বাজেট অধিবেশনেও কি সংঘাত? রাজ্যের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবেন ধনখড়!  চিন্তিত সরকার? 

বাজেট অধিবেশনেও কি সংঘাত? রাজ্যের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবেন ধনখড়!  চিন্তিত সরকার? 

বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভূমিকা কী হবে?  ফের কি সংঘাতে জড়াবেন ধনকড়?  জল্পনা শুরু রাজনৈতিক মহলে 

  • Share this:

#কলকাতা: রাজ্যের আসন্ন বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালকে নিয়ে মাথাব্যাথা বাড়ছে! রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত যেভাবে দিন দিন বেড়ে চলেছে তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে শাসক দল। কারণ, আগামী মাসের শেষে রাজ্য সরকারকে বাজেট পাশ করাতে হবে বিধানসভায়। প্রথানুসারে, বাজেট অধিবেশন দিয়ে বিধানসভায় শুরু হয় নতুন বছরের অধিবেশন। আর, সেই অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভার সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে রাজ্য সরকারের লিখিত বাজেট পাঠ করেন রাজ্যপাল। অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষনের ওপর আলোচনা ও বিতর্ক হয়। সেই আলোচনা বা বিতর্কে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধীরাও।  গোল বেঁধেছে সেখানেই।  রাজ্য -রাজ্যপাল সংঘাতের আবহে বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের থাকার সম্ভবনা কতটা?  এই  নিয়ে ইতিমধ্যেই  চর্চা শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী শিবিরে।

দুই শিবিরের নেতারাই মনে করেন,  বাজেট অধিবেশনে এসে স্রেফ সরকারের লিখে দেওয়া বাজেট বক্তৃতা প্রথা মাফিক পাঠ করে চলে যাবার লোক নন এই রাজ্যপাল। গোলমাল কিছু একটা বাঁধবেই। শাসক দলের এক ডাকসাইটে মন্ত্রী যার সঙ্গেও রাজ্যপালের বাকযুদ্ধ লেগেই রয়ছে, তিনিও মনে করেন, বাজেট অধিবেশনকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারকে আরো একবার বেকায়দায় ফেলার এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন ধনখড়।

যদিও,বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষের দাবি, " তেমনটা হবে না। কারন, রাজ্যপাল সরকারের লিখিত বাজেট বক্তৃতা পাঠ করে বিদায় নেন। এটাই সাংবিধানিক রীতি। রাজ্যপাল সবসময়ে বলেন, তিনি সংবিধান মেনে চলেন। ফলে,  অসাংবিধানিক কিছু করা সম্ভব নয়। আর, তা হলেও, বিধানসভায় তা রেকর্ড হবে না। " কিন্তু, বাম পরিষদীয় নেতা সূজন চক্রবর্তীর মতে, ''বিধানসভার রেকর্ড নিয়ে সাধারন মানুষের কী আসে যায়? সরকারের লেখা বক্তৃতার শেষে তিনি আলাদা করে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করতেই পারেন। প্রচার মাধ্যমের উপস্থিতিতে তার গুরুত্ব কম নয়। "বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ''সরকার শেষ পর্যন্ত রাজ্যপালকে ছাড়াই বাজেট অধিবেশন সেরে ফেললে খুব একটা আশ্চর্য হব না।  কারণ, বিধানসভার অধিবেশনের নিয়ম অনুযায়ী, গত ৯ জানুয়ারি একদিনের বিশেষ অধিবেশনের পর অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষনা করেননি অধ্যক্ষ।

সেক্ষেত্রে এক মাসের ব্যবধানে ফের বিধানসভা চালু করতে রাজ্যপালের অনুমোদন লাগে না। ফলে, চাইলে রাজ্যপালকে না ডেকেই বাজেট পাশ করিয়ে নিতে পারে সরকার। " তবে, বিধানসভা পর্যবেক্ষকদের মতে, সেটা সহজ নয়। এমন কিছু হলে তা হবে নজিরবিহীন। আর, তারপর রাজ্যপালও হাতগুটিয়ে বসে থাকবেন না। সেক্ষেত্রে, রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত তীব্র আকার নিতে পারে। সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়াও অসম্ভব কিছু নয়।  সব মিলিয়ে বিধানসভার আসন্ন বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে রাজ্য - রাজ্যপাল সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

First published: January 22, 2020, 5:06 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर