নারী শিক্ষায় সারা দেশে পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ, বহু পিছনে ‘মডেল স্টেট’ গুজরাত

নারী শিক্ষায় সারা দেশে পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ, বহু পিছনে ‘মডেল স্টেট’ গুজরাত

সর্বভারতীয় গড়েরও অনেক নীচে গুজরাত। গুজরাতের আগে রয়েছে দেশের ১৯টি রাজ্য। বলা ভাল, ২১ রাজ্যের তালিকায় গুজরাত ২০তম।

  • Share this:

TRIDIB BHATTACHARYA

#কলকাতা: সরকারি রিপোর্টেই পরিষ্কার, কন্যা সন্তানের শিক্ষায় গোটা দেশে ষষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গ। বহু পিছনে 'মডেল স্টেট' গুজরাট। সর্বভারতীয় গড়েরও অনেক নীচে গুজরাত। গুজরাতের আগে রয়েছে দেশের ১৯টি রাজ্য। বলা ভাল, ২১ রাজ্যের তালিকায় গুজরাত ২০তম। তার পিছনে রয়েছে আরেক বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ। তালিকায় শেষ নাম হিসেবে। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, সর্বভারতীয় গড়ের নীচে রয়েছে ৭টি রাজ্য। অসম, ঝাড়খন্ড, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ওড়িশা, গুজরাত ও উত্তরপ্রদেশ।

গত নভেম্বরেই, স্ট্যাটিস্টিক অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন মন্ত্রক এই রিপোর্ট পেশ করে। তাতে দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ গুজরাতে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী কন্যা সন্তানদের সেকেন্ডারিতে বা মাধ্যমিকে নাম নথিভুক্ত করার হার মাত্র ৬৪.৭% শতাংশ। ক্লাস এইটের আগেই ৩৫.৩% কন্যা সন্তান লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। যা গোটা দেশের পক্ষে সবচেয়ে খারাপ। প্রাথমিকে ৯৫.৯% নাম নথিভুক্ত করে। উচ্চ-প্রাইমারিতে সেই হার নেমে আসে ৯২.৪%। সেকেন্ডারিতে তা নেমে দাঁড়ায় ৬৪.৭% শতাংশে।

3 গুজরাতের নীচে একটিই রাজ্য তা হল উত্তরপ্রদেশ (৬২.৪%)। গুজরাতে হায়ার সেকেন্ডারিতে নাম নথিভুক্তির হারটা আরও করুণ, ৯.৩% শতাংশ। আর্বান বা শহুরে মেয়েদের ক্ষেত্রে গুজরাতের ছবিটা একটু ভাল। ১৪ থেকে ১৭, এই একই বয়ঃসীমার মধ্যে থাকা মেয়েরা সেকেন্ডারিতে নাম নথিভুক্ত করছে ৮৬.৯%। ১৮ থেকে ২৩ বছর বয়সীদের মধ্যে, অর্থাৎ যারা উচ্চশিক্ষায় নাম লেখাচ্ছেন তার হার ২৮%। এই ক্যাটাগরিতেও পশ্চিমবঙ্গের অনেক নীচে গুজরাত। পশ্চিমবঙ্গ ১৮ থেকে ২৩ বয়সী শহুরে মেয়েদের ক্ষেত্রে দেশের ১৩তম স্থানে। আর গুজরাট ১৯। যেখানে পশ্চিমবঙ্গে হায়ার সেকেন্ডারিতে নাম লেখায় ৩৪.৮% শতাংশ। যা সারা ভারতের গড় থেকে মাত্র ০.৪% কম। তবে গ্রামীন বাংলায় কন্যা সন্তানদের শিক্ষায় রাজ্যের পার্ফমেন্স অনেক ভাল।

2

আর এইখানেই সাফল্য রাজ্যের কন্যাশ্রী প্রকল্পের, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, এনএসও(NSO)-র, ৭৫তম রাউন্ডের ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জুলাই ২০১৭ থেকে জুন ২০১৮ সময়কালের মধ্যে। এই সময়কালে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে, ন্যাশনাল স্ট্যাটেস্টিক্যাল অফিস বা এনএসও, ৭৫তম রাউন্ডের সার্ভে রিপোর্ট পেশ করে গত নভেম্বরে। আর, ২০১৩ সালের ৮মার্চ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প কন্যাশ্রী। ২০১৭-১৮ সময়কালের মধ্যে ক্রমশ গতি পাচ্ছিল কন্যাশ্রী প্রকল্প। আটকানো গিয়েছিল অর্থের জন্য স্কুল থেকে ড্রপ আউট, আর বাল্যবিবাহ। কন্যাশ্রীর টাকায় পড়াশোনা চালানো অপেক্ষাকৃত সহজতর হয়েছে বাংলার দরিদ্র মেয়েদের। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই সময়ে বাংলার কন্যা সন্তানদের ড্রপ-আউটের হার আরও অনেক কমেছে। এই সময়ে NSO-র সার্ভে আরেকবার করা গেলে যে তথ্য সামনে আসবে তা আরও উজ্জ্বলতর হওয়ার সম্ভাবনা। বিশেষজ্ঞদের আশা, NSO-র ৭৬তম রাউন্ডের সার্ভে রিপোর্টে আরও অনেক ওপরে উঠে আসবে পশ্চিমবঙ্গ।

NSOর ৭৫তম রাউন্ডের সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, অ্যাটেন্ডেন্স রেশিও ইন স্কুল রুরাল ফিমেল (১৪-১৭ বছর) ষষ্ঠ স্থানে আছে পশ্চিমবঙ্গ (৮৭.৭%)। এ রাজ্যের ওপরের পাঁচটি রাজ্য হল, কেরালা(৯৯.৩%), হিমাচল প্রদেশ (৯৩.৫%), উত্তরাখন্ড (৯২%), তামিলনাড়ু (৯১.৭%) ও তেলেঙ্গানা (৮৮%)। 1

First published: December 15, 2019, 7:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर