corona virus btn
corona virus btn
Loading

কলকাতার পুজোর গন্ধে ওঁরাও মাতেন, বিদেশ থেকে ভিডিও কলে খোঁজ নিলেন শুরু হল কি দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি

কলকাতার পুজোর গন্ধে ওঁরাও মাতেন, বিদেশ থেকে ভিডিও কলে খোঁজ নিলেন শুরু হল কি দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি
Photo- File

কুমারটুলিতে পুজোর প্রস্তুতি কেমন ? এবারও পুজোয় কলকাতায় আসছেন ওঁরা। 

  • Share this:

#কলকাতা : উরুগুয়ে, পর্তুগাল, ফ্রান্স থেকে ভিডিও কল।  দুশ্চিন্তা ভরা মন জানতে চায়, কেমন আছো কুমারটুলি? রুকস্যাক পিঠে প্যান্ডেল হপিং,  হৈ-হুল্লোড়--  সেই স্মৃতি হাতড়ে তথ্য প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে ভিডিও কলে কুমারটুলির শিল্পীদের সাথে চ্যাট করলেন ফ্রান্সিসকো লোপেজ, গুস্তাভো জারবিনো, ম্যানুয়েলা  দিসিলভা, ক্যাথেরিন গেড়ি। এবার কলকাতায় কাটবে পুজোর কটা দিন। আশাবাদী মন বিদেশিদের।

তবে নেই  চেনা ব্যস্ততা। শুনশান অলি-গলি। আজ বড্ড বিষন্ন কুমারটুলি। কারণ করোনা। লকডাউননের আবহে দুশ্চিন্তার প্রহর গুনছেন শিল্পীরা। প্রতিমার বায়না নেই । বাতিল হচ্ছে বিদেশ থেকে আসা একের পর এক অর্ডার। মন খারাপের কুমারটুলিতে শিল্পীদের ভিডিও কলের মাধ্যমে মনোবল বাড়াচ্ছেন বিদেশি দর্শনার্থীরা । ফোনের ওপারে একদল পুজো পাগল বিদেশি ভিডিও কলের মাধ্যমে জানতে চাইছেন,  কেমন আছে কুমারটুলি?

উত্তর আমেরিকা ইউরোপের একাধিক দেশ থেকে ভিডিও বার্তায় আপ্লুত শিল্পীরা। পুজোর প্রস্তুতি চলছে কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছেন বিদেশীরা। বিশ্বায়নের হাত ধরে কলকাতার শারদ উৎসব পৌঁছে গেছে গোটা বিশ্বের আনাচে-কানাচে। প্যান্ডেল হপিং থেকে ভোগ খাওয়া। ম্যানুয়েলা ডি সিলভা, ক্যাথেরিন গেরির মত আরও অনেকেরই এখন মন পড়ে রয়েছে কলকাতায়। আড়াই মাস ধরে ঘরবন্দি। উৎসবের টানে প্রাণ ছটফট। আগামী পূজোর কলকাতার সঙ্গে মিশে যেতে চান বিদেশি দর্শনার্থীরাও।

শুধু পুজোর কটা দিনই নয়, কেমন চলছে কুমারটুলির ব্যস্ততা তা দেখতেও বিদেশ থেকে কলকাতার কুমারটুলিতে কয়েক মাস আগে থেকেই পা রাখতেন  অনেকেই। কিন্তু বর্তমানে লকডাউনের  কারণে দুধের স্বাদ এবার কিছুটা ঘোলেই মেটালেন বিদেশীরা। উৎসবের আঁচ পেতে ভিডিও কলের মাধ্যমেই ঘুরে ফেললেন কুমারটুলির অন্দরমহল। নিস্তব্ধ কুমারটুলির ছবি দেখে শিল্পীদের সঙ্গে  চোখে জল গুস্তাভো জারবিনো, ফ্রান্সিসকো লোপেজদেরও। তবুও ওঁদের  মন বলছে, মা দুর্গা সব বিপদ থেকে মুক্তি দেবে। ফের প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে কুমারটুলি। উৎসবে গা ভাসাবে সব্বাই। এবারও বিদেশি দর্শনার্থীরা পুজোর সময় কলকাতায় আসার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। তবে আশা আশঙ্কার দোলাচলে এখনও কুমারটুলির শিল্পীরা। তাঁদেরই একজন মিন্টু পালের কথায়,' কী যে হবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। অন্যান্যবার এই সময় আমরা  নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজে ডুবে থাকি। আর বর্তমানে সেভাবে প্রতিমার বায়নাও হয়নি। তবে যেভাবে বিদেশি দর্শনার্থীরা ভিডিও কলের মাধ্যমে আমাদের মনোবল চাঙ্গা করলেন তাতে আশার আলো দেখছেন মিন্টু পাল, চায়না পালের মত অনেকেই।  কুমারটুলি সঙ্গে বিদেশি দর্শনার্থীদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম জয়দীপ মুখোপাধ্যায় আর সুগুনা মুখোপাধ্যায়। গত দশ বছর যাবৎ কলকাতার শারোদৎসবকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে যাঁরা নিয়েছেন অগ্রণী ভূমিকা। সেই জয়দীপ - সুগুনারা মন খারাপের কুমারটুলির মৃৎশিল্পীদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যেই ভিডিও কলের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের বক্তব্য, কলকাতার পুজোর আনন্দটাই আলাদা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও বিদেশি দর্শনার্থীরা কলকাতার পুজোয় সামিল হতে প্রস্তুত হচ্ছেন ।করোনা আবহের মধ্যেও যাতে সেই আনন্দ মাটি না হয় সেই কারণেই কলকাতার সঙ্গে বিদেশের সেতুবন্ধনের কাজ করলাম'। লকআউট মানে জানত জীবন। কিন্তু লকডাউন? অনেকের সঙ্গেই কয়েকদিন আগে কুমারটুলির শিল্পীদেরও  প্রথম জানাশোনা। এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন লকডাউন কাকে বলে। করোনাকে হারাতে লকডাউন খুব প্রয়োজন। ভীষণ প্রয়োজন। আর কুমারটুলির মৃৎশিল্পীদের  জীবনকে টিকিয়ে রাখতে হলে দরকার হাতে কাজ। কেননা খিদে তো আর  লকডাউন বোঝেনা। নিজের এবং সংসারের  পেটের খিদের জ্বালা  মেটাতে ভিন রাজ্য থেকে অনেক শিল্পী কুমারটুলিতে এই সময় আশ্রয় নেন। অতএব খিদে মেটাতে হাতে চাই কাজ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই হাত কার্যত গুটিয়ে বসে রয়েছে কুমোরপাড়া। শুনশান মহল্লায় কাজ না থাকায় অনেকের পেটে ভাতও নেই। নিরুপায় হয়ে পেট চিপে দিন কাটছে অনেকেরই। আকাশে রোদ চড়া হচ্ছে। এক একটা দিন কেটে যায়। আবার আসছে একটা নতুন দিন। কিন্তু কোন দিন তাদের জীবন বদলাবে? উত্তরের অপেক্ষায় কুমারটুলি।   VENKATESWAR  LAHIRI

Published by: Debalina Datta
First published: May 15, 2020, 2:08 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर