Home /News /kolkata /
যারা হিংসা ছড়াচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিক রাজ্য: রাজ্যপাল

যারা হিংসা ছড়াচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিক রাজ্য: রাজ্যপাল

হাওড়ার ডোমজুড়ের সলপ মোড়ে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলে। কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে দেখানো হয় প্রতিবাদ।

  • Share this:

ভেঙ্কটেশ্বর লাহিড়ি

হিংসা সমস্যা কমায় না, বরং সমস্যা বাড়ায়। ক্যাব নিয়ে রাজনীতি না করার আবেদন রাজ্যপালের। 'যারা হিংসা ছড়াচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিক রাজ্য সরকার,' বললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রাজ্যপালের কথায়, 'ক্যাব এখন আইনে পরিণত হয়েছে। আইন সকলের মেনে চলা উচিত।

নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলা। আইন বিরোধী আন্দোলনের উত্তাপ যে এ রাজ্যে ক্রমশ বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যেই আন্দোলনকে ঘিরে তেতে উঠেছে মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, হুগলি সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। বিক্ষোভ,অবরোধ তাণ্ডবে রীতিমতো ফুঁসছে রাজ্য। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মুর্শিদাবাদ জেলায। পূর্ব রেলের লালগোলা এবং কৃষ্ণপুর স্টেশনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় একাধিক ট্রেন। আগুন লাগানো হয় লালগোলা স্টেশনে। একই সঙ্গে সুতিতে বাস পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সামশেরগঞ্জ থানায় হামলা চালানো হয়।

রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেও গোটা পরিস্থিতিকে প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছে রাজ্যের বিরোধী শিবির।

এ দিন বিকেলে লালগোলার আগের স্টেশন কৃষ্ণপুরে থামিয়ে দেওয়া হয় একটি ট্রেনকে। যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে সেই ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ফাঁকা ট্রেনও জ্বলতে দেখা যায়। লালগোলা স্টেশনে আগুন লাগানো হয় রেলের সম্পত্তিতে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কৃষ্ণপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ৫টি রেকে আগুন লাগানো হয়েছে। এ ছাড়াও লালগোলা এবং কৃষ্ণপুর স্টেশনেও আগুন লাগানো হয়।

আইন নিজের হাতে নিলে কড়া ব্যবস্থা, কেউ ছাড় পাবে না বলে ইতিমধ্যেই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় বিক্ষোভ, রেল-সড়ক অবরোধ করা হয়। CAA আইনের প্রতিবাদে শুক্রবার থেকেই রাজ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অশান্ত হয়ে উঠেছিল হাওড়ার উলুবেড়িয়া, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা-সহ রাজ্যের বেশ কিছু অঞ্চল। বিক্ষোভের আঁচ পড়ে খাস কলকাতাতেও। রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতেই তৃণমূল সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

হাওড়ার ডোমজুড়ের সলপ মোড়ে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলে। কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে দেখানো হয় প্রতিবাদ। বেশ কয়েকটি সরকারি বাসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা লাঠিচার্জও করতে হয় পুলিশকে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের সুতিতে তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।

একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব রেলের বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন অবরোধ করা হয়। শিয়ালদহ ডিভিশনের বারাসত-হাসনাবাদ শাখায় বিক্ষোভের জেরে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় সকাল। হাসনাবাদ শাখার সোঁদালিয়া-লেবুতলা স্টেশনের মাঝে অবরোধ করা হয়। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা লাইনে রেলের ওভারহেড তারে কলাপাতা ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। আজিমগঞ্জ শাখাতেও বিক্ষোভের জেরে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে বহু ট্রেন। যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। বাতিল করা হয় একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। কিছু ট্রেন অল্প দূরত্বে চালানো হয়। আজিমগঞ্জ শাখার বাসুদেবপুরে হল্ট স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। খড়্গপুর শাখার সাঁকরাইল স্টেশনে বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। শুক্রবার উলুবেড়িয়া স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালান বিক্ষোভকারীরা। লণ্ডভণ্ড করে দেওয়া হয়ে গোটা স্টেশন চত্বর। টিকিট কাউন্টার বন্ধ থাকায় এ দিন চরম অসুবিধায় পড়েন সাধারণ ও নিত্যযাত্রীরা। অস্থায়ী টিকিট কাউন্টার খুলে সাময়িক ভাবে টিকিট দেওয়ার কাজ চালানো হয় বলে দক্ষিণ-পূর্ব রেল সূত্রে খবর। বীরভূমের মুরারইতে রেল অবরোধের জেরে ডাউন শতাব্দী এক্সপ্রেস বাঁশলই স্টেশনে আটকে পড়ে। এরই সঙ্গে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে তিন ঘণ্টা ধরে অবরোধ চালানো হয়।

সাগরগিঘির পোড়াডাঙা স্টেশনে ৪ ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার দু’টি জায়গায় দেড় ঘণ্টা ধরে অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রাজ্যের মানুষকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সাইন্স সিটি ময়দানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলেন," আইন সকলের মেনে চলা উচিত। হিংসা সমাধানের পথ নয়"। নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে সওয়াল করে রাজ্যপালের মন্তব্য, যারা হিংসা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত রাজ্য সরকারের। আন্দোলনের নামে তান্ডব যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে রীতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যপাল বলেন, ক্যাব এখন আইনে পরিণত হয়েছে। তাই এই আইন মানা উচিত সবারই। প্রসঙ্গত এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নতুন করে আর অশান্তির কোনও খবর নেই । তবে বেশ কিছু ট্রেন বাতিল এবং ঘুরপথে চালানোয় সমস্যায় পড়েছেন রেল যাত্রীরা।

Published by:Arindam Gupta
First published:

Tags: CAA, Citizenship Amendment Act, Governor Jagdeep Dhankhar

পরবর্তী খবর