বিধানসভার অলিন্দে 'নিঃসঙ্গ' রাজ্যপাল

বিধানসভার অলিন্দে 'নিঃসঙ্গ' রাজ্যপাল
Photo Courtesy: PTI

বন্ধ লোহার গেট। পিছনে বিধানসভা। সদনের দিকে পিছন করে দাঁড়িয়ে ক্রিম রঙের সাফারি পরিহিত এক প্রৌঢ়, আর, তাঁকে ঘিরে সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরা...

  • Share this:
ARUP DUTTA
#কলকাতা: বন্ধ লোহার গেট। পিছনে বিধানসভা। সদনের দিকে পিছন করে দাঁড়িয়ে ক্রিম রঙের সাফারি পরিহিত এক প্রৌঢ়, আর, তাঁকে ঘিরে সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরা। আজ সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ, এটাই ছিল বিধানসভার বাইরের ছবি।  স্যুট পরিহিত এই ব্যক্তি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। আচমকা নয়, বলে কয়েই তিনি এসেছিলেন।  সরকারি ভাবে তাঁর ঘোষিত উদ্দেশ্য বিধানসভা পরিদর্শন। সেটা সময়মতো জানিয়েও ছিলেন বিধানসভাকে, অন্তত সে রকমটাই দাবি করেছেন ধনকড়। তবু, কেন এমন হল?
যদিও, বিধানসভার সচিবালয়ের দাবি, প্রথমে রাজ্যপালের বিধানসভা পরিদর্শনে আসার প্রস্তাবে সায় দিলেও, পরে তা বদল করা হয়। বিধানসভা মুলতুবি থাকায় অধ্যক্ষ্য বিমান বন্দোপাধ্যায়ের থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায়, বিধানসভা থেকে রাজ্যপালের অফিসকে জানানো হয় পরিদর্শন স্থগিত রাখতে। কিন্তু, তা সত্বেও রাজ্যপাল এলেন।
প্রশ্ন কেন এলেন?  তাহলে কি রাজ্যপালই দায়ী?  নাকি সায় দিয়েও পরে, সিদ্ধান্ত বদল করে বিধানসভা যে রাজ্যপালকে ব্রাত্য করতে চাইছিল, শাসকের সেই কৌশলকে ভেস্তে দিতেই সশরীরে এমন আগমন ধনকড়ের? কিন্তু, বিরোধীরা তো বটেই,  শাসক দলেরও অনেকে আড়ালে আবডালে যে প্রশ্ন তুলছে রাজ্যপালের আসার খবর থাকা সত্বেও, কেন খোলা হল না রাজ্যপালের জন্য নিদৃষ্ট গেট? কেনই বা রাজ্যপালকে স্বাগত জানাতে রইলেন না বিধানসভার অধ্যক্ষ্য?  নিদেনপক্ষে সচিব ! কেনই বা একজন বিধানসভার আধিকারিককেও দায়িত্ব দেওয়া গেল না রাজ্যপালকে বিধানসভা ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য?  রাজভবন আর বিধানসভার চেনা রাজনীতির পরিসর পেরিয়ে এই সব প্রশ্নই আজ দিনভোর তাড়া করে বেড়াল বিধানসভার অন্দর থেকে আম জনতার দরবারে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর আজ বিধানসভাতেও শাসক দলের কাছে ব্রাত্য রইলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। কার্যত বিনা নিমন্ত্রনেই এসে ঘুরে গেলেন বিধানসভা। গেট দিয়ে হেঁটে ঢুকে বিধানসভার গ্রন্থাগারের দিকে গেলেও শেষমেশ বন্ধ দরজার কথা শুনে নিরাশ হয়ে চলে আসেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকে। প্রথম বিধানসভায় আসা নবিশের মত বিধানসভার অলিন্দে অলিন্দে ঘুরে বেড়ালেন তিনি। অপার কৌতুহলী চোখ নিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন মন্ত্রীদের নাম ফলক। গথিক স্থাপত্যের সাক্ষীবাহি মিনারের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন কয়েক মূহুর্ত। সরকারি মুখ্য সচেতকের অফিসে কথাবার্তার আওয়াজ পেয়ে দরজা ঠেলে উঁকি দিলেন ভেতরে। খোঁজ নিলেন মুখ্য সচেতকের। পরক্ষণেই, আবার স্পীকারের দরজায়। চারপাশ, তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে চড়ে বসলেন লিফটে। আবারও শুরু সেই অলিন্দ বিহার। নাম ফলক খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে এগোনো।
হঠাৎই ঘরের দরজায় মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ফলক দেখে একটু থামলেন। ঠোঁটের কোনে খেলিয়ে গেল একটু হাসি। সঙ্গের অফিসারকে কিছু একটা জিজ্ঞেস করলেন। বোঝা গেল না। মনে হল মজাই পেয়েছেন। বিধানসভার দোতলার পশ্চিমের বারান্দায় তখন ডিসেম্বরের শীতের অলস রোদ্দুর। তার মধ্য দিয়ে হেঁটে চলেছেন রাজ্যপাল। গন্তব্য সচিবের ঘর। সেখানে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হল তাকে। শুনলেন, জরুরি কাজে বিধানসভার বাইরে যেতে হয়েছে সচিবকে। আবারও ঢু মারতে উঁকি মারলেন ডেপুটির ঘরে। না এখানেও কেউ নেই। ইতস্তত, এদিক ওদিক করে আবার নেমে এলেন নিচে। বিধানসভার ভেতরে তখন অপক্ষায় তাঁর কনভয়। একজন কে যেন বলল, '' এই তো আসছেন। যাক আজকের মত চুকল। এবার বাকিটা মিডিয়া ওলারা বুঝে নিক।''
বাইরে তখন মিডিয়ার সাজসাজ রব। তিনি এলেন। দেখলেন। কিন্তু, জয় না পরাজয়, কি হল, কার হল,  সেটা বোঝা গেল না। আচমকা এত লোক দেখে দাঁড়িয়ে যাওয়া পথ চলতি এক মানুষ, সেই প্রশ্ন শুনে মাথা নাড়িয়ে চলে গেলেন... যেন বলতে চাইলেন, পেঁয়াজের দাম দেড়শ ছুঁয়েছে, টেট দিয়ে চাকরি নেই, ধর্ণায় পার্শ শিক্ষকরা, দেশজুড়ে বিলগ্নিকরণের ঢেউ... তার মধ্যে এসবের মানে কি?
First published: December 6, 2019, 12:03 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर