Home /News /kolkata /
বজ্রপাতের ভয়ে কাঁপছে শহর, কলকাতায় কেন এত বজ্রপাতের দাপট ? পড়ুন...

বজ্রপাতের ভয়ে কাঁপছে শহর, কলকাতায় কেন এত বজ্রপাতের দাপট ? পড়ুন...

নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব চিত্র

অত্রি পেশায় অনলাইন খাবার ডেলিভারি বয় ৷ কাজের তাগিদে বাইকে চেপে যাদবপুর থেকে বালিগঞ্জ যাচ্ছিলেন ৷ সেই সময়ই আচমকাই তার সামনে বাজ পড়তেই ঘাবড়ে যান তিনি ৷

  • Share this:

    #কলকাতা: অত্রি পেশায় অনলাইন খাবার ডেলিভারি বয় ৷ কাজের তাগিদে বাইকে চেপে যাদবপুর থেকে বালিগঞ্জ যাচ্ছিলেন ৷ সেই সময়ই আচমকাই তার সামনে বাজ পড়তেই ঘাবড়ে যান তিনি ৷ বাইক রাস্তায় রেখেই রাস্তার ধারের দোকানে নিরাপদে আশ্রয় নেন তিনি ৷ শুধুমাত্র অত্রিই নয় ৷ একইরকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন আজ আরও অনেকে ৷ সকলের মধ্যেই বিস্ময় ৷ শহরে বজ্রপাতের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে ৷ আজ জেলায় ৬জনের মৃত্যু হয়েছে বাজের দাপটে ৷ গত ১লা জুন থেকে ১২জুন অবধি রাজ্যে ৩১জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ তবে, শহর কলকাতায় এখনও হতাহতের কোনও খবর নেই ৷

    আরও পড়ুন:  বর্ষার শুরুর দিনেই ডুবে গেল কলকাতা

    সমীক্ষা বলছে, বজ্রপাত, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক যেসমস্ত কারণে মৃত্যু ঘটে ৷ তার মধ্যে বজ্রপাতের জেরে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ৷ ভুগোলের ভাষায় যদি বলা হয়, তাহলে মেঘে-মেঘে সংঘর্ষেই বাজ পড়ে ৷ কিন্তু বাজের এত তীব্রতা কেন ? কেউ কেউ এর পিছনে দূষণের তত্ত্ব খাঁড়া করেছেন ৷ দিনকে দিন শহরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাইরাইজিং বিল্ডিং ৷ তাঁর জন্যই কি এই বিদ্যুৎ ঝলকানির দাপট ?

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সের এক বিজ্ঞানীর মতে, ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে বায়ূমণ্ডলের নীচের দিকের মেঘে নাইট্রাস অক্সাইড এবং ওজোন স্তরের মাত্রাতিরিক্ত তারতম্য ঘটছে ৷ কলকাতার মত শহরে এই দূষণের মাত্রা এত বেশী যে মূলত প্রাক বর্ষার বৃষ্টিতে যখন বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে, সেই সময়ে মেঘে নেগেটিভ মাটির পজিটিভকে ছোঁয়ার জন্য খুব দ্রুত নীচে নেমে আসে ৷ এটাই মূলত শহরে বেশি মাত্রায় বজ্রপাতের কারণ ৷ তবে, গ্রামে এত বেশী হারে মৃত্যুর কারণ হিসেবে তাঁর মত, মূলত সচেতনতার অভাব ৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গ্রামে-গঞ্জের মানুষেরা সেই সময় মাঠে ঘাটে কাজে ব্যস্ত থাকেন ৷ সেই কারণেই শহরের তুলনায় গ্রামে বাজ পড়ে মৃত্যুর সংখ্যাটা তুলনায় বেশি ৷

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড: শীলের মতে, প্রাক বর্ষায় ভূপৃষ্ঠে প্রচণ্ড তাপ বেড়ে যায় এবং সেই তাপ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বাতাসে মিশে যেতে চায় ৷ কলকাতা যেহেতু সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি শহর তাই এখানে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে বেশি ৷ ফলে যখন এই তাপ বিকিরণের মাত্রায় বৈষম্য ঘটে তখন ভূপৃষ্ঠের কাছে যে মেঘ তার মধ্যে একটি নেগেটিভ ইলেক্ট্রক্যাল ওয়েভের জন্ম হয় ৷ ফলে মেঘের উপরের স্তরের বজ্রপাত আমরা যেমন আকাশে দেখি ৷ তেমন নীচের স্তরের আলোর ঝলকানি আমাদের কাছাকাছি এসে পড়ে ৷ তবে, আপনি যদি কাজের দিন রাস্তায় থাকেন তাহলে নিরাপদে থাকার জন্য খোলা জায়গায় না থেকে বাসে বা গাড়িতে থাকুন ৷ অথবা, কোনও নির্মীয়মান বিল্ডিংয়ের ভিতরে থাকার চেষ্টা করুন ৷

    First published:

    Tags: Heavy thunder storm, Kolkata, Thunderstorm

    পরবর্তী খবর