কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

সোজা নীচে পড়েছে বাইক, দুর্ঘটনা এড়াতে এবার গার্ডেনরিচ ফ্লাইওভারে ফেন্সিং

সোজা নীচে পড়েছে বাইক, দুর্ঘটনা এড়াতে এবার গার্ডেনরিচ ফ্লাইওভারে ফেন্সিং

ইতিমধ্যেই উড়ালপুলের ওপরে একাধিক জায়গায় ফেন্সিং বসানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে।

  • Share this:

#কলকাতা: মা উড়ালপুলের ঘটনা থেকে শিক্ষা। এবার চিনা মাঞ্জা আটকাতে গার্ডেনরিচ উড়ালপুলের ওপরে ফেন্সিং দিচ্ছে কে এম ডি এ। ইতিমধ্যেই উড়ালপুলের ওপরে একাধিক জায়গায় ফেন্সিং বসানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে, মা উড়ালপুলের ওপর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে সেই ফেন্সিং দেওয়ার কাজ।

সূত্রের খবর পুজোর আগেই এই কাজ শেষ করার লক্ষ্য মাত্রা নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরে মা উড়ালপুলের উপরে চিনা মাঞ্জায় আরোহীদের আহত হওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে চার নম্বর ব্রিজ এবং তপসিয়ার কাছে এই দূর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। উড়ালপুল সংলগ্ন বাড়ি ও ফাঁকা জায়গা থেকে ঘুড়ি ওড়ানোর সময়ে তার মাঞ্জা সুতো গলায় লেগে ঘটেছে সবকটি দুর্ঘটনা। কিছুদিন আগেই মা উড়ালপুল দিয়ে যাওয়ার সময়ে মাঞ্জা সুতোয় জখম হন এক চিকিৎসক। গত বছর দূর্গা পুজোর আগে তপসিয়া মোড়ের কাছে একই রকম দুর্ঘটনায় হেলমেটের তলা দিয়ে গলা কেটে যায় এক বাইক আরোহীর।

ঠিক একই অভিযোগ আসতে শুরু করে পশ্চিম কলকাতার সাথে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম যোগাযোগের মাধ্যম গার্ডেনরিচ উড়ালপুলের ওপর। গত কয়েক মাসে একাধিক ঘটনা ঘটেছে যেখানে এই গার্ডেনরিচ উড়ালপুলের ওপর ঘুড়ির সুতোয় দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তবে এই উড়ালপুলে সবচেয়ে বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে ফেন্সিং করা, তার কারণ নিয়ম না মেনে গতি বাড়িয়ে বাইকের অবাধ যাতায়াত।  দুর্ঘটনা ঠেকাতে গিয়ে পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। উড়ালপুল থেকে নীচে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বারবার এমন ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ।

কে এম ডি এ ইঞ্জিনিয়ার'রা জানিয়েছেন, উড়ালপুলের উপরে অতিরিক্ত কোনও ওজন চাপানো যাবে না। এই বিষয় মাথায় রেখেই উড়ালপুলের দু'ধারে জাল বসানোর প্রস্তাব পাঠানো হয় কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের কাছে। এর পর কয়েক দফা চলে যৌথ পরিদর্শন। তার পরেই সিদ্ধান্ত  নেওয়া হয়, গার্ডেনরীচ উড়ালপুলের ওপর ফেন্সিং দেওয়া হবে। কেএমডিএ এবং কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের দাবি,  উড়ালপুলের উপরে উঁচু করে ওই জাল লাগানো হলে কাটা ঘুড়ির মাঞ্জা দেওয়া সুতো ছোট গাড়ি কিংবা মোটরবাইক আরোহীদের গায়ে এসে পড়ার সম্ভাবনা কমবে। এ ছাড়াও ওই জালে সুতো আটকালে যাতে তা সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়ে যায়, সেই ব্যবস্থা রাখার কথাও জানিয়েছে পুলিশ ও কে এম ডি এ।

যে উচ্চতার ফেন্সিং থাকছে তা টপকে নীচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই একেবারেই।  লালবাজার সূত্রের খবর, চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষ দিকে উড়ালপুলের রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা কেএমডিএ-কে এই ফেন্সিং দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ। উড়ালপুলের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশে এই ফেন্সিং দেওয়া হবে। যা   কন্টেনার করপোরেশন এলাকা। কোল ডিপো, ইন্ডিয়ান অয়েল ডিপো সহ একাধিক জায়গায় থাকছে। সাড়ে সাত ফুট উঁচু করে এই জাল লাগানো হচ্ছে। এই উচ্চতা রাখা হয়েছে যাতে মাঞ্জা দেওয়া ঘুড়ি উড়ালপুলের উপরে উড়ে এলেও তা ওই জালে আটকে যেতে পারে।

একই সঙ্গে উড়ালপুলের ওপরে এখন কিয়স্ক তৈরি করা হবে বলে কে এম ডি এ সূত্রে খবর। সেখানে সারাক্ষণ পুলিশি নজরদারি থাকবে। এমনকি ব্রিজের দু’ধারের এলাকায় প্রচার অবধি চালিয়েছে স্থানীয় থানা। জোরে বাইক চালানো ও চিনা মাঞ্জার বিপদের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে একাধিক পোস্টারও।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একই সঙ্গে চলছে লিফলেট বিলি এবং মাইকে প্রচারও। তবে পাকাপাকি ভাবে সমস্যা মেটাতে এবার তাই ফেন্সিং দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এই উড়ালপুলে একাধিক বিপদজনক বাঁক রয়েছে। ফলে গাড়ির গতি ৩০ কিমি প্রতি ঘন্টায় বেঁধে রাখার জন্য সাইনেজ দেওয়া হয়েছে। তবুও বাইকের গতি নিয়ন্ত্রিত হয় না। তবে শুধু ফেন্সিং নয়, একই সাথে উড়ালপুলের ওপর বসছে নয়া ক্যামেরা। যার মাধ্যমে নজরদারি চালাতে পারবে কলকাতা পুলিশ।

Published by: Arka Deb
First published: September 24, 2020, 11:03 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर