corona virus btn
corona virus btn
Loading

উচ্চশিক্ষার নয়া বিধিতে সরগরম, বিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা রাজ্যপালের

উচ্চশিক্ষার নয়া বিধিতে সরগরম, বিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা রাজ্যপালের
রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়

যে বিধির বসে উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে বারবারই রাজ্যপালের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল, এবার সেই বিধির বৈধতা নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রশ্ন তুলে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

  • Share this:

#কলকাতা: উপাচার্যদের সঙ্গে রাজ্যপাল কী ভাবে আলোচনায় যেতে পারেন তা নিয়ে বারবার উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে রাজভবন। সম্প্রতি উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে রাজ্যপালের ক্ষমতা নিয়ে একটি বিধি জারি করা হয়েছে। এবার সেই বিধির সারবত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

বৃহস্পতিবার  সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যকে তোপ দাগেন তিনি। উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে জারি করা বিধিকে কেন্দ্র করেই বারবার রাজ্যপালকে উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়, উপাচার্যদের সঙ্গে সরাসরি রাজ্যপাল আলোচনায় যেতে পারবেন না। আলোচনায় যেতে হলে উচ্চ শিক্ষা দফতর মারফত জানাতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাও করতে হবে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে উচ্চশিক্ষা দফতরের জারি করা এই বিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,  "উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে যে বিধি জারির কথা বলা হয়েছে, সেই বিধি বিধানসভায় সভায় পেশ করা হয়নি।আমার কাছে পাঠানো হয়নি। আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। সেই বিধির কার্যকারিতা কীভাবে হল?"

মূলত উপাচার্যদের নিয়ে ভার্চুয়াল কনফারেন্স করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও বুধবার সেই ভার্চুয়াল কনফারেন্সে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছাড়া আর কোনও বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য যোগ দেননি। যা নিয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে কড়া ভাষায় রাজ্যকে আক্রমণ করেন। যদিও উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফেও ট্যুইট করে রাজ্যপালের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় রাজ্যপালের সাংবাদিক সম্মেলন শুরুর কয়েক মিনিট বাদেই।

ট্যুইট করে রাজ্যপালকে দেওয়া ভার্চুয়াল কনফারেন্স নিয়ে চিঠির উত্তর প্রকাশ করা হয় উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রাজ্যপালকে উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনায় যেতে গেলে বিধিমোতাবেক উচ্চ শিক্ষা দফতরের সঙ্গে আলোচনা বা পরামর্শ করেই যেতে হবে। রাজ্যপাল যদি তা না করেন তাহলে তা আইন লঙ্ঘিত হবে।

এবার বিধি নিয়েই রাজ্য রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে। যে বিধির বসে উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে বারবারই রাজ্যপালের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল, এবার সেই বিধির বৈধতা নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রশ্ন তুলে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে উপাচার্যদের ভার্চুয়াল কনফারেন্সে যোগ না দেওয়াকে "দুর্ভাগ্যজনক" বলে মন্তব্য করেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল অভিযোগ করেন,  "১৫ জুলাই উপাচার্যদের নিয়ে ভার্চুয়াল কনফারেন্স করার কথা বলেছিলাম। রাজ্য জানিয়েছে আমাকে কোনও আইন নেই রাজ্যপালের ভার্চুয়াল কনফারেন্স করার। এটা আমাকে অবাক করেছে।"

তবে এখানেই শুধু থেমে থাকেননি রাজ্যপাল। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "রাজনৈতিক ভাবে আমাদের রাজ্যের শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। এটা আমাদের রাজ্যের পক্ষে দুর্ভাগ্যজনক। রাজনৈতিক অনুমোদন নিয়েই শিক্ষা চলছে আমাদের রাজ্যে। আমি যখন শিক্ষা নিয়ে কোনও ইস্যু তুলি, জানি না আমাকে কেন এড়িয়ে যাওয়া হয়?"

তবে রাজ্যপালের কড়াভাষায় সাংবাদিক সম্মেলন শুরুর কয়েক মিনিট বাদেই পাল্টা টুইট হয় রাজ্য উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে। ট্যুইট করে উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে রাজ্যপালকে জানিয়ে দেওয়া হয়,  " উচ্চ শিক্ষা দফতর সম্মানজনক ভাবেই রাজ্যপালকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে উপাচার্যদের নিয়ে এইভাবে মিটিং করা রাজ্যপালের আইনের বাইরে।"

তবে শুধু ট্যুইট নয়, ভার্চুয়াল কনফারেন্স নিয়ে রাজ্যের রাজ্যপালের সচিবকে যে উত্তর দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার সেই চিঠিও প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত চিঠিতে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে রাজ্যপালের সচিবকে জানানো হয়, "রাজ্য অবাক রাজ্যপালের এই ধরনের ট্যুইট দেখে কেননা রাজ্যের কোনও পরিকল্পনা ছিল না কোন ভিডিও কনফারেন্স করার রাজ্যপাল-উপাচার্যদের মধ্যে।"

চিঠিতে উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে জারি করা বিধির প্রসঙ্গ তুলে আরও বলা হয়,  "আচার্য কে যা যোগাযোগ উপাচার্যদের সঙ্গে করতে হবে তা উচ্চ শিক্ষা দফতর মারফত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আলাদা ভাবে আচার্যের কোন সচিবালয় থাকবে না। আচার্যের অফিস থেকেও ছাত্রদের কোনো অভিযোগ আসেনি উচ্চ শিক্ষা দফতরের কাছে। আইন অনুযায়ী আচার্যের কাছে যদি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ এসে থাকে তাহলে সেটি তদন্ত বা কারণ খোঁজার জন্য উচ্চশিক্ষা দফতর পাঠাতে হবে সে ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা দফতর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।"

ভার্চুয়াল কনফারেন্স করার আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালকে চিঠি পাঠান। মুখ্যমন্ত্রী ও সেই চিঠিতে ভার্চুয়াল কনফারেন্স নিয়ে কার্যত তার অবস্থান স্পষ্ট করে দেন রাজ্যপালকে। তবে রাজ্যপালের ট্যুইটের প্রেক্ষিতে উচ্চ শিক্ষা দফতরের পাল্টা চিঠি কার্যত এই সংঘাতকে আরও বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 SOMRAJ BANDOPADHYAY

Published by: Arindam Gupta
First published: July 16, 2020, 2:48 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर