কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল পত্রাঘাত চরমে!"সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য বাংলা,রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক" মন্তব্য ধনখড়ের

মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল পত্রাঘাত চরমে!

রাজভবনের দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সংবাদ সম্মেলনের বেশিরভাগই রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সরব হলেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি থেকে শুরু করে কোন কোন প্রসঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি থেকে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল সে বিষয়েও এদিন প্রকাশ্যে আনলেন রাজ্যপাল।

  • Share this:

#কলকাতা: চিঠি পাল্টা চিঠিতে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। সাতপাতার উত্তরে চারপাতা ৷ শনিবার দীর্ঘ সাত পাতার চিঠি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঠিয়েছিলেন রাজ্যপালকে। সোমবার রাজভবনে তার পাল্টা ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট ধরে সাংবাদিক সম্মেলন এবং তার পরে চার পাতার লম্বা চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি সেই চিঠির ট্যুইট করে জনসমক্ষে আনলেন রাজ্যপাল।

রাজভবনের দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সংবাদ সম্মেলনের বেশিরভাগই রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সরব হলেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি থেকে শুরু করে কোন কোন প্রসঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি থেকে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল সে বিষয়েও এদিন প্রকাশ্যে আনলেন রাজ্যপাল। শুধু তাই নয় রাজভবনের বরাদ্দ অর্থ নবান্ন মঞ্জুর করছে না বলেও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন রাজ্যপাল।

সোমবারের দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই রাজ্য পুলিশের ডিজি থেকে কী জানতে চেয়েছিলেন সেই বিষয়ে বিশদ তথ্য দেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন " আমি ডিজিপিকে দুটি চিঠি বা কমিউনিকেশন করেছিলাম। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অবনতি, খুন ভুল মামলা আইনের শাসন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এই বিষয়ে পুলিশের কি ভূমিকা সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম।পুলিশ রাজনৈতিক ভূমিকাতে কাজ করছে বলেও বলেছিলাম। কিন্তু তার উত্তরে ডিজিটাল লিখেছে সাংবিধানিক প্রধানকে তার এত উদ্ধত্য আসে কি করে? আমি বিস্মিত। রাজ্যপাল হিসেবে তাকে বলেছিল সমস্যার কথা কিন্তু তিনি যে উত্তর দিয়েছেন তাঁর সঙ্গে একমত নয় রাজ্যপাল।ডিজিপি খুবই উদাসীন।"

এদিন রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে একের পর এক অভিযোগে সরব হন রাজ্যপাল। তিনি বলেন " রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বোমাবাজি চলছে। শাসকদলের সন্ত্রাস চলছে। সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য বাংলা। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হার্মাদ রা যেন ক্ষমতার অলিন্দে না আসে।" পুলিশের বিরুদ্ধে দিন এক হাত নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রাজ্যপাল বলেন " নিজেদের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ পুলিশ। রাজ্যের শাসক দলের হয়ে কাজ করছে পুলিশ। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কাজ করছে পুলিশ। গণতন্ত্র ও পুলিশরাজ একসঙ্গে চলতে পারে না।"

সোমবারের সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রীকে সাংবিধানিক অধিকার তথা সাংবিধানিক কর্তব্য মনে করিয়ে দেন রাজ্যপাল। শুধু তাই নয় রাজ্যপালের হাতে সংবিধান অনুযায়ী কি কি ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে সেই বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে কার্যত মনে করিয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন " রাজ্যের সিদ্ধান্ত রাজ্যপাল কে জানানো কর্তব্য। এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব পর মধ্যে পড়ে। বারবার বহু তথ্য চেয়েছি রাজ্য এড়িয়ে গেছে। শিল্প সম্মেলন গণবণ্টন নিয়ে কোনো তথ্য পায়নি।"রাজ্যপাল কার্যত অভিযোগ করেন "মানুষের কাছে তথ্য লুকাতে এই গোপনীয়তা।" শুধু তাই নয় বিরোধী দলনেতা কেউ তিনি গুরুত্ব দেন না বলে ও রাজ্যপাল অভিযোগে শামিল হন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শ্রীরামপুর থানার এক ঘটনা উদাহরণ প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে বলেন "রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকেও উত্তর দেন না মুখ্যমন্ত্রী।" মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এদিন সংবাদমাধ্যমে কথা না বলা এমনকি মানুষের কাছে যেতেও বারণ করেছেন বলে অভিযোগ আনেন রাজ্যপাল।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে রাজভবনের আর্থিক কোষাগার ক্রমশই কমছে চলেছে এবং তা নিয়ে নবান্নের কোন হেলদোল নেই বলেও সরব হন রাজ্যপাল। তিনি বলেন " রাজভবনে মাত্র একজন আইএএস এবং একজন ডব্লিউ বিসিএস অফিসার নিয়ে কাজ চলছে। এটা রাজভবনের মাপকাঠি হতে পারে না। রাজভবনের বরাদ্দ টাকা নবান্নের থেকে চাওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছে বর্তমান প্যানডেমিক পরিস্থিতিতে বাজেটে তারা কাটছাঁট করছেন তাই এখনই দেওয়া সম্ভব নয়।" কার্যত অভিযোগের সুরে এদিন বলেন " শাসক দলের নেতাদের মধ্যে থেকে টাকা উড়ছে। আর রাজভবনের জন্য টাকা নেই বলে বলা হচ্ছে।"

 সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: September 28, 2020, 6:56 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर