• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • লকডাউনে কেমন কাটছে কলকাতার পকেটমারদের জীবন ? এবার তাদের শুধরে যাওয়ার পালা !

লকডাউনে কেমন কাটছে কলকাতার পকেটমারদের জীবন ? এবার তাদের শুধরে যাওয়ার পালা !

রাজা ,আলতাফ ,গুড্ডু এদের সময়টা বড় খারাপ যাচ্ছে। হাতে কাজ নেই ।

রাজা ,আলতাফ ,গুড্ডু এদের সময়টা বড় খারাপ যাচ্ছে। হাতে কাজ নেই ।

রাজা ,আলতাফ ,গুড্ডু এদের সময়টা বড় খারাপ যাচ্ছে। হাতে কাজ নেই ।

  • Share this:

#কলকাতা: রাজা ,আলতাফ ,গুড্ডু এদের সময়টা বড় খারাপ যাচ্ছে। হাতে কাজ নেই ।কাজেই গুটকা কিংবা মদ কোন কিছুই কিনতে পারছে না। সকাল হলেই বাড়ির গৃহিণী হাতে একটা ব্যাগ ধরিয়ে দিই বলছে, বাজার করে আনতে। কিন্তু সব টাকায় তো খরচা হয়ে গেছে। এই লক ডাউনের বাজারে, ওদের পেশাটা ও শাটডাউন হয়ে গেছে। বুঝতে পারছে না ,আর কদিন এইভাবে টানতে পারবে।  রাজা? বছর২৫ এর যুবক। প্রতিদিন সকাল ন'টায় কাজে বেরোত, বেলা চারটের মধ্যে বাড়ি ফিরে আসত। তাতেই ভালো রোজগার। মোটামুটি দুই থেকে তিন হাজার টাকা রোজগার তো হতোই। এত রোজগার হলে কি হবে ,খরচাটাও ছিল অনেক। বস, উকিল, এদের পেছনে একটা খরচা মাসিক বাধা ছিল। তারপর তো টুকটাক পুলিশ মামাদের হাতে পড়ে যাওয়া।  ভাবছেন ওরা কি করে?  রাজা, একজন পকেটমার। থাকে উত্তর কলকাতায়। গুড্ডু আলতাব এরা কেউ রাজাবাজার কেউবা পার্ক সার্কাস এলাকাতে। তিনজন তিন এলাকার পকেটমার। প্রত্যেকের এলাকা ভাগ করা। আগে মানিব্যাগে টাকা নিয়ে বাসে ট্রেনে লোক যাতায়াত করত। তাতে রোজগারটা ভালই ছিল। কিন্তু বর্তমানে অনলাইন আর এটিএম কার্ডের দৌলতে, যাত্রীরা মানিব্যাগ ব্যবহার করা অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। যদিও মানি ব্যাগ থাকে, তাতে সামান্য গাড়ি ভাড়া রাখে সবাই। এতে ঠিক পোষায় না রাজাদের।

ওরা বেশ মজা করে বলে, ২০১০ এর আগে মোবাইল ফোনের আকার ছিল অনেকটা ছোট। পকেট থেকে তুলতে বেশ কষ্ট হতো। আবার সে সময় কেউ কেউ ,বুকের সঙ্গে লেস লাগিয়ে পকেটে রাখত। একটা চোরাই মোবাইল বিক্রি করলে তখন 500থেকে ১০০০ টাকা পেতো ওরা ।  বর্তমানে এন্ড্রয়েড মোবাইল আসার ফলে এগুলোর আকার অনেকটা বড়ো। যার ফলে পকেটে রাখলে মোবাইল ফোনের অনেকটা অংশ, পকেটের বাইরে বেরিয়ে থাকে। যেমন টেনে নিতে অসুবিধা ।তেমনি বিক্রি করলে দু তিন হাজার টাকা পাওয়া যায়। এমনকি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়।  সেদিন রাজা বেশ খোশমেজাজেই বসেছিল। ওর সঙ্গে কথা বলতে বলতে সবকিছুই খোলাখুলি বলছিল। ওরা আইফোন পকেট থেকে তুলতে চায় না। কারণ আইফোনের নাকি আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা যায় না। আর যত কোম্পানির  মোবাইল ফোন রয়েছে, সেগুলোর আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা যায়। এই আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের লোকজন বসে রয়েছে বেলগাছিয়া খিদিরপুর এলাকাতে।  ফোন চুরি যাওয়ার পর একবার যদি ওইসব কারিগরদের হাতে মোবাইল ফোনটা পড়ে যায় ।আর আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন হয়ে যায়। তাহলে যতই ট্রাকিং করুক সেই মোবাইলটি আর ফেরত পাওয়া যায় না।এটা ওর দাবী।  মজা করে বলেছিলাম এটা আবার সম্ভব নাকি?   ও বেশ জ্বল জ্বল চোখে বলেছিল, 'যদি সম্ভব না হয় ,তাহলে আমরা মোবাইলগুলো পকেট থেকে তুলে কি করবো ?আমাদের কাছ থেকে কেউ কিনবে?  কথাটা সত্যি। প্রচুর মোবাইল ফোন প্রতিদিনই ,এই রাজাদের মত পকেটমাররা হাতসাফাই করে। কিন্তু সেগুলো কিছু ফেরত পাওয়া যায় ।বেশিরভাগ ফেরত পাওয়া যায় না। আর যার জন্য রাজারা হাত সাফাই করে এবং রাজাদের চক্রে যারা আইএমইআই নাম্বার পরিবর্তন করে এবং পুরনো মোবাইল ফোন বিক্রি করে। তারাও একই উপায়ে জীবন ধারণ করে বেঁচে আছে।  কিন্তু ওরা এখন গভীর সংকটে পড়েছে।ট্রেন বন্ধ, বাস বন্ধ, রাস্তায় লোকজন বেরোনো বন্ধ ।তাহলে হাতসাফাই টাও বেশ কয়েক দিন বন্ধ আছে। রোজগার নেই। ওই হাতসাফাই ছাড়া জীবনে আর কিছু শেখেনি এরা। পাড়ায় যারা মাতব্বর  থেকে প্রতিবেশী সবাই জানে এরা চোর।

 বিভিন্ন ধরনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন খুলে মানুষের নাকি ভবিষ্যৎ গড়ে দেয় অনেকে। কেউ কি একবারও ভেবেছিল, কোনদিন লকডাউন হলে এই চোর-ডাকাতরা কি করে খাবে? আবার অন্যদিকে বলা যায় ,বোধহয় এদের এটাই শুধরে যাওয়ার সময়।  আগে পাড়ায় যদি পুলিশ সুলভ শৌচালয়ে আসতো, রাজারা পাঁচিল টপকে দৌড়ে পালাতো। এখন রাজা ,গুড্ডু, আলতাফ প্রত্যেকে পাড়াতে বসে আছে। পুলিশ খুঁজতে আসে না ।কেউ এসে বলে না মোবাইল পাওয়া যাবে?  শুধু অপেক্ষা লক ডাউন উঠে যাওয়ার।

SHANKU SANTRA

Published by:Piya Banerjee
First published: