Alapan Bandopadhyay Transfer Controversy: আলাপনকে বদলির নির্দেশ কতটা সঠিক, কেন্দ্রের সমালোচনায় প্রাক্তন আমলারাও

অবসর নিলেন আলাপনের বন্দ্যোপাধ্যায়৷

এ দিনই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে অবসর নিয়ে নিয়েছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় (Alapan Bandopadhyay)৷ আগামিকাল মঙ্গলবার থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা (Chief Advisor) পদে কাজ করবেন তিনি৷

  • Share this:

    #কলকাতা: আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলির নির্দেশ কতটা বিধিসম্মত ছিল? রাজ্য এবং কেন্দ্রের প্রাক্তন আমলারা কিন্তু বলছেন, এক্ষেত্রে যে বিতর্ক হল, তা অপ্রত্যাশিতই ছিল৷ এবং এই বিতর্কের জন্য কেন্দ্রের দিকেই আঙুল তুলছেন তাঁরা৷ প্রাক্তন এই আমলাদের কেউ কেউ সরাসরি বলছেন, কেন্দ্রের নির্দেশ বিধি মেনে হয়নি৷ আর বাকিদের মতে, আইন বলে যদিও বা কেন্দ্র রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যসচিবকে ডেকে পাঠিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রেও তা নীতিবিরুদ্ধ এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কারণে৷ এই ধরনের নির্দেশ আমলাদের পক্ষে অপমানজনক বলেও সরব হয়েছেন কেন্দ্র এবং রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ পদে কাজ করে আসা ব্যক্তিরা৷

    এ দিনই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে অবসর নিয়ে নিয়েছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আগামিকাল মঙ্গলবার থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা পদে কাজ করবেন তিনি৷ এ দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই ঘোষণা করেছেন৷

    রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব অর্ধেন্দু সেনের মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে আলাপনবাবু মুখ্যমন্ত্রীকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করার পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসনকেও সঠিক দিশা দেখাতে পারবেন৷' অভিজ্ঞ এই প্রাক্তন আমলাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি কেন্দ্রের এই বদলির নির্দেশ রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই জের? রাখঢাক না করেই অর্ধেন্দুবাবু বলেন, 'আমার তো তাই মনে হয়৷ কোনও কারণ না দেখিয়ে এরকম একটা সিরিয়াস পদক্ষেপ যদি নেওয়া হয়, যা রাজ্যের প্রশাসনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো হয়, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী কেন সবাই বলবে এটা রাজনৈতিক প্রতিহংসা৷'

    আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলির নির্দেশকে কেন্দ্র করে আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার জহর সরকার৷ এ দিনও একই ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'একজন মানুষের চাকরি জীবনের শেষ দিনে আপনি কীভাবে তাঁকে বলেন যে দিল্লিতে এসে মুখটা দেখিয়ে যান৷ তাছাড়া আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোন পদে বদলি করা হয়েছে বা কী কারণে বদলি তা নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়নি৷ এটা তো এরকমের সমন করা হল৷ আর এত সিনিয়র অফিসারকে এ ভাবে সমন করা যায়, জুনিয়র অফিসারদের এভাবে ডাকা হয়৷ এটা চূড়ান্ত অপমানজনক৷' বিধির প্রশ্নেও রাজ্যের পক্ষ নিয়েই প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও জহর সরকার বলেন, 'আইএএস ক্যাডার রুলস-এর যে ৬(১) বিধির কথা বলা হচ্ছে, তাতে স্পষ্ট বলা আছে এই ধরনের বদলির ক্ষেত্রে কেন্দ্রকে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে৷ কোথাও বলা নেই যে কেন্দ্র দাপট দেখিয়ে অফিসারকে নিয়ে যাবে৷ একথা ঠিক যে কেন্দ্র- রাজ্য সংঘাত হলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই গৃহীত হবে৷ কিন্তু এক্ষেত্রে তো সংঘাতের জায়গাতেই বিষয়টা যায়নি৷ রাজ্য তো নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছে, তার জবাব তো কেন্দ্রকে দিতে হবে৷'

    প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব অনিতা অগ্নিহোত্রীও মনে করেন, কেন্দ্রীয় সরকার যে নির্দেশ পাঠালো, তার কোনও প্রয়োজনই ছিল না৷ অনিতাদেবীর মতে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে শুধু আমলাদের মনোবলই ভাঙবে না, এই পদক্ষেপ আমলাদের পক্ষে অপমানজনকও৷

    গত ২৪ মে রাজ্যের আবেদনেই মুখ্যসচিব পদে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরও তিন মাস কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় সরকার৷ কারণ আজ, ৩১ মে তাঁর অবসর নেওয়ার কথা ছিল৷ এর চার দিনের মাথায় গত ২৮ মে কেন্দ্রের তরফে হঠাৎই চিঠি পাঠিয়ে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ সকাল দশটায় দিল্লিতে কাজে যোগ দিতে বলা হয়৷ আর এখানেই প্রশ্ন ওঠে, কেন কর্মজীবনের শেষ দিনে আলাপনবাবুকে দিল্লিতে বদলি করা হল৷ কারণ তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল রাজ্যের করোনা অতিমারি ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতিতে কাজ করার জন্য৷ যদিও বিতর্কে ইতি টানতে এ দিনই অবসর গ্রহণ করেন আলাপনবাবু৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: