• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • EXCLUSIVE: ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৪০ শতাংশ আসন খালি যাদবপুরে, দায়ী ছাত্র আন্দোলন?

EXCLUSIVE: ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৪০ শতাংশ আসন খালি যাদবপুরে, দায়ী ছাত্র আন্দোলন?

ক্যাম্পাসে সেফ হোম তৈরির ভাবনায় যাদবপুর Photo-File

ক্যাম্পাসে সেফ হোম তৈরির ভাবনায় যাদবপুর Photo-File

গত কয়েক বছর ধরেই যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং এ অনলাইন কাউন্সেলিং শেষে আসন খালি থেকে যাচ্ছিল। কিন্তু সেটি ২০০ এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল।

  • Share this:

#কলকাতা: কেন্দ্রের র‍্যাঙ্কিং-এ কোনও সময় পঞ্চম আবার কোন সময় ষষ্ঠ স্থানে থাকছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ইঞ্জিনিয়ারিং-এ দেশের ১০ বা ১১ তম স্থান ও কখনও কখনও দখল করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু সেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবার ঘটে গেল এক আশ্চর্য ঘটনা। চলতি বছরে তিন দফা অনলাইন কাউন্সেলিং শেষেও পূরণ হল না প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি আসন। যা সংখ্যার বিচারে অনেকটাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১৬ টি বিভাগের মোট ১২৫০ টিরও বেশি আসনের মধ্যে ৪৫০ টিরও বেশি আসন খালি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্যতম বিভাগ কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল, সিভিল- এর মতো বিভাগগুলিতেও ৪০ থেকে ৬০ টি আসন খালি পড়ে রয়েছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এত সংখ্যক আসন খালি থাকার পিছনে অন্যতম কারণ হিসাবে সমাজে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে তৈরি হওয়া ভাবমূর্তিকে দায়ী করছে কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন "এটা ঠিক এর পিছনে একটা অন্যতম কারণ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সমাজে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে৷ বিশেষত শহরতলির মানুষের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে। ঘনঘন আন্দোলন একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, এটা তো ঠিকই।"

গত কয়েক বছর ধরেই যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং এ অনলাইন কাউন্সেলিং শেষে আসন খালি থেকে যাচ্ছিল। কিন্তু সেটি দুশোর মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাটা অনেকটাই বেড়ে গেল। যা দেখে রীতিমতো উদ্বিগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। করোনা অতিমারির পরিস্থিতিতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অনলাইনের মাধ্যমে কাউন্সেলিং শুরু হওয়ার পর পরই অনেকটা আশার আলো দেখেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কারণ মোট  ১২৫৩ টি আসনের মধ্যে ১২৪০ জন ছাত্রছাত্রী আগ্রহ প্রকাশ করেছিল যাদবপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হওয়ার।

কিন্তু যখন ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয় তখনই ছন্দপতন ঘটে। তিন দফার অনলাইন কাউন্সেলিং শেষে দেখা যায় ৪৫৩ টির মতো আসন খালি থেকে গেছে। যা দেখে তাজ্জব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।কেন না সাম্প্রতিককালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধরনের নজির নেই। তবে এর পিছনে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ অবশ্য আইআইটি, এনআইটি-র মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের যাওয়ার প্রবণতাকেও দায়ী করছে।

এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, " আসন খালি থাকার একটা প্রধান কারণ হলো প্রথমের দিকে থাকা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে থেকে অধিকাংশই আইআইটি, এনআইটি-র মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলে যাচ্ছে। এ বছর জয়েন্টের যখন কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া হয় তারপর আইআইটিতে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেটাও একটা কারণ যাদবপুরের এত সংখ্যক আসন খালি থেকে যাওয়ার।"

তবে সেক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন ওঠে অনেক আইআইটিকে পিছনে ফেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাদের স্থান দখল করে রেখেছে সারা দেশের মধ্যে। তারপরেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেও কেন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা দেশের ৫,৬ নম্বরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে?

তবে ঘন ঘন ছাত্রদের আন্দোলনে বিরূপ প্রভাব সমাজের পড়ছে এবং তার জেরে শহরতলি বিশেষত গ্রামাঞ্চল থেকে ছাত্রছাত্রীরা পড়তে আসছে না এই যুক্তি অবশ্য মানতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একাংশ। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সংগঠনের সভাপতি পার্থপ্রতিম বিশ্বাস বলেন " দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রবণতা হয়ে যাচ্ছে যে আসন খালি থেকে যাওয়ার। এর কারণ যেহেতু ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে এখন চাকরি পাওয়ার প্রবণতা কমছে আইআইটিতে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে তার জন্যই আসন খালি থেকে যাচ্ছে। তবে এই যুক্তির সঙ্গে সহমত নই যে ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব পড়ছে সমাজে এবং তার জেরে আসন খালি থেকে যাচ্ছে।" যদিও এক্ষেত্রে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ভাস্কর গুপ্ত। তিনি বলেন " হতে পারে পাবলিক পারসেপশন একটা অন্যতম কারণ। কিন্তু এটা দীর্ঘদিনের প্রবণতা ভালো জায়গায় সুযোগ পেলে ছাত্রছাত্রীরা ভালো জায়গাতেই চলে যেতে চায়। তবে শুধুমাত্র যাদবপুর নয় একাধিক জায়গাতেই ইঞ্জিনিয়ারিং এর আসন খালি থেকে যাচ্ছে।"

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই আবেদনের ভিত্তিতে কাউন্সেলিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।৪৫০-রও বেশি আসন পূরণ করার জন্য এই প্রক্রিয়াতে কাউন্সেলিং করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এত সংখ্যক আসন বিকেন্দ্রীকরণ কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ভর্তি করলেও আদতে মানের সঙ্গে আপস করবে নাতো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ? এখন এমনটাই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে। যদিও  তা মানতে রাজি নয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে প্রথমসারির ছাত্রছাত্রীরা যাদবপুর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে আগামী দিনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরার তালিকায় নিজেদের স্থান ধরে রাখতে পারবে তো? এখন এমনটাই প্রশ্ন শিক্ষা মহলের একাংশের।

 সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by:Debamoy Ghosh
First published: