corona virus btn
corona virus btn
Loading

খিদের জ্বালায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী যখন কলা বিক্রেতা, ছাত্রের পাশে দাঁড়ালো বারাসাত জেলা পুলিশ

খিদের জ্বালায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী যখন কলা বিক্রেতা, ছাত্রের পাশে দাঁড়ালো বারাসাত জেলা পুলিশ

ছাত্র ও তার পরিবারকে রেশন এবং ২০০০ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে।

  • Share this:

#কলকাতা: লকডাউনে কাজ হারিয়েছে মা। তাই অগত্যা সংসার চালানোর তাগিদে কলা বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনার নবপল্লী বয়েজ হাই স্কুলের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তন্ময় দাস। নিউজ১৮ বাংলা সেই খবর প্রকাশ করার পর এই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালো বারাসাত জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের তরফে ওই ছাত্রকে রেশন এবং ২০০০ টাকা তুলে দেওয়া হয় সোমবার রাতেই। এ প্রসঙ্গে বারাসাত জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জি জানিয়েছেন "আমাদের নজরে আসামাত্রই তৎক্ষণাৎ আমাদের তরফ এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ছাত্র ও তার পরিবারকে রেশন এবং ২০০০ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে।" ছাত্রের পাশে দাঁড়িয়েছে বারাসাত গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষিকা চন্দ্রানী মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ওই ছাত্রের বাড়িতে গিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেন এই শিক্ষিকাও।

বারাসাত জেলা পুলিশ এইভাবে পাশে দাঁড়ানো তে খুশি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তন্ময় দাস ও তার মা লিপি দাস। নবপল্লী বয়েজ হাই স্কুলের এই ছাত্র বলছেন, " এইভাবে আমাদের পাশে পুলিশ এসে দাঁড়াবে আমরা ভাবতেও পারিনি। আমি আর কলা বিক্রি করতে যাব না। এখন উচ্চমাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষাগুলো মন দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।" মা লিপি দাস জানাচ্ছেন, " ছেলেকে আর বাজারে কলা বিক্রি করতে হবে না এটাই আমার কাছে এখন শান্তির বিষয়। সংসার চালানোর জন্য ওকে বাজারে কলা বিক্রি করতে হচ্ছিল। আমার কষ্ট হচ্ছিল কিন্তু কোন উপায় ছিল না।"

গত এক সপ্তাহ ধরে নবপল্লী বয়েজ হাই স্কুলের এই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী হৃদয়পুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কলা বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছিল। মেধাবী এই ছাত্র ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে পড়তে চায়। হৃদয়পুর স্টেশন চত্বরে সোমবার গিয়ে দেখা যাচ্ছিল এই ছাত্র একটি অস্থায়ী ছাউনি করে কলা বিক্রি করছে। সোমবার ওই ছাত্রের সঙ্গে কথাবার্তা প্রসঙ্গে জানাচ্ছিল, " আমি ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে পড়তে চাই। কিন্তু আমার মার কাজ চলে গেছে। আমার বাবা নেই। তাই পড়াশোনার বদলে এখন আমি এই ভাবেই সংসার কে বাঁচাতে চাই।" মাধ্যমিকে ইংরেজিতে ১০০ তে ৮২ নম্বর পেয়েছে তন্ময়। মাধ্যমিকে ৮০ শতাংশের কাছাকাছি নম্বর পাওয়ায় সায়েন্স নিয়ে পড়ার সুযোগ থাকলেও আর্টস নিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয় এই মেধাবী পড়ুয়া। করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণের জেরে এখনো পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিকের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা বাকি রয়েছে। তন্ময়ের নেওয়া বিষয়গুলির মধ্যে ভূগোল পরীক্ষা এখনো বাকি আছে। এই পরিস্থিতিতে বাকি পরীক্ষাগুলো কিভাবে দিতে পারবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল তন্ময়।

তন্ময়-এর পাড়া-প্রতিবেশীরা অবশ্য পরীক্ষা দেওয়া যাতে বন্ধ না হয় সেই বিষয়ে উদ্যোগী হতে শুরু করেছিল। কিন্তু সোমবার রাতেই বারাসাত জেলা পুলিশ তন্ময়ের পাশে দাঁড়ানোতে নয়া উদ্যমী মানসিকতা খুঁজে পেয়েছে নবপল্লী বয়েজ হাই স্কুলের এই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। মঙ্গলবার কথা প্রসঙ্গে তন্ময় বলে, "ইংরেজিতে অনার্স পড়ে আমিও ঠিক এই ভাবেই একজন দক্ষ পুলিশ অফিসার হতে চাই।"

SOMRAJ BANDOPADHYAY

Published by: Ananya Chakraborty
First published: May 12, 2020, 5:37 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर