অস্ত্রোপচারের পর ৩ বার ছিঁড়ে গেল নিম্নমানের সুতো, NRS-এ মৃত্যু ১০ দিনের শিশুর

অস্ত্রোপচারের পর ৩ বার ছিঁড়ে গেল নিম্নমানের সুতো, NRS-এ মৃত্যু ১০ দিনের শিশুর
প্রতীকী চিত্র ৷

শিশুটির পায়ুদ্বার বা মলদ্বার সঠিক ভাবে তৈরি না হওয়ায় চিকিৎসকরা তার মলদ্বারের অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। ৫ দিনের মধ্যে ৩ বার অস্ত্রোপচার হয় তার ৷ তিনবারই ছিঁড়ে যায় সুতো ৷

  • Share this:

ABHIJIT CHANDA

#কলকাতা: ১০ দিনের সদ্যোজাতের মৃত্যু। অস্ত্রোপচারের পর নিম্নমানের সুতো দিয়ে ক্ষতস্থান সেলাই এর অভিযোগ উঠল শিয়ালদহের এনআরএস হাসপাতালের বিরুদ্ধে ৷ 

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা লিভিয়া পারভীন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিয়ালদহ এনআরএস হাসপাতালে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন লিভিয়া পারভীন। জন্মের পর শিশুর ওজন স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই কম ছিল। প্রিম্যাচিওর বা অপরিণত অবস্থায় শিশুটির জন্ম হয়। শিশুটির পায়ুদ্বার বা মলদ্বার সঠিক ভাবে তৈরি না হওয়ায় চিকিৎসকরা তার মলদ্বারের অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। জন্মানোর কিছুক্ষণ পরেই তার অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে সুতো ছিঁড়ে যাওয়ায় ৫ দিন পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি আবারও অস্ত্রোপচার করতে হয়। এখানেই শেষ নয়, ফের সুতো বিভ্রাট। সুতো ছিঁড়ে গেলে ২৬ তারিখ, বুধবার তৃতীয়বারের জন্য অস্ত্রোপচার করতে হয়। তিন, তিনবার অস্ত্রোপচারের ধকল নিতে পারেনি শিশুটি। অভিযোগ, তার পরিবারের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এই সদ্যজাতের পরিবার।

মৃত শিশুটির বাবা মুর্তাজা হোসেনের অভিযোগ, তাঁরা বারবার চিকিৎসকদের অনুরোধ করেন। কিন্তু কোথা থেকে যে কী হয়ে গেল, কিছুই বোঝা গেল না। এমনকি দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁরা বাইরে থেকে অনেক দাম দিয়ে সুতো কিনে এনে দেন। তারপরও এই ঘটনা। মোরতাজার বক্তব্য, আরও অনেক শিশুরই এই একই সমস্যা হয়েছে, এর দায় কে নেবে? মুর্তাজা হোসেন একা নয়। আরও বেশ কয়েকজন সদ্যোজাতর পরিবার একই অভিযোগ তোলেন। যাদবপুরের বাসিন্দা অভিজিৎ মন্ডলের ১২ দিনের পুত্র সন্তান. তাঁর ক্ষেত্রেও অস্ত্রোপচারের পর সুতো ছিঁড়ে যাওয়ার অভিযোগ। তাঁর সন্তানও আশঙ্কাজনক অবস্থায় এনআরএস হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। অভিজিতবাবুর বক্তব্য. আমরা চিকিৎসকদেরকে জানিয়েছি ৷ কিন্তু তারা কী করেছে তা বোঝা যাচ্ছে না ৷  খুব ভয় হচ্ছে ।

খারাপ মানের সুতো সরবরাহ নিয়ে এন আর এস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বা শিশু শল্য বিভাগের চিকিৎসকরা।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কোন সংস্থা এই সুতো সরবরাহ করেছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারই মাঝে এই সদ্যজাতের মৃত্যু আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যদি এই সংস্থা দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তাদের কালো তালিকাভুক্ত তো করাই হবে, তার সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগও জানানো হবে। যদিও এক সদ্যোজাতের মৃত্যু এবং আরও বেশ কয়েকজনের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার প্রতিকার কি আদৌ সম্ভব? এই শিশুরা কি দোষ করল যে তাদের জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গেই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হল। তার দায় কে নেবে?

 
First published: February 28, 2020, 12:08 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर