corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে কীভাবে সময় কাটানো উচিত পড়ুয়াদের?মনোবল বাড়াতে স্কুলের চিঠি

লকডাউনে কীভাবে সময় কাটানো উচিত পড়ুয়াদের?মনোবল বাড়াতে স্কুলের চিঠি
  • Share this:

#কলকাতা: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে প্রায় দু’মাস হতে চলল রাজ্যের স্কুলগুলি বন্ধ রয়েছে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পাশাপাশি লকডাউনের জেরে বাড়ির বাইরে বেরোতে পারছেন না স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। টানা লকডাউন ও স্কুল বন্ধের জেরে ছাত্রছাত্রীরা মানসিক অবসাদের শিকার হতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন সমীক্ষায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। কিন্তু পড়ুয়ারা যাতে দীর্ঘ সময় ধরে চলা লকডাউনের জেরে মানসিক অবসাদের শিকার না হয় তার জন্য মনোবল চাঙ্গা করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল দক্ষিণ কলকাতার পাঠভবন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল।

পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ১৫০০শো পড়ুয়াকে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা চিঠি পাঠিয়ে এই সময় কী করা উচিত কীভাবে নিজেদের মনোবল চাঙ্গা করা উচিত তা নিয়ে টিপস দিলেন। যাকে কার্যত মডেল হিসেবেই বলছেন রাজ্যের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। এ প্রসঙ্গে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শুভ্রা গুপ্ত বলেন " আমরা দেখছি দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পড়াশোনা নিয়েও আমরা অনেক হোম টাস্ক দিয়েছি। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় ধরে  ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়িতে বসে আর কী কী করা উচিত তার প্রয়োজনিয়তা উপলব্ধি করেই আমরা এই চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে এখন চলছে অনলাইনে ক্লাস। কিন্তু সেই অনলাইনে ক্লাস হলেও বাড়িতে বসেই করতে হচ্ছে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের। মনোবিদরা বলছেন অনলাইনে ক্লাস করলেও বাড়ির বাইরে না বেরোনো, বন্ধুদের সঙ্গে না কথা বলায় শিশুমনে মানসিক অবসাদ তৈরি হতে পারে। সেজন্যই এপ্রিল মাসের শেষের দিকে নিজের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের চিঠি পাঠিয়ে মনোবল চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিলেন দক্ষিণ কলকাতার পাঠভবন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শুভ্রা গুপ্ত।

স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে তিনি বলেছেন  " আমাদের মাথাতে নানা কারণে নানা রকম চিন্তাভাবনা আসছে এই সময় যা সাধারণত আসতো না। এইসব ভাবনাকে প্রকাশ করে ফেলা জরুরি। এই সমস্ত ভাবা  প্রকাশ করার জন্য আমরা বিভিন্ন মাধ্যমের ব্যবহার করতে পারি। লিখে ফেলতে পারি প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা ডায়েরিতে। গল্প-প্রবন্ধ চিঠি কবিতা লিখে যেতে পারি একে একে। ছবির সাহায্য করে এই সময়ের অভিজ্ঞতাকে তুলে রাখতে পারি। ছোট ছোট নাটক বানিয়ে ফেলা যায়। অথবা স্বল্পদৈর্ঘ্যের সিনেমা। মনের সমস্ত আবেগ অনুভূতিকে এইসব চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের সময়কে ভরিয়ে তুলতে পারি। নাচ,গান, আবৃত্তি পাঠ ইত্যাদি পছন্দের বিষয় নিয়োজিত থেকে নিজেদের আটকে রাখার কষ্টকে লাঘব করে ফেলতে পারি। সেটাই হবে এই সময়ে যথার্থ উদযাপন।"

স্কুলপড়ুয়াদের কাছে এই চিঠি দিয়ে কার্যত দৃষ্টান্ত স্থাপন করল দক্ষিন কলকাতার এই স্কুল। এ প্রসঙ্গে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শুভ্রা গুপ্ত বলেন " ইতিমধ্যেই স্কুলের অনেক ছাত্র-ছাত্রী স্বল্প পরিসরের সিনেমা বা নাটক তৈরি করে ফেলেছেন। আমরা চাই ছাত্র-ছাত্রীরা এই ধরনের উদ্যোগ বাড়িতে বসেই করুক।" পাঠভবনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপক অভীক মজুমদার৷ তিনি বলছেন " বর্তমান সময় শিশুরা বাড়িতে বসেই কাটাচ্ছেন। স্কুলগুলি তরফে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটা অত্যন্ত ইতিবাচক হবে ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের কাছে। এর ফলে শিশুরা বা পড়ুয়ারা  মানসিক অবসাদকে দূরে রেখে নিজেদের এই কাজগুলিতে মেতে থাকতে পারবেন৷ ভাল থাকার রসদ খুঁজে পাবেন।"

First published: May 3, 2020, 1:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर