স্লিম হচ্ছে হাওড়া ব্রিজ !

স্লিম হচ্ছে হাওড়া ব্রিজ !

আপাতত রবিবার রাত পর্যন্ত চলবে পিচের আস্তরণ তুলে রাসায়নিকের প্রলেপ দেওয়ার কাজ ৷

  • Share this:

#কলকাতা: বয়স বেড়েছে। চাপ বেড়েছে। শরীরে মেদ জমেছে। স্লিম হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সেই চিকিৎসা শুরু হল হাওড়া ব্রিজের।

হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে আজও যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হল এই হাওড়া ব্রিজ। মহানগরের গেটওয়ে বলা চলে এই সেতুকে। যদিও বয়সের ভারে নানা রোগের লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে এই ঐতিহাসিক সেতু ঘিরে। অবশেষে সেই রোগের চিকিৎসার জন্য মেদ ঝরানোর কাজ শুরু হল হাওড়া ব্রিজের।

আপাতত আগামী চারদিন এই সেতুর ওপরে থাকা পিচের আস্তরণ ধীরে ধীরে তুলে ফেলা হচ্ছে ৷ বিটুমিনের আস্তরণ তুলে ফেলে সেখানে দেওয়া হবে এক রাসায়নিকের সংমিশ্রণ। কলকাতা বন্দর সূত্রে খবর এর ফলে একদিকে যেমন মসৃণ থাকবে হাওড়া ব্রিজের রাস্তা। তেমনই ভার লাঘব হবে এই ব্রিজের। ৭০৫ মিটার দীর্ঘ, ৭৭ বছরের এই ব্রিজ সব সময়ের জন্য খেয়াল রাখে কলকাতা বন্দরের রবীন্দ্র সেতু বিভাগ। সারা বছর চলে নানা ধরণের পরীক্ষা।

২০১৭ সালে এই ব্রিজের ওপর নতুন করে বিটুমিনের আস্তরণ দেওয়া হয়। আড়াই বছর পরে দেখা যাচ্ছে সেতুর ওপর একাধিক জায়গায় সেই আস্তরণ উঠতে শুরু করে দিয়েছে। বন্দর সূত্রে খবর এই জায়গায় নতুন করে বিটুমিনের আস্তরণ না দিয়ে, এখানে এই বিশেষ রাসায়নিক দেওয়া হবে। শহরের বেশ কয়েকটি সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পিচের আস্তরণের ভার কমানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল ব্রিজ অ্যাডভাইসরি কমিটি। সেই মোতাবেক কাজও শুরু করে দেওয়া হয়। এবার সেই দাওয়াই প্রয়োগ হচ্ছে রবীন্দ্র সেতু জুড়ে। বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার অবধি কাজ হবে হাওড়া ব্রিজের ওপর। মুলত কাজ হবে রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত।

সেতুর একদিকের অংশ ছোট ছোট ব্লক করে হবে এই কাজ। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ পুরোপুরি সাহায্য করবে এই কাজে। ফলে যানজটের  আশংকা থাকবে না। আই আই টি'র সহায়তায় এই কাজ হবে। সেতুর ওপরে বিটুমিনের বদলে দেওয়া হবে পি আই সি সি বা পলি আয়রনাইট সিরামিক সিমেন্টেশন নামক রাসায়নিক। এটা এক ধরনের আঠালো রাসায়নিক। যা পিচের মতই কাজ করবে সেতুর ওপরে। তবে এটি টেকসই।

এই কাজের সাথে যুক্ত মাধব জানাচ্ছেন, "দেশের বিভিন্ন হাইওয়েতে আমরা এই পদ্ধতি মেনে কাজ করছি। রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত ভাল রয়েছে।" বিটুমিনের সাথে জলের একটা অম্ল মধুর সম্পর্ক আছে। জলকে বলা হয় বিটুমিনের শত্রু। যে কারণে বৃষ্টির ফলে রাস্তা খারাপ হয়। এই রাসায়নিক দিয়ে রাস্তা বানালে সেই ক্ষতি হবে না বলে দাবি মাধবের। বিশেষত হাওড়া ব্রিজের ওপর দিয়ে যত সংখ্যক গাড়ি চলাচল করে, তাতে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে দাবি তাদের। রাস্তা মসৃণ ও টেকসই হবে বলে দাবি তাদের।মাঝেরহাট সেতু ভাঙার পরে ন্যাশনাল টেস্ট হাউসের রিপোর্ট ছিল সেতুর ভার কমাতে তুলে ফেলা হোক ভারী পিচের আস্তরণ। কলকাতার একাধিক ব্রিজে সেই নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে। তাতে লাভ হয়েছে বলে দাবি রাজ্যের ইঞ্জিনিয়রদের। ফলে মেদ ঝরিয়ে স্লিম হচ্ছে ৭৭ বছরের বৃদ্ধ হাওড়া ব্রিজ।

Abir Ghoshal

First published: February 28, 2020, 12:32 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर