কলকাতা

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে ডাক্তার সেজে যাচ্ছে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কিম্বা রংমিস্ত্রি! ভয়াবহ চক্র শহরজুড়ে

আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে ডাক্তার সেজে যাচ্ছে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কিম্বা রংমিস্ত্রি! ভয়াবহ চক্র শহরজুড়ে

কারও দূষণের কাগজ আছে। আবার কারও তাও নেই। বেশ কিছু অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে যাদের রোড ট্যাক্সটুকুও নেই।

  • Share this:

SHANKU SANTRA

#কলকাতা: মনে আছে সেই এসি মেকানিক তারা বাবু শা' র কথা? বর্ধমানের একটি নার্সিংহোম থেকে মুমূর্ষু ১৬ বছরের মাধ্যমিকের ছাত্রকে কলকাতা বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতাল এনেছিল। তারিখটা ছিল ২০১৮ সালের ১৬ই মার্চ। আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে করে এই তারা বাবু, আট হাজার টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে, ডাক্তার সেজে বর্ধমান থেকে কলকাতায় এনেছিল সে ছাত্রকে। রাস্তায় ভেন্টিলেশনের অভাবে, অবশেষে হাসপাতালের দোরগোড়ায় এসে অরিজিৎ দাসের মৃত্যু হয়।

পেটের ব্যাথা নিয়ে অরিজিতের বাবা তাকে বর্ধমানে ভর্তি করেছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ার পর ওই নার্সিংহোম ডাক্তার ও অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ১৬ হাজার টাকা নিয়েছিল। গরীব বাবা টাকা খরচ করেও, অ্যাম্বুলেন্সের অসৎ চক্রে পরে ছেলেকে বাঁচাতে পারেননি সে দিন। পূর্ব যাদবপুর থানাতে একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছিল সে দিন । কিন্তু সেই মামলার ভবিষ্যত কেউ জানে না।

সেই ঘটনার পরে পূর্ব যাদবপুর থানা তারা বাবুকে গ্রেফতার করেছিল । সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও কর্মীও গ্রেফতার হয়েছিল। সেই ঘটনার পর, রাজ্য রাজনীতিতে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। তখন অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত কিছু আইন আনার কথা জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই আইন এসেছে কিনা কারও জানা নেই! তবে অ্যাম্বুলেন্সের বাড়বাড়ন্ত, সামান্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কিংবা ড্রাইভার দিয়ে ভেন্টিলেটার চালিয়ে রীতিমতো ব্যবসা এখনও চলছে রমরম করে। ব্যবসা বলতে রোগীর আত্মীয়দের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে, দ্বিগুণ, তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা।

কলকাতায় যে সমস্ত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, সেগুলো শুধু চড়া দামে ব্যবসা করছে তাই নয়, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে যা যা থাকার কথা তা কিছুই থাকছে না বলে অভিযোগ। বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে ভিড় করা অ্যাম্বুলেন্স রীতিমত উপদ্রব চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল ও নার্সিংহোম চত্বরে। কারও দূষণের কাগজ আছে। আবার কারও তাও নেই। বেশ কিছু অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে যাদের রোড ট্যাক্সটুকুও নেই। প্রশাসনিকভাবে এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা আজও হয়নি। যাঁরা ভুক্তভোগী তাঁরা প্রত্যেকেই চাইছেন, সরকার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের উপর রাশ টানুক।

অনেকেই বলেন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স বর্তমানে একটি লাভজনক ব্যবসা। ইতিমধ্যে যদি এই সব অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে কোনও আইনত ব্যবস্থা না আনতে পারে সরকার, তাহলে এদের অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রাস্তাতেই মানুষের মৃত্যু হবে, বলে অভিযোগ।

Published by: Simli Raha
First published: July 29, 2020, 3:28 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर