corona virus btn
corona virus btn
Loading

গড়িয়াহাট খুন: হৃদস্পদন সচল থাকাকালীন জীবন্ত অবস্থাতেই কাটা হয় গলা!

গড়িয়াহাট খুন: হৃদস্পদন সচল থাকাকালীন জীবন্ত অবস্থাতেই কাটা হয় গলা!
  • Share this:

Sujay Pal

#কলকাতা: গড়িয়াহাটে বৃদ্ধা খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য এলো পুলিশের কাছে। আততায়ী এতটাই নৃশংস ছিল যে বৃদ্ধা ঊর্মিলা ঝুন্ড (৭০)-এর হৃদযন্ত্র সচল থাকাকালীনই প্রথমে তাঁর গলা কেটে শরীর থেকে আলাদা করে দিয়েছিল। যে কারণে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে সারা ঘরে ছড়িয়ে পরে। তারপরও শান্ত হয়নি আততায়ী। একই অস্ত্র দিয়ে পেট এফোঁড় ওফোঁড়  করে দেয়। তারপর শরীরের একাধিক জায়গায় প্রায় ২০ বার কোপানো হয়।

বৃহস্পতিবার ২পি, গড়িয়াহাটের গরচা ফার্স্ট লেনের বাসিন্দা ঊর্মিলার দেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই নিয়ে আসা হয় এসএসকেএম হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিনের চিকিৎসক বিশ্বনাথ কাহালিকে। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, যেভাবে খুন করা হয়েছে তাকে বলা হয় 'পেরিমর্টেম-ইন-নেচার'। অর্থাৎ শরীরে প্রাণ থাকতেই গলা কাটা হয়। তারপর সেই অস্ত্র দিয়েই পেট ফেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও শরীরে সব মিলিয়ে প্রায় ২০টি আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হবে। তাতেই স্পষ্ট হবে কিভাবে মৃত্যু হয়েছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সংজ্ঞাহীন করে তারপর খুন করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই গড়িয়াহাট থানায় খুনের মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, পরিবারের কেউই এই ঘটনায় জড়িত। কারণ পরিবারের একাধিক সদস্যের কথায় অসঙ্গতি মিলেছে। সম্পত্তি জনিত কারণেই খুন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত পুলিশ। কিন্তু এত আক্রোশ কিসের? তা ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের। পুরনো কোনও শত্রুতার জন্যই কি এভাবে নৃশংসভাবে খুন? উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ইতিমধ্যে বৃদ্ধার বড় বৌমা, নাতনি, ছোট ছেলে, বৌমা, পরিচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে লালবাজার। বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের রাতে নাতনির নাম ধরে বারবার ডাকছিলেন বৃদ্ধা। কেন নাতনিকে ডেকেছিলেন তিনি তা ভাবাচ্ছে পুলিশকে। কারণ ছোট ছেলে শিলিগুড়ি যাওয়ার পর থেকে নাতনি রোজ রাতের খাবার দিতে যেত। তাহলে কি খুনের সময় নাতনির সাহায্য চাইছিলেন বৃদ্ধা? সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। তদন্তে উঠে এসেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার পরেই খুন করা হয়েছে। তারপর রক্ত ধুয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় আততায়ী। এক্ষেত্রে তিন থেকে চারজন এই খুনের ঘটনায় জড়িত বলেই নিশ্চিত পুলিশ। খুনের পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাজরা রোডে এসে গাড়ি ধরে পালিয়ে যায়। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে অভিযুক্তদের খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে লালবাজারের গোয়েন্দাদের আশ্বাস খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে সব অভিযুক্তকে ৷

পুলিশের কাছে পড়শিরা জানিয়েছেন, ভোর চারটের সময়ও ঊর্মিলার ঘরে আলো জ্বলতে দেখা যায়। ধারাল অস্ত্র দিয়ে বৃদ্ধার উপর হামলা চালায় একাধিক দুষ্কৃতী। খুনের পর দেহ থেকে আলাদা করা হয় মাথা। গত পঞ্চাশ বছর গড়চার ফার্স্ট লেনের এই বাড়িতেই ভাড়া থাকত ঝুন্ড পরিবার। তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আগেই মারা গিয়েছেন। এক ছেলে থাকেন শিলিগুড়িতে। মা ঊর্মিলার কাছেই থাকত ছোট ছেলে। বুধবার আত্মীয়ের বিয়েতে গিয়েছিলেন তিনি। প্রতিবেশীদের দাবি, রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বৃদ্ধার জন্য খাবার এসেছিল বড় ছেলের বাড়ি থেকে। তাহলে কেন খুন ?

নৃশংসতা দেখে পুলিশের অনুমান সম্পত্তির লোভে খুন করা হতে পারে সত্তর বছরের এই বৃদ্ধাকে। এমনকি পুরনো আক্রোশ থেকেও তাঁর উপর হামলা হতে পারে।

তবে পুলিশ নিশ্চিত এই ঘটনায় যুক্ত একাধিক আততায়ী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের নজরে বাড়ি লাগোয়া এই মদের দোকান। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ রাত পর্যন্ত এই দোকানে আনাগোনা থাকে বহিরাগতদের।

Published by: Simli Raha
First published: December 13, 2019, 3:35 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर