'সরকার ডাকলে, তিহারে ফাঁসি দিতে যাবো,' বললেন নাটা মল্লিকের ছেলে

'সরকার ডাকলে, তিহারে ফাঁসি দিতে যাবো,' বললেন নাটা মল্লিকের ছেলে
ফাঁসিকাঠের ছবিটি প্রতীকী

২০১২ সালের দিল্লি গণধর্ষণে ৪ দোষীর ফাঁসি হতে চলেছে শীঘ্রই৷ ৪ জনই এখন তিহার জেলে রয়েছে৷ কিন্তু সমস্যা হল, তিহার জেলে কোনও ফাঁসুড়ে নেই, যিনি এই ৪ জনকে ফাঁসি দেবেন৷

  • Share this:

#কলকাতা: তিহার জেলে নির্ভয়া গণধর্ষণ ও খুনে দোষীদের ফাঁসির তোড়জোড় চলছে৷ কিন্তু তিহার জেলে ফাঁসুড়ে নেই৷ ফলে নির্ভয়া গণধর্ষণে দোষীদের ফাঁসিকাঠে কে চড়াবে, তা নিয়ে চিন্তাভাবনায় পড়েছে তিহার জেল কর্তৃপক্ষ৷ এ হেন পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়ালেন প্রয়াত ফাঁসুড়ে নাটা মল্লিকের ছেলে৷ ২০০৪ সালের ১৪ অগাস্ট ধর্ষণ ও খুনে দোষী ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে ফাঁসি দিয়েছিলেন নাটা মল্লিক৷

শনিবার প্রয়াত নাটা মল্লিকের ছেলে মহাদেব মল্লিক বলেন, 'ফাঁসির সব নিয়ম জানা আছে৷ সরকার ডাকলে ফাঁসি দিতে যাবো৷'

২০১২ সালের দিল্লি গণধর্ষণে ৪ দোষীর ফাঁসি হতে চলেছে শীঘ্রই৷ ৪ জনই এখন তিহার জেলে রয়েছে৷ কিন্তু সমস্যা হল, তিহার জেলে কোনও ফাঁসুড়ে নেই, যিনি এই ৪ জনকে ফাঁসি দেবেন৷ তিহারে সংসদ হামলায় দোষী আফজল গুরুকে যখন ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, তখন মিরাট থেকে ফাঁসুড়ে আনা হয়েছিল৷ তিহারে শেষ ফাঁসি হয়েছিল আফজল গুরুর৷ ২০০১ সালে সংসদে হামলা চালিয়েছিল আফজল গুরু৷ ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ফাঁসি হয়েছিল আফজল গুরুর৷ ৩ নম্বর সেলে ফাঁসি হয়েছিল আফজলের৷ তার আগে ১৯৮৯ সালে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির হত্যাকারীদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল৷ তখন ফাঁসুড়ে ছিলেন কালু ও ফকিরা৷

প্রসঙ্গত, নির্ভয়া কাণ্ডের আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছেও প্রাণভিক্ষার আর্জি জানায়নি৷ সুপ্রিম কোর্টেও তারা ফাঁসির সাজা মকুবের আর্জি জানাতে রাজি হয়নি৷ নির্ভয়া কাণ্ডের প্রধান দোষী রাম সিং কারাগারেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। নির্ভয়া-কাণ্ডে দোষীরা মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারত সুপ্রিম কোর্টে৷ প্রাণভিক্ষার আর্জি জানাতে পারত সরাসরি রাষ্ট্রপতির কাছে। তিহাড় জেলের ডিরেক্টর জেনারেল সন্দীপ গোয়েল জানান,চার জনকেই নিম্ন আদালত ফাঁসির সাজা দিয়েছে।

হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টও সিলমোহর দিয়েছে সেই সিদ্ধান্তে। এই অবস্থায় চার জনই ফাঁসির সাজা রদ করার আবেদন করতে পারত৷ জেল তাদের এ বিষয়ে জানিয়েছিল৷ কিন্তু তারা মৃত্যুদণ্ডের সাজা মকুবের আবেদন করেনি৷ ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে মুনিরকা এলাকায় চলন্ত বাসের ভিতরে ২৩ বছর বয়সি প্যারামেডিক্যাল ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ছয় দুষ্কৃতী। মারা যান ওই ছাত্রী। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচ জনের ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। এক দুষ্কৃতী নাবালক হওয়ার কারণে জুভেনাইল হোমে বন্দি থাকার পরে মুক্তি পায়। বাকি পাঁচ জনের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত রাম সিং জেলের ভিতরে আত্মহত্যা করে।

First published: 08:13:32 PM Dec 07, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर