যাদবপুরে বাবুলকে ঘিরে ধুন্ধুমার, একাধিকবার রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী ফোনে কথা, ক্যাম্পাসে পুলিশ আসুক চাননি মমতা

যাদবপুরে বাবুলকে ঘিরে ধুন্ধুমার, একাধিকবার রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী ফোনে কথা, ক্যাম্পাসে পুলিশ আসুক চাননি মমতা

সূত্রের খবর, পুলিশি হস্তক্ষেপের দাবি করেন রাজ্যপাল তথা আচার্য। কিন্তু, ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢোকাতে রাজি হননি মুখ্যমন্ত্রী।

  • Share this:

#কলকাতা: যাদবপুরের আঁচ রাজ্যের একেবারে শীর্ষস্তরে। রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রধানকে একাধিকবার ফোনে কথা বলতে হল। সূত্রের খবর, পুলিশি হস্তক্ষেপের দাবি করেন রাজ্যপাল তথা আচার্য। কিন্তু, ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢোকাতে রাজি হননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অনুরোধ করেন রাজ্যপাল যেন রাজভবনেই থাকেন। ক্যাম্পাসে না যান। যদিও, সন্ধে সাতটা নাগাদ যাদবপুরে পৌঁছে যান রাজ্যপাল। তাঁর গাড়িতেই ক্যাম্পাস থেকে বেরোন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে নিগ্রহের ঘটনা ঘিরে হুলুস্থুল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে একাধিকবার ফোনে কথা বলতে হয়। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ৬টা ২০ নাগাদ দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন রাজ্যপাল। কিন্তু, ফোন বেজে যায়। মুখ্যমন্ত্রী তখন ধরতে পারেননি। এরপর, ৬টা তিরিশ নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা ফোন করেন রাজ্যপালকে। তখন দু’জনের মধ্যে কথা হয়। রাজ্যপাল জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে ঘিরে যাদবপুরে কীভাবে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। বলেন, আপনি ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকিয়ে ব্যবস্থা নিন।

এরপর ৬টা ৩৮ ও চল্লিশে ফের দু’জনের মধ্যে ফোনে কথা হয়। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে বলেন উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢোকানো যায় না। তাছাড়া, পড়ুয়াদের বিক্ষোভ রুখতে পুলিশ এ ভাবে হস্তক্ষেপও করতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে অনুরোধ করেন, ‘আপনি রাজভবনে থাকুন। আমি সমাধানের চেষ্টা করছি। ’

এর জবাবে রাজ্যপাল বলেন, উপাচার্য তো অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। আমি আচার্য হিসেবে বলছি, ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢোকান। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী তাতেও রাজি হননি। মমতা বলেন, ‘এ ভাবে বললেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢোকানো যায় না। আপনি বিষয়টি বুঝুন। ’

এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য সুরঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন আচার্য তথা রাজ্যপাল। সূত্রের খবর, ফোনে মুখ্যমন্ত্রীকে জগদীপ ধনখড় বলেন, ‘উপাচার্য নিজের দায়িত্বপালনে ব্যর্থ। তিনি বামমনস্ক। আপনি তাঁকে এখনই উপাচার্য পদ থেকে সরান।’ সূত্রের খবর, জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ ভাবে কোনও উপাচার্যকে সরানো যায় না। এর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। তাছাড়া, সুরঞ্জন দাস দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন।’ মুখ্যমন্ত্রী আবারও রাজ্যপালের কাছে রাজভবনেই থাকার আবেদন করেন ৷ কিন্তু, রাজ্যপাল রাজভবনে বসে থাকেননি। সন্ধে সাতটা নাগাদ তিনি পৌঁছে যান যাদবপুর ক্যাম্পাসে। তাঁর গাড়িতেই ক্যাম্পাস থেকে বের হন বাবুল সুপ্রিয়।

First published: 10:58:53 PM Sep 19, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर