টাটকা মাছ কিনে বাড়ি ফিরতেই গিন্নির কাছে ধমক, কীভাবে চোখে ধুলো দিয়ে দোকানিরা বেচছেন পচা মাছ, জানেন ?

টাটকা মাছ কিনে বাড়ি ফিরতেই গিন্নির কাছে ধমক, কীভাবে চোখে ধুলো দিয়ে দোকানিরা বেচছেন পচা মাছ, জানেন ?

ইলিশ থেকে পমপ্লেট সব মাছই কিনতে গিয়ে ঠকে যাচ্ছেন না তো !

  • Share this:

Shanku Santra 

#কলকাতা: আপনি মাছ কিনতে বাজারে গেলেন। বাজার থেকে পমপ্লেট কিংবা ইলিশ ।আবার হতেও পারে অন্য কোন মাছ বেশ শখ করে কিনে আনলেন। মাছ কেনার সময় বেশ টিপে দেখলেন। মাছটা বেশ শক্ত রয়েছে। বাড়িতে এসে বললেন সুন্দর করে রান্না করতে। কিন্তু বাড়ির বৌদি কিংবা রান্নার মাসি যখন মাছটাকে কড়াইতে তুলল, তারপরে আপনার ওপর শুরু হলো তর্জন-গর্জন। আপনি তো ভালো করে দেখে অনেক টাকা দিয়ে মাছটা কিনেছেন। আপনিও বুঝিয়ে বললেন মাছতো দেখেই এনেছেন! তাহলে সমস্যাটা হলো কোথায়?

এইভাবে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত প্রচুর ক্রেতা মাছের বাজারে গিয়ে ঠকছে। আসল ঘটনা যদি জানেন তাহলে আপনাদের মস্তিষ্ক বিভ্রম হতে পারে। আসলে আপনি জানেনই না পচা মাছ কিনে আপনি বাড়িতে এনেছিলেন। তাতে অবশ্য আপনার দোষ নেই। আপনিতো মাছটাকে উল্টেপাল্টে ,গাল হা করে, কানকো দেখে এনেছিলেন। আবার আঙুল দিয়ে টিপেও দেখেছিলেন ।মাছে আঙ্গুলের টিপছে বসছে না।

বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা নরম মাছ বা পচনশীল মাছ কিনে থাকেন। সেই মাছ অসাধু উপায়ে শক্ত করে বিক্রি করেন বাজারে। কিন্তু সেটার কি ভাবে ?

IMG-20191209-WA0080

গোপন সূত্র অনুযায়ী এই ধরনের কাজগুলো হয় গড়িয়া স্টেশন, যাদবপুর, বেহালা, হাওড়া বিভিন্ন মাছের বাজারে। এরা মূলত নোনা জলের মাছ এই ভাবে প্রস্তুত করে থাকে। ইলিশ ,পমপ্লেট এছাড়াও অন্যান্য মাছ।

এই পদ্ধতিকে বলা হয় ,বিজ্ঞানের ভাষায় ‘এন্ডো অসমোসিস'। অর্থাৎ বাইরের অন্য পদার্থ মাছের শরীরে প্রবেশ করানো। এই অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা প্রথমে একটি বড় পাত্র নেন ।যার মধ্যে জল এবং জলের মধ্যে মেশায় সোডা ও কয়েকটি লেবুর রস। ওই দ্রবণের মধ্যে পচা মাছ গুলো ডুবিয়ে দেয়। সেই মাছ ঘন্টাখানেক ডোবানো থাকে। তারপর মাছগুলো শক্ত এবং চকচকে হয়ে যায় ও পসরা সাজিয়ে বাজারে বসে পড়ে।

IMG-20191209-WA0082

মৎস্য বিজ্ঞানীদের ভাষায় মাছের ত্বক বা চামড়া কে বলা হয় সেমি-পারমিয়েবল মেমব্রেন। যার কাজ ব্যাপন প্রক্রিয়া কে সাহায্য করা। বিশেষ করে নদীর মাছ যখন জল থেকে ডাঙায় আসে তারপর শরীর থেকে সোডিয়াম বেরিয়ে যেতে থাকে। যার ফলে আস্তে আস্তে মাছের কোষে পচন ধরে। ওই জলের মধ্যে যখন ,পচা মাছ দিচ্ছে তখন মাছের ত্বক দিয়ে আবার শরীরের মধ্যে প্রবেশ করছে সোডিয়াম।আর লেবুর রস মানে সাইট্রিক এসিড। যার কাজ ভেতরে খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলোকে পুনরায় পচাতে সাহায্য না করা এবং মাছের প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লেবুর রস মানুষের শরীরে ক্ষতি করে না।

   কেন্দ্রীয় মৎস্য শিক্ষা সংস্থান এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক বিজয় কালি মহাপাত্রের কথায় ' সঠিক পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ করা উচিত। আর এই অসৎ পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ করলে মাছের মধ্যে সোডিয়াম অর্থাৎ ডিটারজেন্ট থাকছে। যার ফলে এটি কারসিনোজেনিক এর কাজ করে। মানুষের ক্যান্সার হতে পারে, লিভারের রোগ হতে পারে, পাকস্থলীতে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটা এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভ করবার জন্য করে থাকেন। এটা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এতে মানুষের ক্ষতি হয়।‘

এবার তো বুঝলেন ইলিশ মাছ কিভাবে পমফ্লেট মাছ ,একটা দোকানে অনেক টাকা দাম আর একটা দোকানে অনেক কম টাকাতে বিক্রি হয়। তার কারণ কি!

আরও দেখুন

First published: 10:35:56 PM Dec 09, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर