corona virus btn
corona virus btn
Loading

১৮৯৯-এ কলকাতায় শুরু বিদ্যুৎ যুগ, ব্রিটিশ আমল থেকে আলোর দায়িত্বে CESC

১৮৯৯-এ কলকাতায় শুরু বিদ্যুৎ যুগ, ব্রিটিশ আমল থেকে আলোর দায়িত্বে CESC

আমফানের জেরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে তাদের ভূমিকাই এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে

  • Share this:

#কলকাতা: তখন ব্রিটিশ আমল। ১৮৯৯ সাল। কলকাতায় শুরু বিদ্যুৎ যুগ। শহরে প্রথম আলো। আর তখন থেকে কলকাতায় সিইএসসির শুরু। কলকাতা তখন দেখত চাঁঁদের আলোয়। আর ছিল গ্যাস বাতি। যাতে কলকাতা ছিল মজে।

কী বাহার গ্যাসের আলো। বিজ্ঞান প্রভাবে বটে ভাল কীর্তি প্রকাশ হল। রাজধানী কলকাতা শহর এতদিনে জাঁকাইল। পথে ঘাটে আসতে যেতে দিবা-রাতে ভাবনা গেল।

গ্যাসবাতি নিয়ে এই বিস্ময়ের মাঝেই বিজ্ঞান আলো জ্বালল। কলকাতায় প্রথম আলো। প্রথম বিদ্যুতের আলো। ১৮৭৯ সালের ২৪ জুলাই, P W ফ্লিউরি অ্যান্ড কোম্পানি এ শহরে প্রথম বিদ্যুতের আলো জ্বালে। বছর দুয়েক পরে ১৮৮১ সালের ৩০ জুন গার্ডেনরিচের কটন মিলে ৩৬টি বাল্ব জ্বালায় 'দে শীল অ্যান্ড কোম্পানি' এ সবই চলছিল পরীক্ষামূলকভাবে। বড় পরিবর্তনটা এল আর কয়েক বছর পরে। ততদিনে টমাস আলভা এডিসনের সৌজন্যে ইংল্যান্ড ও আমেরিকার ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো।

কলকাতা তখন শুধু ভারতের রাজধানীই নয়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর। লন্ডনের পরেই কলকাতা। তাই এ শহরেও বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটিশ সরকার। সেই মতো ১৮৯৫ সালে তৈরি করা হয় Calcutta Electric Lighting Act। ১৮৯৭ সালের ৭ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের 'দি ইন্ডিয়ান ইলেক্ট্রিক কোম্পানি লিমিটেড'-এর পক্ষে 'কিলবার্ন অ্যান্ড কোম্পানি' কলকাতায় বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইসেন্স পায়। ৫৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ২১ বছরের বরাত। ১ হাজার পাউন্ডের মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু। মাস খানেকের মধ্যেই তা ফুলেফেঁপে ১ লক্ষ পাউন্ড। বদলে যায় নামও। নতুন নাম হয় CESC LTD - ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন লিমিটেড। কোম্পানির কাজকর্ম অবশ্য চলত লন্ডন থেকেই। মধ্য কলকাতার প্রিন্সেপ স্ট্রিটের কাছে ইমামবাগ লেনে প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করা হয়। ১৮৯৯ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে কলকাতা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। প্রথম বিদ্যুতের আলো জ্বলে হ্যারিসন রোডে। এখনকার মহাত্মা গান্ধি রোড। তখন কলকাতায় বিদ্যুতের দাম ছিল লন্ডনের মতোই। প্রতি ইউনিট এক টাকা।

বিদ্যুত এসে কলকাতাকে অনেকটা বদলে দেয়। হাত পাখার জায়গা নেয় ইলেকট্রিক ফ্যান। ঘোড়ায় ট্রানা ট্রামের বদলে শুরু হয় বিদ্যুৎচালিত ট্রাম।

কিন্তু, তখনও অনেকে বিদ্যুতের বদলে গ্যাসবাতির পক্ষে রায় দেন। ১৯১৩ সালে কলকাতা শহরে বসে ঘরোয়া ভোটাভুটির আসর। গুরুসদয় দত্ত রোডের নাম তখন ছিল বালিগঞ্জ স্টোর রোড। সেখানে, গ্যাসবাতি নাকি বিজলিবাতি, এ নিয়ে হয় ভোটাভুটি। তাতে বিজলিবাতি হেরে যায়। উজ্জ্বলতা এবং খরচের দিক থেকে গ্যাসবাতি অনেকের পছন্দ।

তবে, ততদিনে সকলে এটাও বুঝে যান, কলকাতা শহরে নতুন যুগ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিদ্যুতের যুগ। ১৯৩৩ সালে সিইএসসি-র সদর দফতর কলকাতায় চলে আসে। ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস। ১৯৭০ সাল কোম্পানির নিয়ন্ত্রণও কলকাতার হাতে। ১৯৭৮ সালে নাম বদলে হয় 'দ্য ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন (ইন্ডিয়া) লিমিটেড'। ১৯৮৯ সাল থেকে কলকাতায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব নেয় রমাপ্রসাদ গোয়েঙ্কার RPG GROUP, তারা সংস্থার নাম বদলে রাখে 'সিইএসসি লিমিটেড'।

কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনার বেশ কিছু এলাকায় এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ করে সিইএসসি। আমফানের জেরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে তাদের ভূমিকাই এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

Published by: Ananya Chakraborty
First published: May 28, 2020, 12:29 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर