• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • INDIAN JOURNALIST NAYANIMA BASU DESCRIBES HER TERRIBLE EXPERIENCE AFTER RETURNING BACK FROM KABUL DMG

Indian Journalists Recounts Afghanistan Horror: বার বার পথ আটকালো তালিবানরা, বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা লিখলেন কাবুল ফেরত বাঙালি সাংবাদিক

বায়ুসেনার বিমানে দেশে ফেরার পথে সাংবাদিক নয়নিমা বসু৷

আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠার পরই ভারতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন নয়নিমার৷ ১৬ অগাস্ট সকাল এগারোটায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে কাবুল থেকে ভারতে ফেরার কথা ছিল তাঁর (Indian Journalists Recounts Afghanistan Horror)৷

  • Share this:

    #দিল্লি: সাংবাদিকতার জন্য আফগানিস্তানে যেতে হয়েছিল৷ কাজটা যে কঠিন, জানতেন৷ কিন্তু আফগানিস্তান থেকে ফিরে আসাটা যে এতটা কঠিন হবে, তা সম্ভবত ভাবতে পারেননি সাংবাদিক নয়নিমা বসু৷ কার্যত প্রাণ হাতে করে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে মঙ্গলবার ভারতে ফেরার পর নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরেছেন তিনি৷ দ্য প্রিন্ট-এ লেখা প্রতিবেদন নয়নিমা জানিয়েছেন, কাবুল তালিবানরা দখল করার পর কীভাবে ভাগ্যের জোরে বেঁচে ফিরেছেন তিনি৷

    আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠার পরই ভারতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন নয়নিমার৷ ১৬ অগাস্ট সকাল এগারোটায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে কাবুল থেকে ভারতে ফেরার কথা ছিল তাঁর৷ কিন্তু সোমবার কাবুল বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি দেখেন, ততক্ষণে তালিবানরা বিমানবন্দরের দখল নিয়ে নিয়েছে৷ বিমানবন্দরের মূল প্রবেশদ্বার আটকে দাঁড়িয়ে রয়েছে তালিবানদের সশস্ত্র বাহিনীর আট থেকে দশটি গাড়ি৷ মানুষকে ভয় পাওয়াতে শূন্যে গুলি চালাতে শুরু করে তালিবানরা৷

    বিমানবন্দরের বাইরে রাস্তার উপরেই সবাইকে বসিয়ে রাখা হয়৷ বিমানবন্দরের বাইরে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করলেও শূন্যে গুলি চালানো থামেনি তালিবানদের৷ কোনওমতে তালিবানদের গুলি থেকে নিজেকে আড়াল করেন তিনি৷ বহু আফগান পরিবারও তখন শিশুদের নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছে৷ সকাল সাতটায় শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি মেলে৷ সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে হুড়োহুড়ি৷ আর একই সঙ্গে গুলি চালানোর মাত্রাও বাড়িয়ে দেয় তালিবানরা৷ কোনওক্রমে বিমানবন্দরে ঢুকতে পারলেও নয়নিমা জানতে পারেন, সমস্ত বিমানই বাতিল হয়ে গিয়েছে৷

    কিন্তু বিমান চলাচল বন্ধ হলেও কাতারে কাতারে মানুষ দেশ ছাড়ার চেষ্টায় বিমানবন্দরে ভিড় করতে থাকেন৷ এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে তালিবানরা এবার নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে৷

    চতুর্দিকে এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই ভারতীয় দূতাবাস এবং দিল্লির বিদেশমন্ত্রকের তরফে নয়নিমাকে তিনটি বিকল্প দেওয়া হয়৷ নয়নিমা লিখেছেন, 'যে হোটেলে ছিলাম আমাকে সেখানেই ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়৷ তা না হলে হয় বিমানবন্দরের টেকনিক্যাল এরিয়ে আর তা না বলে ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে আশ্রয় নিতে বলা হয়৷'

    নয়নিমা আরও লিখেছেন, 'বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসার সময় কয়েকজন তালিবান রক্ষী চিৎকার করতে করতে আমাকে ঘিরে ধরে৷ আমার ব্যাগ ছুড়ে ফেলার চেষ্টা করে তারা৷ সঙ্গে সঙ্গে তাদের জানাই যে আমি একজন ভারতীয় সাংবাদিক এবং আফগানিস্তানের পরিস্থিতি তুলে ধরতেই কাবুলে এসেছি৷ এর পরেই আমাকে ছেড়ে দেয় ওরা৷'

    ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে নয়নিমা জানিয়েছেন, বেলা ১১.১৫ মিনিট নাগাদ মানুষ অধৈর্য হয়ে বিমানবন্দরের মূল গেটটি ভেঙে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করতেই তালিবান রক্ষীরা গুলি চালাতে শুরু করে৷ সেই সময় নয়নিমার ঠিক পাশে দাঁড়ানো একজন গুলিবিদ্ধ হন৷

    এর পরে কোনওক্রমে বিমানবন্দর থেকে প্রাণ হাতে নিয়ে বেরিয়ে এসে ভারতীয় দূতাবাসে যাওয়ার জন্য একটি ট্যাক্সিতে ওঠেন নয়নিমা৷ কিন্তু মাঝরাস্তায় তালিবানরা তাঁর পথ আটকায়৷ শেষ পর্যন্ত তালিবানদের ওই দলে থাকা মূল নেতার সঙ্গে কথা বলে দূতাবাসে যাওয়ার অনুমতি পান নয়নিমা৷

    নিজের প্রতিবেদনে নয়নিমা লিখেছেন, কীভাবে আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসার জন্য মরিয়া উঠেছেন আফগানরাও৷ ভারতীয় ওই সাংবাদিক লিখেছেন, 'ভারতীয় দূতাবাসে এক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে আমাকে এসে বলেন যে তিনি ভারতে তাঁর ভাইয়ের কাছে আসতে চান৷ দু' জন বালক ভারতে কাজ করতে আসার জন্য ভিসার আবেদন জানাতে এসেছিল৷'

    যেহেতু সেই সময় উদ্ধারকাজের জন্য দূতাবাস খালি করার কাজ চলছিল, তাই নয়নিমা সহ ভারতীয় সাংবাদিক এবং নাগরিকদের বুলেট প্রুফ গাড়িতে তুলে বিমানবন্দরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়৷ কাবুল বিমানবন্দরের টেকনিক্যাল এরিয়ায় অপেক্ষা করছিল ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান৷ মার্কিন বাহিনী সেই বিমানটিকে পাহারা দিচ্ছিল৷ কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ে প্রথমে গুজরাতের জামনগরে থামে সেই বিমান৷ সেখান থেকে মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লির কাছে হিন্দন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে পৌঁছন নয়নিমারা৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: