corona virus btn
corona virus btn
Loading

বিদ্যুৎহীন হাসপাতাল, গরমে কষ্ট প্রসূতিদের   

বিদ্যুৎহীন হাসপাতাল, গরমে কষ্ট প্রসূতিদের    

হাসি মুখে লড়াই চালাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা

  • Share this:

#কাকদ্বীপ: বিদ্যুৎ নেই। জেনারেটর চালাতে ভরসা জ্বালানি। যদিও খরচ সীমাবদ্ধ। তাই আসন্ন প্রসবা বা সদ্য মা হওয়া মায়েদের গরম সহ্য করেই থাকতে হচ্ছে হাসপাতালে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার নামখানার দ্বারিকনগর গ্রামীণ হাসপাতালের দশা এখন এরকমই। তবে হাল ছাড়তে নারাজ চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যেকেই। সমস্ত প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে লড়াই করছেন তারা।

১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে কাকদ্বীপ থেকে বকখালি যাওয়ার পথে হরিপুর মোড়। সেখান থেকে বাঁ দিক ধরে ২ কিলোমিটার এগোলেই দ্বারিকনগর গ্রামীণ হাসপাতাল। এলাকার একমাত্র হাসপাতাল যেখানে বিদুৎস্পৃষ্ট হওয়া থেকে সাপে কামড়ানো বা প্রসব যন্ত্রণায় কাতর রোগী প্রতি মুহূর্তে আসতে থাকে। ৩৪ শয্যার এই হাসপাতালে, ৪টি শয্যা রয়েছে জরুরি পরিষেবার জন্য। এছাড়া এক্স-রে, অপারেশন থিয়েটার, লেবার রুম সব কিছুই আছে। ফলে এই হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের মধ্যে পড়ে। আমফান ঝড়ের প্রভাবে, দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিস্তীর্ণ অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে নামখানার এই হাসপাতালেও তার প্রভাব পড়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে চার চিকিৎসক ও ১৬ স্বাস্থ্যকর্মী অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আপাতত এই হাসপাতালে ২২ জন রোগী আছেন। তার মধ্যে ১৫ জন আসন্ন প্রসবা ও সদ্য মা হয়েছেন এমন রোগী আছেন। ঝড় থেমে গিয়ে ভীষণ গরম পড়েছে। ফলে দিনের বেলায় এই গরমে রোগীদেরও বেশ কষ্ট করেই থাকতে হচ্ছে।

সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছেন বিএমওএইচ। ঝড়ের আগে থেকেই তিনি জেনারেটর, জ্বালানি সহ নানা ব্যবস্থা করেও রেখেছিলেন। কিন্তু তার আক্ষেপ, "দিনের ২৪ ঘন্টা জেনারেটর চালিয়ে রাখতে গেলে যে টাকা খরচ হবে সেই টাকা নেই। ফলে বাধ্য হয়েই শুধু রাতের বেলা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।" তবে আপৎকালীন ব্যবস্থায় দিনের বেলাতেও জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। যদি লেবার রুমের প্রয়োজন হয় তখন চালানো হচ্ছে জেনারেটর। ফলে দিনের বেলা অধিকাংশ সময়েই বিদ্যুৎ না থাকা অবস্থাতেই থাকতে হচ্ছে তাদের।

বিএমওএইচ গুরুপদ মন্ডল জানালেন, এই হাসপাতালে যক্ষার ভ্যাকসিন রাখা আছে। আছে হেপাটাইটিস ও পোলিও ভ্যাকসিন। এছাড়া আছে সাপে কাটা রুগীদের জন্য অ্যান্টি ভেনাম। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন এই সমস্ত ভ্যাকসিন সাধারণত ২ থেকে ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে রাখতে হয়। যেহেতু বিদ্যুৎ নেই। ফলে হাসপাতালের ফ্রিজে এই সব ওষুধ রাখার সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শুধু এখানেই নয় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে ফ্রেজারগঞ্জ, মৌশুনি, নারায়ণপুর সহ একাধিক জায়গায়। সমস্যা হচ্ছে জেনেও চুপ রয়েছেন রোগী ও তাদের পরিবার। প্রসূতিরা জানিয়েছেন, সমস্যা হলেও কিছু করার নেই। এটাই একমাত্র হাসপাতাল। আর হাজারো অসুবিধার মধ্যে যে ভাবে চিকিৎসক সহ হাসপাতালের সমস্ত কর্মীরা কাজ করছেন তা এককথায় অনবদ্য বলে দাবি তাদের। ফলে হাজারো প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে রেখে লড়াই চালাচ্ছে দ্বারিকনগর হাসপাতাল।

ABIR GHOSHAL

Published by: Ananya Chakraborty
First published: May 25, 2020, 4:08 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर