‘এখনই নিয়োগ নয়’, হাইকোর্টের নির্দেশে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে জোর ধাক্কা

  • Share this:

    #কলকাতা: ফের জোর ধাক্কা রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৷ এখনই শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না উচ্চপ্রাথমিকে ৷ সোমবার উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের নির্দেশ মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ নয় ৷ অর্থাৎ এখনই শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না রাজ্যের উচ্চপ্রাথমিক স্তরে ৷

    স্কুল সাার্ভিস কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২ জুলাই উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ হলেও এখনই নিয়োগ নয় ৷ উচ্চপ্রাথমিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মামলায় হাইকোর্টের এদিনের নির্দেশের পর উচ্চপ্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ভবিষ্যৎ আপাতত অন্ধকারে ৷

    ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার্স এডুকেশনের নির্দেশিকায় বলা আছে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অগ্রাধিকার পাবেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা। অথচ, মঙ্গলবার থেকে রাজ্য জুড়ে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে যে পার্সোনালিটি টেস্ট বা ইন্টারভিউ শুরু হচ্ছে, তাতে প্রশিক্ষপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার না দিয়ে অনেক প্রশিক্ষণহীনদের ডাকা হয়েছে।

    ইন্টারভিউতে কাদের ডাকা হয়েছে বিধি মেনে তার কোনও তালিকাও প্রকাশ করেনি স্কুল সার্ভিস কমিশন ৷ পাল্টা সওয়ালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, মঙ্গলবার থেকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়েছে ২৪ হাজার ৫৬৪ জনকে। কোনও প্রশিক্ষণহীনকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়নি। এরপরই মামলাকারীদের আইনজীবী সুবীর সান্যাল, আয়েষা খাতুন নামে এক প্রশিক্ষণহীন ইতিহাসের নিয়োগপ্রার্থী কীভাবে ইন্টারভিউয়ে ডাক পেলেন তা নথি দেখিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে এসএসসির আইনজীবী সুতনু পাত্র বলেন, অ্যাক্সিডেন্টাল কিছু হয়ে থাকতে পারে। তবে, প্রশিক্ষণহীনরা ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে গেলেও তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

    এরপর বিচারপতি নির্দেশ দেন, হাইকোর্টের নির্দেশের কপি হাতে পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ইন্টারভিউয়ের ক্যাটিগরি ভিত্তিক তালিকা কমিশনকে তাদের সাইটে প্রকাশ করতে হবে। ৪ জুলাই পর্যন্ত ইন্টারভিউ নেওয়া যাবে না।

    কমিশনের আইনজীবীরা তখন মরিয়া হয়ে এই স্থগিতাদেশ আটকানোর চেষ্টা করেন। শেষপর্যন্ত, ইন্টারভিউয়ের উপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন বিচারপতি। মঙ্গলবার থেকে ইন্টারভিউ চলবে। তবে, সফল প্রার্থীদের কোনও তালিকা প্রকাশ করা যাবে না। নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনও মেধা তালিকাও প্রকাশ করা যাবে না। এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগও করা যাবে না বলে নির্দেশ দেন বিচারপতি।

    First published: