবী। এসএসকেএম হাসপাতালে হৃদরোগ বিভাগের চিকিৎসকরা জানান সন্ধ্যা দেবীর হৃদযন্ত্রের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, স্টেন্ট বসানো সম্ভব নয়। বাইপাস সার্জারি করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু এসএসকেএম হাসপাতালে বাইপাস সার্জারি করার মতন বেড না থাকার কারণ দেখিয়ে সন্ধ্যা দেবীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে হয়রানির শিকার হতে থাকেন সন্ধ্যা রায়ের পরিবার। আড়াই বছর ধরে প্রতি মাসে একবার করে এসএসকেএম হাসপাতালে যেতেন তারা। আর শুনতে পেতেন বেড নেই। দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। শুধু বলা হতো আরো সময় চাই। সেই সময় আর পেলেন না সন্ধ্যা রায়। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হল কলকাতা মেডিকেল কলেজে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাবড়ার বাড়িতেই বুকে ব্যথা হতে শুরু করে সন্ধ্যা দেবীর। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে হাবরা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বলা হয়, হৃদরোগের চিকিৎসা করার পরিকাঠামো না থাকায় বারাসাত জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। এরপর তারা ছোটেন বারাসত হাসপাতালে। সেখানেও একই অভিজ্ঞতা,হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান সন্ধ্যার শারীরিক যা অবস্থা, তাতে এখানে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। সন্ধ্যাবেলায় আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় সন্ধ্যা রায়কে। সেখানে চিকিৎসকরা বলেন কোন বেড খালি নেই। এরপরে পরিবারের সদস্যরা ছোটেন এসএসকেএম হাসপাতাল।

অভিযোগ, সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সন্ধ্যা দেবীকে দীর্ঘক্ষন ধরে কোন রকম চিকিৎসা শুরু করেনি। বহুক্ষণ ব বাদে তারা বলেন, সেখানে কোনো বেড খালি নেই। এরপর তারা ছোটেন শিয়ালদহ এনআরএস হাসপাতালে। গভীররাতে এন আর এসের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদেরও একই উত্তর, বেড নেই। শেষমেষ ভোরবেলা কলকাতা মেডিকেল কলেজে যান সন্ধ্যা রায়ের পরিবার। সেখানে প্রথমে বলা হয়, কোন বেড খালি নেই। এক প্রকার হাতে-পায়ে ধরে শেষমেষ সন্ধ্যা দেবীকে ভর্তি করা হয় মেডিসিন বিভাগে। কিন্তু হৃদরোগের চিকিৎসা না পেয়ে এবং দীর্ঘ ঘোরাঘুরির ধকল আর নিতে পারে নি সন্ধ্যা রায়।হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া সন্ধ্যার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ হৃদস্পন্দন থেমে যায়। মারা যান সন্ধ্যা রায়। তার পরিবারকে আর শুনতে হবে না যে বেড নেই।

মৃত সন্ধ্যা রায় এর পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না। ফলে বেসরকারি জায়গায় বহু টাকা খরচ করে বাইপাস সার্জারি করা একপ্রকার অসম্ভব ছিল। সরকারি হাসপাতালই ছিল ভরসা। কিন্তু সেখানে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ঘুরে মরতে হবে তা জানা ছিল না তাদের কারোরই।মায়ের মৃত্যুর পর কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের একটাই প্রশ্ন, গরিব বলে কি আমাদের মা মারা গেল! গরিব হওয়ার জন্যই কি বিনা চিকিৎসায় মরতে হলো মাকে? এই প্রশ্নের জবাব কে দেবে?

Avijit Chanda

Published by: Elina Datta
First published: March 13, 2020, 3:39 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर