• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • ‘‘টেনশন করছি না, তাহলে শরীর আরও খারাপ হবে ’’: জুডিথের বাবা

‘‘টেনশন করছি না, তাহলে শরীর আরও খারাপ হবে ’’: জুডিথের বাবা

‘‘চেষ্টা করছি যতোটা সম্ভব কম দুশ্চিন্তা করার ৷ কারণ দুশ্চিন্তা করে তো আর কোনও লাভ নেই ৷ টেনশন করলে আমাদের শরীর আরও খারাপই হবে ৷ ’’

‘‘চেষ্টা করছি যতোটা সম্ভব কম দুশ্চিন্তা করার ৷ কারণ দুশ্চিন্তা করে তো আর কোনও লাভ নেই ৷ টেনশন করলে আমাদের শরীর আরও খারাপই হবে ৷ ’’

‘‘চেষ্টা করছি যতোটা সম্ভব কম দুশ্চিন্তা করার ৷ কারণ দুশ্চিন্তা করে তো আর কোনও লাভ নেই ৷ টেনশন করলে আমাদের শরীর আরও খারাপই হবে ৷ ’’

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: মেয়ের অপহরণের খবর পাওয়ার পর থেকেই বিনিদ্র রজনী কাটছে ডিসু’জা পরিবারের ৷ বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ কাবুলের ভারতীয় দূতাবাস থেকে আসা একটা ফোন কলই হঠাৎ ঝড় বয়ে এনেছে মধ্য কলকাতার এন্টালির এই খ্রীষ্টান পরিবারে ৷ আফগানিস্তানে কর্মরত মেয়ে জুডিথ ডিসু’জাকে ‘সম্ভবত অপহরণ করা হয়েছে’ ৷ এই একটা কথাতেই এখন শুধু দুশ্চিন্তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন ডিসু’জা পরিবার ৷ মেয়ে ফিরে আসবে , এই আশাটুকুই এখন সম্বল তাঁদের কাছে ৷

    অপহরণের খবর পাওয়ার আগের দিনই বাবা ডেঞ্জিল ডিসু’জার সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল জুডিথের ৷ প্রায় প্রতিদিনই নিয়মিত ফোনে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন জুডিথের বাবা এবং মা ৷ আগামী বুধবার, অর্থাৎ ১৫ জুন কলকাতায় আসার কথাও ছিল জুডিথের ৷ ডেঞ্জিল ডিসু’জা জানান, ‘‘ মেয়ের সঙ্গে দু’দিন আগেই ফোনে কথা হল ৷ কলকাতায় আসবে বলে খুব খুশিও ছিল ৷ মা-মেয়েও অনেকক্ষণ কথা বলে ফোনে ৷ কী রান্না হয়েছে বা ও এখানে আসলে কি রান্না হবে এই সব নিয়েই কথা হচ্ছিল ৷ কিন্তু তারপরেই রাত দেড়টা নাগাদ এই খবর ৷ কাবুলের ভারতীয় দূতাবাস থেকে আমাদের বলা হয়েছে ওরা প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর রাখছে ৷ কিন্তু নো আইডিয়া ঠিক কি হচ্ছে ওখানে ৷ চেষ্টা করছি যতোটা সম্ভব কম দুশ্চিন্তা করার ৷ কারণ দুশ্চিন্তা করে তো আর কোনও লাভ নেই ৷ ওর মা-র অবস্থাও খুব খারাপ এখন ৷ টেনশন করলে আমাদের শরীর আরও খারাপই হবে ৷ ’’ মুখে একথা বললেও অবশ্য নিজেকে খুব বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি ৷ এরপরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জুডিথের সত্তোর্ধ্ব বাবা ৷

    একই অবস্থা মা গ্লোরিয়া ডিসু’জারও ৷  বেশি সময় ধরেই মাথায় হাত দিয়ে বসে রয়েছেন ৷ মুখ দিয়ে কথাও বেরোচ্ছিল না ৷ অনেক জিজ্ঞাসার পর অবশেষে বললেন, ‘‘আমি কিছু বলতে পারছি না ৷ কাবুলের ইন্ডিয়ান এমব্যাসি থেকে ফোন এসেছিল ৷ যোগাযোগ রাখছি আমরা ওদের সঙ্গে ৷ কিছু খবর পেলে ওরাই জানাবে বলেছে ৷ আফগানিস্তান কেমন জায়গা আমরা জানি ৷ এক বছর তো রয়েছে ও ওখানে ৷ কোনও অসুবিধা ছিল না ৷ হঠাৎ যে কী হল..... আমি কিছু চাই না এখন ৷ শুধু চাই, ও যেন সুস্থভাবে ফিরে আসে ৷ ’’

    জুডিথদের প্রতিবেশীদের মতে, ‘‘আফগানিস্তানের অবস্থা যে ভালো নয় সেটা টিভিতে নিউজ দেখলেই জানতে পারা যায় ৷ কিন্তু জুডিথ এতদিন ঠিকঠাকই ছিল ওখানে ৷ কোনও অসুবিধা হচ্ছিল না ৷ আর ও এনজিও-র কাজে অনেক দেশেই যেত ৷ আফগানিস্তানেও কাজের জন্য গিয়েছে ৷ আমাদের মনে হয় না এনজিও-তে কাজ করত বলে অতিরিক্ত কোনও রিস্ক ফ্যাক্টর রয়েছে ৷’’

    Gloria D'souza

    ৪০ বছরের জুডিথ ছোটবেলার থেকেই যথেষ্ট মেধাবী ছাত্রী ৷ লরেটো বৌবাজার স্কুলে সহপাঠীরা জুডিথের প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁর প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন ৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জুডিথের এক বান্ধবীর কথায়, ‘‘ ও ছোটবেলার থেকেই খুবই ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রী ছিল ৷ শান্ত স্বভাবের জুডিথ খুবই ফ্রেন্ডলি এবং লাভিং ৷ আমাদের স্কুলে বিভিন্ন সোশ্যাল ওয়ার্ক হত ৷ সেগুলির জন্য অবশ্যই ওর সাহায্যের দরকার পড়ত ৷ স্কুল জীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে ভালোবাসেন জুডিথ ৷ ক্লাস ফাইভ বা সিক্স হবে, যখন আমি ওই স্কুল ছেড়ে দিই ৷ কিন্তু তার আগে পর্যন্ত আমরা খুবই ভালো বন্ধু ছিলাম ৷ ’’

    First published: