corona virus btn
corona virus btn
Loading

বিক্ষোভের জেরে যাদবপুরের কোর্ট বৈঠকে ঢুকতেই পারলেন না রাজ্যপাল, বিশেষ সমাবর্তন স্থগিত, শুধুমাত্র ডিগ্রি পাবেন পড়ুয়ারা

বিক্ষোভের জেরে যাদবপুরের কোর্ট বৈঠকে ঢুকতেই পারলেন না রাজ্যপাল, বিশেষ সমাবর্তন স্থগিত, শুধুমাত্র ডিগ্রি পাবেন পড়ুয়ারা

সোমবার কোর্ট বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন রাজ্যপাল। বিক্ষোভের মুখে পড়ে কোর্ট বৈঠকে যোগ না দিয়েই ফিরতে হল রাজ্যপালকে। বিশেষ সমাবর্তন নয়, শুধুমাত্র পড়ুয়াদের ডিগ্রী প্রদানের জন্য বার্ষিক সমাবর্তন করা হচ্ছে মঙ্গলবার ৷

  • Share this:

SOMRAJ BANDOPADHYAY #কলকাতা: ইসির সিদ্ধান্ত মেনে মঙ্গলবারই সমাবর্তন হবে যাদবপুরে। অবশেষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে সমাবর্তন। কিন্তু বিশেষ সমাবর্তন নয়, শুধুমাত্র পড়ুয়াদের ডিগ্রী প্রদানের জন্য বার্ষিক সমাবর্তন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু হবে অনুষ্ঠান। কোর্ট বৈঠক শেষ করে সাংবাদিকদের এমনই জানালেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। সোমবার কোর্ট বৈঠকে যোগ দিতে ক্যাম্পাসে এলেও কর্মচারী ও পড়ুয়াদের বিক্ষোভ শেষমেষ বৈঠকে যোগ না দিয়েই ফিরত হল রাজ্যপালকে। সোমবারের কোর্ট বৈঠকে রাজ্যপালের পাঠানো চিঠিতে ইসির বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তের কথাও কার্যত খারিজ হয়ে গেল। সাংবাদিক সম্মেলন করে উপাচার্য জানিয়ে দিলেন মঙ্গলবার সমাবর্তনে পড়ুয়াদের আইনসম্মত ডিগ্রী দেওয়া হবে। এদিকে সোমবার সারা দিনই ক্যাম্পাসে রাজ্যপালের আশা নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকল পড়ুয়াদের। রবিবার রাজ্যপাল নিজেই ট্যুইট করে জানিয়েছিলেন সোমবার কোর্টের বৈঠকে যোগ দিতে যাদবপুরে যাবেন। যোগ দিতে ক্যাম্পাসে এলেও শেষমেষ তা হলো না। যদিও তিনি ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে উপাচার্যকে ফোন করে রাজভবনে কোর্ট বৈঠক করার কথা বললে ও কার্যত খারিজ করে দেন কোর্টের সদস্যরা। বৈঠকে উপস্থিত থেকেও কোর্টে সদস্যরা জানান, ওই বৈঠক শুরু হওয়ার পর আর কোন ভাবে সেই বৈঠক বাতিল করা যায় না। শুধু তাই নয় রাজ্যপাল কোর্ট বৈঠক ডাকতে পারেন না। তা আইন সম্মত নয়। শেষমেষ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই শেষে হয় কোট বৈঠক। এ প্রসঙ্গে উপাচার্য সুরঞ্জন দাস জানান, ‘রাজ্যপাল ফোন করেছিলেন। উনি রাজভবনে কোট বৈঠক করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু কোর্টের সদস্যরা একমত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই কোট বৈঠক করা হল ৷’

এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভের আশঙ্কা ছিল। সোমবার রাজ্যপালের আসার আগে থেকেই বিক্ষোভের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন পড়ুয়ারা। ক্যাম্পাসে ঢোকার সময় থেকেই রাজ্যপালকে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন ছাত্র-ছাত্রীরা। কালো পতাকা ও কালো ব্যাচ পড়ে গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান। পরে গো ব্যাক স্লোগান দিতেই থাকে তারা। পড়ুয়ারা দাবি করতে থাকেন তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে রাজ্যপাল কে। বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষমেষ রাজ্যপাল তাদের সঙ্গে কথা বলবে বলে অরবিন্দ ভবনে ঢুকলেও তৃণমূল পন্থী কর্মচারীদের বাধা পেয়ে শেষমেষ কোর্টের বৈঠকের ঘরে ঢুকতে পারেননি তিনি। পাশেই কর্মচারীদের জন্য থাকা একটি ঘরে ঢুকে তিনি উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়় আধিকারিকদের সঙ্গেও আলোচনা করে নেন। বৈঠক শেষে ছাত্রদের দাবি মত ছাত্রদের সঙ্গেও গাড়ি বারান্দাতেই আলোচনায় বসেন। পড়ুয়াদের তরফে এনআরসি এবং নাগরিকত্ব  আইন নিয়ে প্রশ্ন করা হয় রাজ্যপালকে। যদিও রাজ্যপালের উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেননি পড়ুয়ারা। রাজ্যপাল বেরোনোর সময় বিক্ষোভও দেখান তারা। তবে কোর্ট বৈঠকে যোগ না দিয়েই ফিরতে হয় রাজ্যপালকে। যদিও তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সমাবর্তনেও তিনি আসবেন। এদিকে উপাচার্য জানিয়েছেন ‘কাল পড়ুয়াদের যে ডিগ্রী দেওয়া হবে তা আইন সম্মতই।’ তিনি এও জানান, ‘রাজ্যপাল চাইলে আসতে পারেন কাল। উনি এলে সমাবর্তনের সভাপতিত্ব করতেও পারেন।’ তবে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে এলে ফের পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে। কেননা ইতিমধ্যেই রাজ্যপালকে সমাবর্তনে বয়কটের ডাক দিয়েছে পড়ুয়ারা।

Published by: Elina Datta
First published: December 23, 2019, 9:51 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर