corona virus btn
corona virus btn
Loading

মিড ডে মিলের রাঁধুনি থেকে গ্রন্থাগারিক!‌ দলিত লেখক মনোরঞ্জন খুঁজে পেলেন নতুন পেশা

মিড ডে মিলের রাঁধুনি থেকে গ্রন্থাগারিক!‌ দলিত লেখক মনোরঞ্জন খুঁজে পেলেন নতুন পেশা
Image: Facebook

একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী- বাংলার দিদিকে । যিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে আমার সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন।

  • Share this:

#‌কলকাতা:‌মনোরঞ্জন ব্যপারী, একসময়ে মহাশ্বেতা দেবীর সান্নিধ্যে এসে শুরু করেছিলেন এক নতুন জীবন। রিক্সা চালক পেশা ছিল, আর লিখতে শুরু করেছিলেন দলিত জীবনের কথা। সেই পথ পেরিয়ে এতদিন তিনি কাজ করতে একটি স্কুলে মিড ডে মিলের রাঁধুনি হিসাবে। কিন্তু বয়সের ভার শরীর আর সহায়তা করছিল না। তাই সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন, এমন এক কাজ খুঁজে দেওয়ার, যাতে এতদিন বাদে শরীরটা একটু বিশ্রাম পায়। দলিত আন্দোলনের মুখ, সাহিত্যিকের কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার থেকে একটি লাইব্রেরিতে কাজ করবেন মনোরঞ্জন ব্যপারী।

একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, শুভচিন্তক, সহায়তাকারী, দরদি, বন্ধু, আপনজন –

আপনাদের সবাইকে জানাই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা । একটা ভয়াবহ অন্ধকার দুঃসহ কালপর্ব পেরিয়ে আগামীকাল আমার জীবনে একটা নতুন সূর্য উঠবে। সেই যে ছোট্ট ডোবাটা জলাভাবে শুকিয়ে গিয়েছিল, জলচর প্রান ত্রাহি ত্রাহি করছিল- কাল ঝর ঝর করে বৃষ্টি নামবে ।

বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা আমার সর্বশেষ সংবাদ জানিয়ে দিয়েছে । আপনারা এতক্ষণে সবাই সেটা জেনেও গিয়েছেন । আপনারা পাশে পিছনে সঙ্গে সাথে না থাকলে একটা দীর্ঘ, একক, কষ্টকর, এই দুর্গম যাত্রা-কিছুতে সফল হতে পারতো না । “না খাওয়া মানুষ কোন লড়াই জিততে পারে না”। অনেক মাস কোন মাইনে পাই না। লম্বা লকডাউন। যখন ঘরে তণ্ডুল ফুরিয়ে গেছে, আপনাদের জন্যই আমাকে অনাহারে থাকতে হয়নি । রসদ ফুরিয়ে যাবার আগেই আপনাদের সহায়তা আমার কাছে পৌছে দিয়েছেন । সবাইকে আমার আবার অজস্র ধন্যবাদ ।

ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী- বাংলার দিদিকে । যিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে আমার সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। তেমন কোন বড় কিছু চাহিদা তো আমার ছিল না। প্রেশার সুগার আছে, দুই হাটুতে নি–রিপ্লেসমেন্ট হয়েছে । সেই শারীরিক কারনে উনুনের কাছ থেকে সরিয়ে একটু হালকা কাজ চেয়েছিলাম । এই তুচ্ছ অনুরোধ নিয়ে বছরের পর বছর আমি এ অফিস থেকে ও অফিসে ছুটে বেড়িয়েছি। কেউ কিছু করবে না, কেউ কারও জন্য কিছু করে না-আমি জানতাম ।

আমার আস্থা বিশ্বাস ভরসা ছিল একমাত্র মাননীয় দিদির উপরে । মনে প্রানে বিশ্বাস রাখতাম, যদি কেউ একবার আমার কথা ওনার কাছে জানায় - মুহুর্তে আমার অতি তুচ্ছ সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে । যে কঠিন লড়াই লড়ে আমি এই জায়গায় পৌঁছেছি, যে কারনে আমাকে আজ সারাভারত চেনে- সে সব শুনলে উনি আমার সহায়তা না করে কিছুতে পারবেন না ।

ওনার চারপাশে যারা ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকে এমন শতেকজন আমাকে চেনে- জানে । অনেকে অনেক কথা বলে ওনার কাছে। খালি আমার কথাটাই বলতে ভুলে যায়। অনেককে বলেছিলাম- আমাকে একবার দিদির কাছে নিয়ে যাও। মাত্র এক মিনিট কথা বলতে পারলে আমি আসন্ন বিপদ থেকে বেঁচে যেতে পারবো । …কেউ নিয়ে যায়নি । আমার নিজের কোন ক্ষমতা ছিল না– ওনার কাছে পৌছাবার । একবার ওনার সঙ্গে আমার দিল্লি এয়ারপোর্টে দেখা হয়েছিল । প্রণাম করেছিলাম। কথা বলতে পারিনি। আমাদের প্লেনে ওঠার তাড়া ছিল । আজ এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাদা- আমার খবর দিদির কানে পৌছে দিয়েছেন । যার ফলে আমার সব সমস্যা থেকে মুক্তি মিলে গেছে। অনেক আগেই এটা হয়ে যেতো যদি একবার ওনার সামনে যেতে পারতাম কোনভাবে ।

সে হোক দেরি- তবু হয়েছে যে এতেই আমি ধন্য- কৃতার্থ । দূর আয়ে, পর দুরস্ত না আয়ে।

আজ এই দিনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি মাননীয় বাংলা আকাদেমির সভাপতি শাঁওলী মিত্র দিদিকে। উনি সেই ২০১৪ সাল থেকে কতশত জনকে যে আমার জন্য বলেছেন! তবু কিছুতে কিছু হচ্ছে না দেখে মানুষটা মনে খুব কষ্ট পেতেন। যা দেখে আমারই কষ্ট হতো ওনার চেয়ে বেশি । উনি কষ্ট পান আমার জন্য- এটা বোঝার পর থেকে আমি আর ওনার সামনে যাই না। দীর্ঘ দেড় বছর দেখা করিনি । এবার গিয়ে জানিয়ে আসতে হবে সুসংবাদটা।

কৃতজ্ঞতা জানাই দাদা অনন্ত আচার্যকে-। আমার জন্য উনি ছিয়াশিবার বিকাশ ভবনে গিয়েছেন । ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেছেন অফিসারের সাক্ষাৎ পাবার জন্য। কৃতজ্ঞ আমি অধ্যাপক-ভাই একরামূল হকের প্রতি। আমার একটা ভালো কিছু হোক এই জন্য পাগলের মত এক মন্ত্রীর দপ্তর থেকে আর এক মন্ত্রীর দপ্তরে দৌড়ে বেড়িয়েছে।

আর একজন মানুষকে ধন্যবাদ না জানালে চলবে না- যিনি মাননীয় আলাপন বন্দোপাধ্যায় । সেই যখন দু’‌হাজার সালে আমার প্রথম ‘বই বৃত্তের শেষ পর্ব’ বের হয়- উনি হেলেন কেলার বধির বিদ্যালয়ে যাবার পরে-এক কপি বই ওনার হাতে তুলে দিয়েছিলাম । আজ ওনার কাছ থেকেই এসেছে জীবনের সবচেয়ে ভালো সংবাদ-। খুব ভালো লাগছে । আজ সেই প্রথম চাকরি পাবার দিনের মত মন উৎফুল্ল হয়ে উঠছে। “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়ে আপনাকে হালকা কাজে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন”- যেন দৈববানীর মত ওনার গলা থেকে ভেসে এসেছিল এই বাক্যটি । ধন্যবাদ মাননীয় আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর আবার অসীম কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় দিদিকে-। আমার আত্মজীবনী- ‘অন্ধকার অতীত, আজানা ভবিষ্যৎ’ যার শেষ অংশ লেখা চলছে । তাঁর এত সুখদ পরিসমাপ্তি হবে-আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। সবাই ভালো থাকবেন । সবাইকে আবার ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানাই।

আমার হয়ে আপনারাও দিদিকে ধন্যবাদ জানান- আপনাদের লেখোয়াড়কে নব জীবন প্রদানের জন্য।’‌‌

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: August 26, 2020, 2:00 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर