কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

EXCLUSIVE: ফোন করলেই রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে ৩০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবে পছন্দের মদ!

EXCLUSIVE: ফোন করলেই রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে ৩০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবে পছন্দের মদ!
  • Share this:

 VENKATESWAR  LAHIRI 

#কলকাতা:  মদের হোম ডেলিভারির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। কিন্তু লকডাউনের  সময়ে মদ বিক্রি যেখানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ তখন কীভাবে এই বেআইনি পরিষেবার রমরমা কারবার  চলছে? কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সেই কারবারের নেপথ্যে কী বড়সড় প্রতারণা চক্র? নিউজ 18 বাংলার স্পেশ্যাল রিপোর্ট।

ফেসবুক কিম্বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার পেজে হামেশাই ফুটে উঠছে মদের হোম ডেলিভারির নানান পোস্ট। বিভিন্ন ব্রান্ডের মদের বোতলের ছবি দিয়ে হোম ডেলিভারির কথা উল্লেখ থাকছে। সেইসঙ্গে নির্দিষ্ট ফোন নম্বর দেওয়া থাকছে এবং সেই ফোন নম্বরে ফোন করলেই আপনার বাড়িতে চটজলদি ডেলিভারি বয় মারফত পৌঁছে যাবে মদের বোতল বলেও আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। লকডাউন চলায় দীর্ঘদিন যাবৎ অমিল মদ। সেই সঙ্গে হাহাকার দেখা দিয়েছে মদ্যপায়ীদের মধ্যে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে বড়সড় প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই অনেকেই মদের হোম ডেলিভারির সুযোগ নিতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। কীভাবে হোম ডেলিভারির আড়ালে ফাঁদ পাচ্ছেন প্রতারকরা?

সোশ্যাল মিডিয়ার নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করলেই আপনি এমন কোনও  মদের ব্র্যান্ডের খোঁজ করবেন অথচ তা পাবেন না তা হবে না। তবে ঘরে বসে মদ পেতে গেলে বেশ কিছু শর্ত রয়েছে বিজ্ঞাপনদাতাদের পক্ষ থেকে। যেমন আপনি যে ব্র্যান্ডের মদ অর্ডার দেবেন তার আসল দামের ওপর হোম ডেলিভারি চার্জ বাবদ বাজার মূল্য থেকে 100 টাকা বেশি দিতে হবে।এছাড়াও মদের দামের পঞ্চাশ শতাংশ আপনাকে পেটিএম, ফোনপে কিংবা অনলাইনের অন্য কোনও মাধ্যমে তা আপনাকে মদের বোতল হাতে পাওয়ার আগেই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে। তারপরই আপনার অর্ডার বুক করা হবে এবং বাকি টাকা যখন আপনার বাড়িতে হোম ডেলিভারি বয় মদ  নিয়ে হাজির হবে তখন বাকি টাকা সেই ডেলিভারি বয়ের হাতেই মিটিয়ে দিতে হবে।

আবার মদের হোম ডেলিভারি অপর একটি পেজে নির্দিষ্ট নম্বরে মদের খোঁজ করলে বাড়িতে মদ পৌঁছে তো যাবে কিন্তু তার জন্য আগাম অনলাইনে আপনাকে মেটাতে হবে মদের বোতলের পুরো দাম। সাম্প্রতিককালে এই ধরনের নানান পেজে প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় কলকাতা কিংবা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হোম ডেলিভারির কথা জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট নজরে আসছে । বর্তমানে এই সুযোগ নিতে গিয়ে প্রচুর গ্রাহক প্রতারিত হয়েছেন। অনলাইনে টাকা মিটিয়ে ওই ফোন নম্বরে আর ফোন করে কোনও সদুত্তর না পেয়ে। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দ্বারস্থ হন অনেক গ্রাহকই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহকের কথায়, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় ওয়াইন শপ নামে খোলা পেজে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে তাতে আমি ফোন করে অনলাইনে পছন্দের ব্র্যান্ডের টাকা মিটিয়ে কোনও মদ পাইনি।’ অপর এক গ্রাহক বলেন, 'অর্ডার দেওয়ার ৪৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের লোক আপনার বাড়িতে গিয়ে মদের বোতল পৌঁছে দেবে কিন্তু ৬৬০ টাকা দিয়ে পছন্দের হুইস্কি অর্ডার দিলেও আজও কোন ডেলিভারি বয় বাড়িতে এসে পৌঁছয়নি। পরে ফোন করলে আর ধরেও নি'। তবে অনেক গ্রাহকই সেই নম্বরে ফোন করে বলেছিলেন ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) র সুযোগ পাওয়া যাবে কিনা? তবে মদের হোম ডেলিভারি কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয়, তারা এই সুযোগ দিতে পারবে না। আর এখানেই সন্দেহ দানা বাঁধে অনেক গ্রাহকের কাছে। তবে মদের হোম ডেলিভারিতে অর্ডার দিয়ে প্রতারিতদের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। নিউজ 18 বাংলার  তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সোশ্যাল মিডিয়ার পেজে ভেসে ওঠা হোম-ডেলিভারির আড়ালে প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।  কোনও কোনও বিজ্ঞাপনদাতার দেওয়া নম্বরে হোম ডেলিভারি মদের প্রয়োজনে ফোন করলে আবার এটিএম কার্ডের নম্বরও চাওয়া হচ্ছে। কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট কিংবা অনলাইন পেমেন্টের  মাধ্যমে শুধুমাত্র আপনি পেতে পারেন বাড়িতে বসে মদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া নম্বরে ফোন করলে এমন কথাও বলছেন অনেক বিজ্ঞাপনদাতা। গ্রাহক সেজে এই প্রতিবেদক ফোন করেছিল ওই নির্দিষ্ট নম্বরে। ও প্রান্ত থেকে হিন্দিভাষী একজন বললেন , 'ওয়েস্ট বেঙ্গলের  আপনি যেখানেই থাকুন না কেন তিরিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যে আপনার কাছে অর্ডার নেওয়ার পর আমাদের গোডাউন থেকে আমাদের লোক আপনার বাড়িতে মদ পৌঁছে দেবে'। এই কথা থেকেই স্পষ্ট যে, লকডাউনের মধ্যেও যেখানে মদ পুরোপুরি নিষিদ্ধ সেখানে রাজ্যজুড়ে কীভাবে বেআইনি মদের হোম ডেলিভারি কারবারের জাল ছড়িয়ে প্রতারণার রমরমা ব্যবসা ফেঁদে বসেছে একশ্রেণীর প্রতারকরা। আবগারি দফতরের এক কর্তা বলেন, 'বর্তমানে এই ধরনের মদের হোম ডেলিভারি ব্যবসার কোন অনুমতি নেই। পুলিশ গোটা বিষয়টি নজরে রেখেছে'।অন্যদিকে সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞদের মতে,' অনলাইন কিংবা ই- ওয়ালেটের মাধ্যমে যেভাবে ব্যবসার কথা সামনে আসছে তাতে যে কোনও  সময় আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যেতে পারে'। ইতিমধ্যেই রাজ্য তথা কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, এই ব্যবসার নেপথ্যে রাজস্থান এবং জামতাড়ার একটি গ্যাং সক্রিয় হয়েছে বলে জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা।

পদস্থ এক পুলিশ কর্তার পরামর্শ,  সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের কোনও  বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পা না দিয়ে সতর্ক থাকুন'। লকডাউনের জেরে যেহেতু পুরোপুরি নিষিদ্ধ মদ ব্যবসা তাই মদ্যপায়ীদের প্রয়োজনের কথা ভেবে প্রতারকরা  এখন নানাভাবে প্রতারণার নয়া কৌশল সামনে আনছে। বোতল ভর্তি মদের ঝকঝকে শোকেসের ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়  নজরকাড়া 'বিজ্ঞাপন'  আসলে মদের হোম ডেলিভারির আড়ালে  প্রতারণা  বলেই  মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Published by: Simli Raha
First published: April 25, 2020, 9:06 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर